ঈদযাত্রায় ঝুঁকিপূর্ণ ৪ এলাকা, নিয়ন্ত্রণে ৬৯ মোবাইল কোর্ট

ঈদযাত্রায় ঝুঁকিপূর্ণ ৪ এলাকা, নিয়ন্ত্রণে ৬৯ মোবাইল কোর্ট

উত্তরদক্ষিণ। সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, আপডেট ১৯:০৫

আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে গাজীপুর, আবদুল্লাহপুর, বাইপাইল ও চন্দ্রা এলাকাকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে সরকার। এসব এলাকায় অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, অস্থায়ী কাউন্টার ও অনিয়মিত পরিবহন নিয়ন্ত্রণে এবার ৬৯টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন সড়ক, রেল ও নৌ পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

সোমবার বিকেলে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ আয়োজিত ঈদের প্রস্তুতিমূলক এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, গত ঈদে সবচেয়ে বড় চাপ তৈরি হয়েছিল পোশাক খাতের (গার্মেন্টস) শ্রমিকদের একই দিনে বাড়ি ফেরাকে কেন্দ্র করে। বিজিএমইএর সঙ্গে তিন ধাপে ছুটি দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হলেও বাস্তবে তা কার্যকর করা যায়নি। ফলে গাজীপুর ও আশপাশের এলাকায় একদিনেই ১০ থেকে ১৫ লাখ মানুষ ঢাকা ছাড়ার চেষ্টা করেন। অনেক যাত্রী বাস কাউন্টারে না গিয়ে সরাসরি সড়কে নেমে যানবাহনে ওঠার চেষ্টা করায় তীব্র যানজট, দুর্ঘটনার ঝুঁকি এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের মতো বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়।

তিনি আরও বলেন, এবার বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনাও ঈদযাত্রার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। বৃষ্টি হলে যানজট বাড়ে, পুলিশের তৎপরতা ব্যাহত হয় এবং সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা কঠিন হয়ে পড়ে। এর সঙ্গে যুক্ত হবে কোরবানির পশু পরিবহনের বাড়তি চাপ। গত ঈদেও মহাসড়কে ট্রাক, লরি ও কাভার্ডভ্যান নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হলেও তা পুরোপুরি সফল হয়নি।

তবে এবার পরিস্থিতি মোকাবিলায় গাজীপুর এলাকায় বিআরটিসির পাশাপাশি বেসরকারি বাস রাখারও পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। গতবার ২৪টি মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হলেও এবার তা বাড়িয়ে ৬৯টিতে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, আবদুল্লাহপুর, বাইপাইল, গাজীপুর, চন্দ্রা এলাকায় অস্থায়ী কাউন্টার ও অনিয়মিত পরিবহন কার্যক্রম কঠোর নজরদারিতে রাখা হবে। সেখানে স্থায়ীভাবে মোবাইল কোর্ট, পুলিশি নজরদারি এবং পরিবহন মালিকদের প্রতিনিধি রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এবার ফেরিতে বাস ওঠানোর ক্ষেত্রে নতুন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, যাত্রীদের বাস থেকে নামিয়ে ফেরিতে ওঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি ফেরিতে ওঠার আগে ব্যারিকেড বসানো হচ্ছে, যাতে ফেরি পুরোপুরি প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত কোনো যানবাহন এগোতে না পারে। ফেরির পন্টুনেও অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading