এভারেস্টে চীন-আমেরিকা ড্রোন যুদ্ধ, চাপে নেপাল

এভারেস্টে চীন-আমেরিকা ড্রোন যুদ্ধ, চাপে নেপাল

উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬, আপডেট ১৫:০৭

বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বত এভারেস্টকে ঘিরে এবার নতুন প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতায় জড়িয়েছে আমেরিকা ও চীন। ড্রোন প্রযুক্তির এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে পড়ে কূটনৈতিক চাপে পড়েছে নেপাল।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১ মে আমেরিকার একটি প্রতিনিধি দল, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গরের নেতৃত্বে, হেলিকপ্টারে এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে যায়। তাদের উদ্দেশ্য ছিল আমেরিকায় তৈরি আল্টা এক্স জেন ২ ড্রোনের সক্ষমতা পরীক্ষা করা।

এই ড্রোন দিয়ে অক্সিজেন সিলিন্ডার, মই, খাবার ও পর্বতারোহণের সরঞ্জাম বেস ক্যাম্প থেকে ক্যাম্প-১ পর্যন্ত বহন করার পরিকল্পনা ছিল। তবে নেপালের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিরাপত্তা ও ড্রোন পরিচালনা সংক্রান্ত কারণে আমেরিকাকে অনুমতি দেয়নি। ফলে ড্রোনটি পরীক্ষাই করা যায়নি।

অন্যদিকে, চীনের তৈরি ডিজেআই ফ্লাইকার্ট ড্রোন ২০২৪ সাল থেকেই এভারেস্টে সরঞ্জাম পরিবহনের কাজ করছে। চলতি বছর চীন তাদের সর্বাধুনিক ফ্লাইকার্ট ১০০ ড্রোন নেপালের এয়ারলিফট টেকনোলজি কোম্পানিকে সরবরাহ করেছে।

ড্রোন অপারেটরদের দাবি, এই ড্রোন কয়েক মিনিটেই ক্যাম্প-১ এ প্রায় ৪৫ কেজি মালামাল পৌঁছে দিতে পারে। একই কাজ করতে শেরপাদের ছয় থেকে সাত ঘণ্টা সময় লাগে। ড্রোনগুলো আবার ফেরার পথে আবর্জনাও নিচে নিয়ে আসে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এভারেস্টকে ঘিরে আমেরিকা ও চীনের এই প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা নেপালকে জটিল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ফেলেছে। তারা মনে করছেন, দুই পরাশক্তিই প্রযুক্তি ও সহায়তার নামে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করতে চাইছে।

এদিকে আমেরিকার ড্রোন পরীক্ষার অনুমতি বাতিলের পর নেপাল সাময়িকভাবে চীনা ড্রোনের অনুমতিও স্থগিত করে। পরে ৯ মে সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয় এবং চীনা ড্রোন আবার কার্যক্রম শুরু করে।

নেপালের নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, উন্নত ড্রোন প্রযুক্তি নজরদারি বা সামরিক উদ্দেশ্যেও ব্যবহার হতে পারে। তাই তারা বিদেশি প্রযুক্তি ব্যবহারে আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

আমেরিকার দূত সার্জিও গর বলেন, আমেরিকা উদ্ভাবনে এগিয়ে। আমরা নেপালের স্থানীয় কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী।

অন্যদিকে, চীনা বিশ্লেষক গাও লিয়াং দাবি করেছেন, এভারেস্ট অঞ্চলে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা শুরু করেছে মূলত আমেরিকা, আর চীন শুধু প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এভারেস্টের ড্রোন প্রতিযোগিতা ভবিষ্যতে হিমালয় অঞ্চলে আরও বড় ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণ হতে পারে।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading