‘মিনাব ১৬৮’ বিমানে দিল্লিতে পৌঁছালেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

‘মিনাব ১৬৮’ বিমানে দিল্লিতে পৌঁছালেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬, আপডেট ১৬:৩৫

তিন দিনের সরকারি সফরে নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর তেরানের পক্ষ থেকে ইন্ডিয়ায় এটি উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক সফর।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে যোগ দিতে ইন্ডিয়া সফরে পৌঁছেছেন আব্বাস আরাঘচি। তবে এই সফরে ইন্ডিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে আলোচনা ছাড়াও আমেরিকা-ইসরাইল ও ইরান যুদ্ধ ঘিরে চলমান সংকট নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

ইন্ডিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক বার্তায় আরাঘচিকে স্বাগত জানান।

এক্সে দেয়া এক পোস্টে ইন্ডিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে যোগ দিতে নয়াদিল্লিতে পৌঁছানো ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচিকে উষ্ণ অভ্যর্থনা।’

দিল্লিতে অবতরণ করা আরাঘচির বহনকারী উড়োজাহাজটির নাম ছিল ‘মিনাব ১৬৮’। যা বিশেষ প্রতীকী গুরুত্ব বহন করছে। যুদ্ধ শুরুর সময় ইরানের মিনাব শহরের একটি স্কুলে আমেরিকার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ১৬৮ কন্যাশিশুর স্মরণে এই নাম রাখা হয়েছে।

আরাঘচির আলোচ্যসূচিতে কী থাকছে?
হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার জেরে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আরাঘচি ও জয়শঙ্করের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে গুরুত্ব পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, নয়াদিল্লি হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে চলাচলরত বাকি বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরতে পারে।

এছাড়া, আব্বাস আরাঘচিসহ ব্রিকস সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৃহস্পতিবার (১৪ মে) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সংকট এবং এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে আলোচনার প্রধান বিষয় হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইরান যা বলছে
ব্রিকস বৈঠকে অংশ নিতে বর্তমানে নয়াদিল্লিতে অবস্থানরত ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি বলেছেন, ব্রিকসের মতো প্ল্যাটফর্মে ইরানের সক্রিয় উপস্থিতি হলো প্রকৃত বহুপাক্ষিকতা জোরদার করা, ন্যায্য সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আরও ন্যায়ভিত্তিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত।

এক্সে দেয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘নয়াদিল্লিতে ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক গ্লোবাল সাউথের ভবিষ্যৎ সহযোগিতা, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক শাসনব্যবস্থার সংস্কার, স্বাধীন বাণিজ্য সম্প্রসারণ, আর্থিক ও ব্যাংকিং সম্পর্ক জোরদার এবং বৈষম্যমূলক ও একতরফা ব্যবস্থার ওপর দেশগুলোর নির্ভরতা কমানোর বিষয়ে আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হতে পারে।’

গারিবাবাদি আরও বলেন, ভূরাজনৈতিক অবস্থান, জ্বালানি, ট্রানজিট, বিজ্ঞান ও মানবসম্পদের সক্ষমতার কারণে ইরান ব্রিকসের ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, আঞ্চলিক সংযোগ এবং স্বাধীন দেশগুলোর কণ্ঠস্বর জোরদারের এজেন্ডায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম।

তিনি আরও বলেন, এই পথে আমেরিকার একতরফা জবরদস্তিমূলক পদক্ষেপ এবং এর অবৈধ ও উন্নয়নবিরোধী প্রভাবের বিরোধিতা করা অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার এবং উন্নয়নের অধিকার রক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading