ইন্ডিয়া থেকে আমদানি বাড়ায় হিলিতে দাম কমেছে জিরার

ইন্ডিয়া থেকে আমদানি বাড়ায় হিলিতে দাম কমেছে জিরার

উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, আপডেট ১২:৩০

পবিত্র ঈদুল আজহা ঘনিয়ে আসতেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মসলা জাতীয় পণ্যের বাজারে বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়েছে। তবে প্রতি বছরের মতো এবার কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে মসলার দাম বাড়েনি। বরং দিনাজপুরের হিলি বাজারে জিরার দামে দেখা গেছে স্বস্তির চিত্র। ইন্ডিয়া থেকে আমদানি স্বাভাবিক থাকায় বাজারে বেড়েছে সরবরাহ, আর সেই প্রভাবেই কমেছে জিরার দাম। বর্তমানে হিলি বাজারে প্রতি কেজি জিরা বিক্রি হচ্ছে ৫৪৫ টাকা দরে।

রবিবার (১৭ মে) সকালে হিলি বাজারের বিভিন্ন মসলা দোকান দেখা যায়, দেশের নানা জেলা থেকে পাইকারি ও খুচরা ক্রেতারা জিরাসহ বিভিন্ন মসলা কিনতে ভিড় করছেন। ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত বছরের তুলনায় এবার জিরার দাম কেজিতে প্রায় ১০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। এতে যেমন স্বস্তি পেয়েছেন সাধারণ ক্রেতারা, তেমনি বিক্রিও বেড়েছে ব্যবসায়ীদের।

বাজার সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের কোরবানির ঈদে প্রতি কেজি জিরা বিক্রি হয়েছিল ৬৫০ থেকে ৬৬০ টাকা দরে। পরে রোজার ঈদেও দাম ছিল ৬৩০ টাকার আশেপাশে। কিন্তু বর্তমানে সেই জিরাই বিক্রি হচ্ছে ৫৪৫ টাকায়। দাম কম থাকায় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতারা হিলি বাজারমুখী হচ্ছেন।

রাজশাহী থেকে মসলা কিনতে আসা ক্রেতা ফাহিম হাসান বলেন, হিলি দেশের অন্যতম বড় মসলার বাজার। এখানে অন্য জায়গার তুলনায় কম দামে ভালো মানের মসলা পাওয়া যায়। সামনে কোরবানির ঈদ, তাই পরিবারের প্রয়োজনীয় মসলা কিনতে এসেছি। জিরার দাম গত বছরের তুলনায় অনেক কম, এতে আমাদের মতো সাধারণ ক্রেতারা কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছি।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ক্রেতা আনোয়ার হোসেন বলেন, কয়েক বছর আগে ২৫০ টাকায় জিরা কিনেছি। এখন ৫৪৫ টাকা দিয়েও কিনতে হচ্ছে। তবে বাজারে আগের তুলনায় দাম কিছুটা কমেছে, সেটাই স্বস্তির বিষয়। যদি দাম আরেকটু কমে তাহলে সাধারণ মানুষের জন্য আরও ভালো হবে।

হিলি বাজারের রকমারি মসলা ঘরের ব্যবসায়ী গোলাম মর্তুজা সিফাত বলেন, গত দুই ঈদের তুলনায় এবার প্রায় সব ধরনের মসলার দাম কম রয়েছে। বিশেষ করে জিরার দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। গত বছর আমরা ৬৫০ থেকে ৬৬০ টাকা কেজি দরে জিরা বিক্রি করেছি। রমজানের সময়ও দাম ছিল বেশি। বর্তমানে ৫৪৫ টাকায় বিক্রি করছি।

তিনি আরও বলেন, চলতি বছরে ইন্ডিয়া থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে জিরার আমদানি বেড়েছে। আমদানি স্বাভাবিক থাকায় বাজারে সরবরাহও ভালো রয়েছে। সরবরাহ বেশি থাকায় দাম কমেছে। যদি আমদানি এভাবেই অব্যাহত থাকে তাহলে আগামীতে দাম আরও কমতে পারে।

ব্যবসায়ীরা জানান, শুধু জিরা নয়, এলাচ, দারুচিনি, লবঙ্গ ও গোলমরিচসহ অন্যান্য মসলার বাজারেও কিছুটা স্থিতিশীলতা এসেছে। ফলে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে বাড়তি খরচের চাপের মধ্যেও কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে সাধারণ মানুষের মাঝে।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading