আর্থিক খাতে লুটপাটের হাতিয়ার ছিল ভুয়া তথ্য: অর্থমন্ত্রী

আর্থিক খাতে লুটপাটের হাতিয়ার ছিল ভুয়া তথ্য: অর্থমন্ত্রী

উত্তরদক্ষিণ। বুধবার, ২০ মে, ২০২৬, আপডেট ১৩:৩৫

ভুয়া আর্থিক তথ্য, দুর্বল নজরদারি এবং জবাবদিহির অভাবে দেশের ব্যাংক ও পুঁজিবাজার থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ লুটপাট হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বুধবার (২০ মে) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ফাইন্যানশিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল আয়োজিত এক সামিটে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘দ্রুত সময়ের মধ্যে পুঁজিবাজার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ দেশের আর্থিক খাতগুলোকে বিকেন্দ্রীভূত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি নানা অস্থিরতার মধ্য দিয়ে গেছে। এ সময় অনেক প্রতিষ্ঠান কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে। ব্যাংকিং খাত থেকে শুরু করে পুঁজিবাজার পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে আর্থিক অনিয়ম, তথ্য গোপন এবং ভুয়া তথ্য উপস্থাপনের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে।’

তিনি বলেন, ‘ভুয়া তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে অনেক কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে। এতে প্রকৃত ও ভালো কোম্পানিগুলো প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়েছে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা নষ্ট হয়েছে এবং বাজারে বড় ধরনের মূলধন সংকট তৈরি হয়েছে।’

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘ব্যাংকের মালিকানা নিয়ে দেশে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে। কেউ কিছু শেয়ার কিনেই নিজেকে ব্যাংকের মালিক ভাবতে শুরু করে। অথচ ব্যাংকের মালিকানা শেয়ারধারীদের এবং ব্যাংকের অর্থ আমানতকারীদের। ব্যক্তি নিজেকে ব্যাংকের মালিক দাবি করতে পারেন না।’

তিনি আরও বলেন, ‘মানি লন্ডারিং, দুর্বল করপোরেট ব্যবস্থাপনা এবং ভুয়া আর্থিক তথ্য প্রদানের কারণে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নির্ভরযোগ্য আর্থিক প্রতিবেদন না থাকায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থাও কমে যাচ্ছে।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার আর্থিক খাত সংস্কারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ জন্য স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং আন্তর্জাতিক মানসম্মত আর্থিক প্রতিবেদন নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে হিসাববিদ, নিরীক্ষক ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

তিনি হিসাববিদ ও নিরীক্ষকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনাদের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই একটি প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত অবস্থা মূল্যায়ন করা হয়। যদি সেই প্রতিবেদন সঠিক না হয়, তাহলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা কখনোই ফিরবে না।’

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অর্থবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ‘অতীতে দেশের আর্থিক প্রতিবেদন ব্যবস্থা ছিল খামখেয়ালিপূর্ণ এবং দুর্বল। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা প্রতারিত হয়েছেন। সম্পদের প্রকৃত মূল্য যাচাই না করেই বড় অঙ্কের ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। ফলে ব্যাংকগুলো খেলাপি ঋণের চাপে পড়েছে এবং একের পর এক আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটেছে।’

তিতুমীর আরও বলেন, আর্থিক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, কার্যকর নজরদারি এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে টেকসই বিনিয়োগ পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে না। এজন্য আর্থিক খাতে সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সামিটে আর্থিক প্রতিবেদন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading