চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদের পুনর্বহাল ও ক্ষতিপূরণের দাবি
উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬, আপডেট ১২:৫৮
চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদের চাকরিতে পুনর্বহাল, ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং নিরপরাধ কারাবন্দিদের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বিডিআর কল্যাণ পরিষদ।
শুক্রবার (১৫ মে) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এ মানববন্ধনে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা সাবেক বিডিআর সদস্য, তাদের পরিবার ও সংগঠনের নেতাকর্মীরা এ দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পর শুধু পিলখানার ভেতরে নয়, দেশের বিভিন্ন ইউনিটেও হাজার হাজার বিডিআর সদস্যকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। ফিলখানার ভেতরে ৫টি ইউনিট এবং বাইরে ৪৯টি ইউনিটসহ মোট ৫৪টি স্থাপনায় অসংখ্য সদস্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কিন্তু দীর্ঘ ১৭ বছরেও তাদের পুনর্বাসন বা ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়নি।
বিডিআর কল্যাণ পরিষদের নেতারা বলেন, গত ৯ আগস্ট ২০২৪ সাল থেকে তারা দেশের বিভিন্ন জেলায় আন্দোলন, মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদানসহ নানা কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করে আসছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা কোনো কার্যকর আশ্বাস পাননি। তাই বাধ্য হয়ে সারাদেশের ক্ষতিগ্রস্ত সদস্যরা ঢাকায় এসে মানববন্ধনে অংশ নিয়েছেন।
মানববন্ধনে বিডিআর কল্যাণ পরিষদের সভাপতি ফয়জুল আলম বলেন, আমরা মজলুম ও ষড়যন্ত্রের শিকার। আমাদের পরিবারগুলো দীর্ঘদিন ধরে কষ্টের মধ্যে জীবনযাপন করছে। অবিলম্বে চাকরিচ্যুত সদস্যদের চাকরিতে পুনর্বহাল, ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং নিরপরাধ কারাবন্দিদের মুক্তি দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, তৎকালীন সরকারের সময় যেভাবে বিডিআর সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার হওয়া প্রয়োজন। আমরা আশা করেছিলাম নতুন সরকার আমাদের বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।
বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পূর্বের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তিনি জীবিত থাকলে বিডিআর সদস্যদের ন্যায়বিচারের উদ্যোগ নিতেন। একই সঙ্গে তারা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত বিষয়টি সমাধানে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী জুলাইয়ের মধ্যে দাবি আদায় না হলে সারাদেশের ক্ষতিগ্রস্ত বিডিআর সদস্যদের নিয়ে আবারও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। তবে তারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং সরকারকে দ্রুত ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
ইউডি/কেএস

