প্যাকেজের নামে মোবাইল অপারেটরদের অর্থ হরণ নজিরবিহীন: ক্যাব সভাপতি

প্যাকেজের নামে মোবাইল অপারেটরদের অর্থ হরণ নজিরবিহীন: ক্যাব সভাপতি

উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, আপডেট ১৫:৫৬

দেশের মোবাইল অপারেটরগুলো ডেটা ও ভয়েস প্যাকেজের নামে সাধারণ গ্রাহকদের কাছ থেকে নজিরবিহীনভাবে অর্থ হরণ করছে বলে অভিযোগ করেছেন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান।

রবিবার (১৭ মে) বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

ক্যাব সভাপতি অভিযোগ করেন, আমি যখন ভোক্তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ছিলাম, তখন গ্রাহকদের অভিযোগ নিয়ে মোবাইল অপারেটরদের বিরুদ্ধে অনেক মামলা করেছিলাম। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তারা উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের সব কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। ডিজিটাল জীবনযাত্রা যেমন আমাদের কাজ সহজ করেছে, তেমনি সমাজ থেকে দূরেও সরিয়ে দিয়েছে। সব নাগরিকের ওপর নজরদারি করা সম্ভব হলে দেশে অনলাইন জুয়া কেন বন্ধ করা যাচ্ছে না, তা বোধগম্য নয়।

তিনি বলেন, গ্রাহকের ১৮০ টাকা খরচের মধ্যে ১০০ টাকাই সরকার ভ্যাট হিসেবে আদায় করে। এই ভ্যাটের অর্থ সরকার ও কমিশন কোথায় ব্যয় করে, তা জানার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের রয়েছে।

আলোচনা সভায় বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের সাবেক পরিচালক খালিদ বলেন, দেশের টেলিকম সেক্টরে প্রতিযোগিতা আইনের কোনো ব্যবহার হচ্ছে না। মাত্র একটি বেসরকারি অপারেটরকে যেভাবে একচেটিয়া সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, তাতে রাষ্ট্রীয় অপারেটরের পাশাপাশি অন্য অপারেটরগুলো খুব দ্রুত বন্ধ হয়ে যাবে।

এ সময় কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহীন হোসেন প্রিন্স বলেন, প্যাকেজের নামে অপারেটরদের নৈরাজ্য কোন ভাবেই চলতে দেওয়া যাবে না। একই সঙ্গে সরকারের ৫৬ শতাংশ ভ্যাট আদায় করাও উচিত হবে না। সাইবার নিরাপত্তা ও নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষায় সরকারকে আরও যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বাসদের সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, আমরা মুখে ডিজিটাল উন্নতির কথা বললেও নিজেরা উন্নত হতে পারছি না। আমরা যদি প্রযুক্তি-বান্ধব দক্ষ শ্রমিক বিদেশে পাঠাতে পারতাম, তবে দেশ আরও বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারত।

সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, বর্তমান বিশ্বে টেলিযোগাযোগ আর বিলাসিতা নয়, এটি এখন মৌলিক অধিকার ও ডিজিটাল লাইফলাইন। কিন্তু বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রাহকেরা এখনো নেটওয়ার্কের নিম্নমান, ধীরগতির ইন্টারনেট, মূল্য বৈষম্য, অযৌক্তিক চার্জ এবং প্যাকেজ জটিলতার সম্মুখীন হচ্ছেন। একটি সংযুক্ত, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী ডিজিটাল ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

এ সময় টেলিকম খাতের সার্বিক উন্নয়নে সংগঠনের পক্ষ থেকে ৬টি সুনির্দিষ্ট সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে— নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ও নীতিমালার কঠোর প্রয়োগ, গ্রামীণ ও শহর অঞ্চলের বৈষম্য দূর করে শক্তিশালী অবকাঠামো ও দুর্যোগ-সহনশীল নেটওয়ার্ক তৈরি, লুকানো চার্জ বন্ধ করে সহজবোধ্য প্যাকেজ নির্ধারণ, দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তির মাধ্যমে গ্রাহক সুরক্ষা আইন বাস্তবায়ন, শিক্ষার্থী ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী ইন্টারনেট নিশ্চিত করা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে বিকল্প নেটওয়ার্কের ব্যবস্থা করা।

সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহিদা বেগমের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয়তাবাদী আইসিটি ফোরামের ভাইস প্রেসিডেন্ট সামিউল ইসলাম, বাংলাদেশ মোবাইল ফোন রিচার্জ ব্যবসায়ী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলু ও কেন্দ্রীয় সদস্য মাহফুজ।

ইউডি/কেএস

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading