তাইজুলের ব্রেকথ্রু! শেষ দিনে জয়ের জন্য বাংলাদেশের শিকার মাত্র ৩ উইকেট
উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, আপডেট ১৮:১৫
বাংলাদেশি বোলারদের দাপট এড়িয়ে কড়া প্রতিরোধ গড়েছিলেন মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আলী আঘা। দুজনে মিলে গড়েছিলেন শতক পেরোনো জুটি। ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা এই জুটিই টাইগারদের মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে ওঠেছিলো। ড্রয়ের চিন্তা পেরিয়ে কারও কারও মনে হয়তো উঁকি দিয়েছিলো হারের চিন্তাও। তবে চতুর্থ দিনের খেলা শেষ হতে যখন বাকি আর কয়েক ওভার তখনই কাঙ্ক্ষিত ব্রেক থ্রু এনে দিলেন তাইজুল ইসলাম। সালমানকে বোল্ড করে জুটি তো ভাঙলেনই, এরপর ফেরালেন হাসান আলীকেও। সব মিলিয়ে পাকিস্তানকে হারিয়ে সিরিজ জিতে নিতে আগামীকাল পঞ্চম দিনে বাংলাদেশের চাই আর ৩ উইকেট।
২ উইকেটে ১০১ রান নিয়ে দ্বিতীয় সেশনে খেলতে নামা পাকিস্তান মধ্যাহ্নবিরতির পর হারিয়েছে আরও ৩ উইকেট। এই উইকেটের মধ্যে আছেন বাবর আজম ও শান মাসুদের মত সেট হওয়া ব্যাটারও। প্রথম ইনিংসে ফিফটির দেখা পাওয়া বাবর দ্বিতীয় ইনিংসেও লম্বা ইনিংস খেলার পথেই ছিলেন। তবে লাঞ্চের পরই বাবরের সাজঘরে ফেরার পথ করে দেন তাওজুল ইসলাম।
তাইজুলের বলে উইকেটকিপার লিটন দাসের গ্লাভসবন্দী হয়ে আউট হন বাবর। ফেরার আগে তিনি করেছেন ৪৭ রান। দলীয় ১৩৩ রানে বাবর ফিরলে ক্রিজে শান মাসুদের সঙ্গী হন সৌদ শাকিল। তবে এ জুটিও সফরকারীদের ভাগ্য ফেরাতে পারেনি।
ফিফটির দেখা পাওয়া পাকিস্তানি অধিনায়ক মাসুদ শাকিলকে নিয়ে জুটি গড়ার দিকেই এগোচ্ছিলেন। তবে নাহিদ রানার বলে কট বিহাইন্ড হয়ে ফিরেন শাকিল। সাজঘরের পথ ধরার আগে ২১ বলে ৬ রান করেন তিনি। এদিকে শাকিল ফেরার পর সঙ্গীহারা হয়ে মাসুদও আর বেশিক্ষণ ক্রিজে টিকতে পারেননি। দলীয় ১৬২ রানে তাইজুল ইসলামের বলে মাহমুদুল হাসান জয়ের তালুবন্দী হয়ে সাজঘরে ফিরতে হয় তাঁকে। আউট হওয়ার আগে তিনি করেছেন ৭১ রান। দ্বিতীয় সেশনে এই ৩ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে পাকিস্তান। ওদিকে প্রতিপক্ষের ৫ উইকেট নেওয়ার স্বস্তির পর জয়ের সুবাস নিয়েই চা বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।
চা বিরতির পরই প্রতিরোধের মুখে পড়ে বাংলাদেশের বোলাররা। সালমান-রিজওয়ানের এই প্রতিরোধ কোন ভাবেই ভাঙতে পারছিলেন না টাইগার বোলাররা। দুজনে মিলে বাংলাদেশি বোলারদের সামলানোর পাশাপাশি রান বাড়াচ্ছিলেন স্কোরবোর্ডে। ধীরে ধীরে এই জুটি ১০০ রানের মাইলফলক পেরিয়ে এগোতে থাকে। ব্যক্তিগত অর্ধশতকের দেখাও পান দুজনই।
তবে দিনের খেলা শেষ হওয়ার আগে কাঙ্ক্ষিত ব্রেক থ্রু এনে দেন তাইজুল। নতুন বলে বোলিংয়ে এসে দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে বোল্ড করেন সালমানকে। ৭১ রান করে সালমান ফিরলে ভাঙে রিজওয়ানের সঙ্গে তার ১৩৪ রানের জুটি। এই উইকেটই ম্যাচে ফিরিয়ে আনে টাইগারদের।
এর পরের ওভারে আবার বোলিংয়ে এসে ফের উইকেটের দেখা পান তাইজুল। বাংলাদেশি এই স্পিনারের প্রথম বলে সিঙ্গেল নিয়ে নতুন ব্যাটার হাসান আলিকে স্ট্রাইক দেন রিজওয়ান। তাইজুল করা পরের বল ডিফেন্ড করতে গিয়ে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন হাসান আলি। এরপর দিনের বাকি সময়টা রিজওয়ান কাটিয়ে দেন সাজিদ খানকে সঙ্গে নিয়ে। পাকিস্তান চতুর্থ দিনের খেলা শেষ করেছে ৭ উইকেটে ৩১৬ রানে। শেষ দিনে জিততে ১২১ রান চাই সফরকারীদের, অন্যদিকে বাংলাদেশের চাই আর ৩ উইকেট।
ইউডি/রেজা

