ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর মাথার দাম ৬ কোটি ডলার ঘোষণার পরিকল্পনা ইরানের
উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, আপডেট ১৮:৫৫
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মাথার দাম (পুরস্কার) নির্ধারণের বিষয়ে আলোচনা করছে ইরান। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানে আমেরিকা ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। এই হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে মার্কিন ও ইসরাইলি নেতাদের হত্যার জন্য পুরস্কারের ঘোষণা দিয়ে একটি বিল পাসের প্রক্রিয়া শুরু করেছে ইরানের পার্লামেন্ট।
প্রতিবেদন মতে, বিলটি পাস হলে ট্রাম্প কিংবা নেতানিয়াহুকে হত্যাকারী যেকোন ব্যক্তি বা সংস্থাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ৫ কোটি ইউরো (৪ কোটি ৩৫ লাখ পাউন্ড বা ৫ কোটি ৮২ লাখ মার্কিন ডলার) পুরস্কার দেওয়া হবে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৭১৪ কোটি টাকা।
ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আজিজি জানিয়েছেন, তার কমিশন ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা পদক্ষেপ’ শীর্ষক একটি বিলের খসড়া তৈরি করছে।
আমেরিকা–ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে এখন একটা যুদ্ধবিরতি চলছে। এর মধ্যেই তেহরানের এই নতুন আইনি উদ্যোগ পারস্পরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এর আগে ইরানি নেতাদের দেওয়া হত্যার হুমকিগুলো শুধু ধর্মীয় ফতোয়া বা মতামতের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। তবে এবারই প্রথম তা আনুষ্ঠানিকভাবে পার্লামেন্টে আইনি প্রক্রিয়ার রূপ পাচ্ছে।
ডনাল্ড ট্রাম্প গত বছরই সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরান যদি তার বিরুদ্ধে দেওয়া এ প্রাণনাশের হুমকি কার্যকর করার চেষ্টা করে, তবে আমেরিকা তাদের ‘পৃথিবীর বুক থেকে মুছে ফেলার’ জন্য ‘খুব কঠোর নির্দেশ’ জারি করবে।
ইব্রাহিম আজিজি বলেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যে বিমান হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন, তার জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্প, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারকে ইরান দায়ী বলে মনে করে। তাই তাদের অবশ্যই ‘মুখোমুখি সংঘাত ও পাল্টা পদক্ষেপের’ মুখোমুখি হতে হবে।
জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের আরেক সদস্য মাহমুদ নাবাবিয়ান আলাদাভাবে ঘোষণা করেছেন, যে কেউ ‘ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুকে জাহান্নামে পাঠাবে’, তার জন্য পুরস্কার নির্ধারণের বিষয়ে খুব শিগগির পার্লামেন্টে ভোট হবে। তিনি আরও বলেন, ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির বিরুদ্ধেও হুমকি দেওয়া হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি ইরানের ওপর আবার হামলা চালানো হয়, তবে তার জবাব হবে ‘বিধ্বংসী’।
ট্রাম্পকে হত্যার জন্য ইরানি কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে বছরের পর বছর ধরে চলে আসা হুমকির এটি সর্বশেষ ঘটনা। সরকারি এসব হুমকির পাশাপাশি ইরানের বেসরকারি উদ্যোগে পরিচালিত বিভিন্ন প্রচারেও ট্রাম্পের মাথার দাম হিসেবে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে। যেমন ‘ব্লাড কভেন্যান্ট’ নামের একটি বেসরকারি তহবিল গঠন অভিযানে ট্রাম্পকে হত্যার উদ্দেশ্যে ইতিমধ্যে ২ কোটি ৭০ লাখ ডলার সংগ্রহ করার কথা জানানো হয়েছে।
এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস-এর বরাত দিয়ে একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি নতুন শান্তি প্রস্তাব হস্তান্তর করেছে। তবে ওই সূত্র উল্লেখ করেছে, তেহরানের এ নতুন প্রস্তাব তাদের আগের অবস্থানের চেয়ে খুব একটা উন্নত বা তাৎপর্যপূর্ণ কিছু নয়।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা আসলে খুব একটা অগ্রগতি করতে পারছি না। আজ আমরা অত্যন্ত জটিল এক পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে আছি। এখন সঠিক উপায়ে ইতিবাচক সাড়া দেওয়ার সব চাপ ইরানের ওপরই রয়েছে।’
এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে একটি আলোচনা দেখতে চায়। যদি তা না হয়, তবে আমাদের বোমার মাধ্যমে কথা বলতে হবে, যা হবে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।’
ইউডি/রেজা

