মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবায় বড় পরিবর্তন আনছে সরকার

মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবায় বড় পরিবর্তন আনছে সরকার

উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, আপডেট ১২:৩৭

দেশের মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে বড় ধরনের অবকাঠামোগত পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে দেশের ২৯টি জেলায় বিদ্যমান মা ও শিশু কল্যাণকেন্দ্রগুলোকে পূর্ণাঙ্গ ৩০ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা যায়, আগামীকাল বুধবার (১৩ মে) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১ হাজার ৩২৯ কোটি টাকার এ প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর এবং এর মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় থাকা মা ও শিশু কল্যাণকেন্দ্রগুলোকে আধুনিক হাসপাতাল কাঠামোয় রূপান্তর করা হবে। এতে অন্তঃসত্ত্বা নারী, প্রসূতি ও নবজাতকদের জন্য জরুরি চিকিৎসা, প্রসবকালীন সেবা এবং জটিল রোগ ব্যবস্থাপনার সুযোগ বাড়বে।

প্রাথমিক পর্যায়ে ২৯টি জেলায় এ কার্যক্রম শুরু হবে। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বছরে প্রায় ৫ থেকে ১০ লাখ মা ও শিশু সরাসরি স্বাস্থ্যসেবা পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় থাকা জেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে- মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী, কিশোরগঞ্জ, টাঙ্গাইল, গোপালগঞ্জ, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কক্সবাজার, লক্ষ্মীপুর, রাঙামাটি, রাজশাহী, নওগাঁ, বগুড়া, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, খুলনা, যশোর, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, বাগেরহাট, বরিশাল, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, বরগুনা, পিরোজপুর, সিলেট, হবিগঞ্জ, রংপুর, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, ময়মনসিংহ, জামালপুর ও শেরপুর।

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট ১০৬টি মা ও শিশু কল্যাণকেন্দ্র থাকলেও বেশিরভাগই পুরনো ভবন ও অবকাঠামো নিয়ে চলছে। অনেক কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা যন্ত্রপাতি নেই, কোথাও আবার জনবল সংকট প্রকট। ফলে কাঙ্ক্ষিত মানের সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

নতুন প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি কেন্দ্রকে আধুনিক হাসপাতাল হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এতে থাকবে ৩০ শয্যার ইনডোর সেবা ব্যবস্থা।
অপারেশন থিয়েটার ও প্রসূতি সার্জারি সুবিধা, নবজাতক পরিচর্যা ইউনিট, আধুনিক ডায়াগনস্টিক ও জরুরি চিকিৎসা সুবিধা, পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো উন্নয়ন। প্রকল্পের আওতায় ভবনগুলো পুনর্নির্মাণ করে বহুতল কাঠামোতে উন্নীত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশন বলছে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হার কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে জেলা পর্যায়েই জটিল প্রসূতি সেবা পাওয়া সম্ভব হবে, ফলে বড় শহরের ওপর চাপও কমবে।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading