ঢেঁড়স ছাড়া সব সবজি ৮০ থেকে ১০০ টাকার ঘরে
উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬, আপডেট ১২:৪৭
বাজারে সব ধরনের সবজির দাম বাড়তি যাচ্ছে। একশো ছোঁয়নি এমন সবজি এখন হাতে গোনা কয়েকটি। এর মধ্যে রয়েছে ঢেঁড়স; যা বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি দরে। বাকি সবজির মধ্যে মধ্যে ২ বা ৩ রকমের সবজির দাম ৮০ টাকার ঘরে রয়েছে। টানা মূল্যবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতারা।
শুক্রবার (১৫ মে) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে সবজির চড়া দামের এমন চিত্র দেখা গেছে। আজকের বাজারে প্রতি কেজি বেগুন (লম্বা) ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, গোল বেগুন প্রতি কেজি ১২০ টাকা, শসা প্রতি কেজি ১০০ টাকা, করোলা প্রতি কেজি ১০০ টাকা, ঝিঙ্গা প্রতি কেজি ১০০ টাকা, বরবটি প্রতি কেজি ৮০ টাকা, কচুর লতি প্রতি কেজি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া পেঁপে প্রতি কেজি ১০০ টাকা, পটোল প্রতি ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা প্রতি কেজি ১০০ টাকা, কাঁকরোল প্রতি কেজি ১২০ টাকা, ঢেঁড়স প্রতি কেজি ৬০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ১০০ টাকা, ধন্দুল প্রতি কেজি ১০০ টাকা, কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ১৬০ টাকা, গাজর প্রতি কেজি ১২০ টাকা এবং জালি প্রতি পিস ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাজধানীর রামপুরা বাজারে বাজার করতে এসেছেন বেসরকারি চাকরিজীবী হাফিজ উদ্দিন। সবজির দামের বিষয়ে তিনি বলেন, আজকে বাজারে দেখলাম অতিরিক্ত দামে সব সবজি বিক্রি হচ্ছে। বাজারে ১০০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই, দুই এক রকমের সবজি তাও ৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। মাছ-মাংস মুরগির দাম তো বেশিই, এর মধ্যে যদি সবজিরও দাম এত বেশি হয়, তাহলে আমাদের মতো মানুষ কী খাবে? কল্পনা করা যায়, একটি সবজির আইটেমের কেজি ১০০ টাকা! আগে ১ কেজি করে সবজি কিনলেও, এখন কিনতেছি আধা কেজি বা আড়াইশো গ্রাম। বিক্রেতারা যে যার মতো করে দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছে, সবজির বাজারে কোন মনিটরিং কখনো দেখলাম না। যদি মনিটরিং হতো তাহলে অন্তত যে যার মতো করে এতটা দাম বাড়িয়ে রাখতে পারত না।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আগে ৫০০ টাকায় যে বাজার হতো এখন সেখানে ৭০০ টাকাও যথেষ্ট হচ্ছে না। প্রতিদিনই কোনো না কোনো পণ্যের দাম বাড়ছে। এতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।’
ব্যবসায়ীদের দাবি, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর সবজি পরিবহনে ট্রাক ভাড়া কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তার সঙ্গে টানা বৃষ্টির কারণে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বাজারে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের অভিযোগ, বাজার তদারকি দুর্বল হওয়ায় অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিয়ে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন।
ইউডি/কেএস

