হামে শিশুদের মৃত্যুর মিছিল, দায় কার?

হামে শিশুদের মৃত্যুর মিছিল, দায় কার?

উত্তরদক্ষিণ। বুধবার, ২০ মে, ২০২৬। আপডেট ১৭:০০

প্রাদুর্ভাব শুরুর পর এখন পর্যন্ত ৪৭৫ জনের মৃত্যু

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব শুরুর পর এখন পর্যন্ত ৪৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৭৭টি মৃত্যু নিশ্চিত হামে বাকি মৃত্যুগুলো হাম সন্দেহে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। প্রতিদিনই হামে আক্রান্ত হয়ে বাড়ছে মৃত্যু। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা হামের পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন সময় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং হামে মৃত্যুর পেছনে কারণ খতিয়ে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে হাম প্রতিরোধে সরকার কী করছে, কী উদ্যোগ নিয়েছে- এ নিয়েও জনমনে প্রশ্ন আছে। দেশে দীর্ঘদিন হামের টিকা ক্যাম্পেইন হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় টিকা কেনা নিয়ে তৈরি হয় জটিলতা। সর্বশেষ ২০২০ সালের ডিসেম্বরের দিকে হামের টিকা ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়। চার বছর পর পর এই ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা থাকলেও দেশে অস্থিরতার কারণে ২০২৪ সালে এবং পরবর্তীকালে ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের গাফিলতিতে টিকার প্রচারণা হয়নি বলে বলে মনে করে সরকার। এসব নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন…

প্রতিরোধযোগ্য রোগ জীবন কেড়ে নিচ্ছে!

আসাদ এফ রহমান : করোনা মহামারির পর জনস্বাস্থ্য নিয়ে আবারও একটা আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে শঙ্কা বাড়ছেই। এ রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই শিশুরা মারা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি জনস্বাস্থ্যের গুরুতর একটি সংকট হিসেবে হাজির হয়েছে। বাংলাদেশে একসময় টিকাদান কর্মসূচির সফলতা, বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত ছিল। গ্রামবাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে, শহরের বস্তি সবখানে শিশুকে নিয়মিত টিকা দেওয়ার একটি কার্যকর কাঠামো গড়ে উঠেছিল। সেই অর্জন শুধু পরিসংখ্যানের সাফল্য ছিল না, এটি ছিল জনস্বাস্থ্যের এক নীরব বিপ্লব। অথচ আজ এমন এক বাস্তবতায় দাঁড়িয়েছে যেখানে হাম, একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ অথচ এটি শিশুদের জীবন কেড়ে নিচ্ছে! এটি কি নিছক স্বাস্থ্য সংকট? নাকি নীতির ব্যর্থতা, পরিকল্পনায় দুর্বলতা এবং দায়িত্বজ্ঞানহীনতার সম্মিলিত ফল!

হাম কোনো রহস্যময়, অজানা রোগ নয়। এটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত সংক্রমণ

হাম কোনো রহস্যময়, অজানা রোগ নয়। এটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত সংক্রমণ, যার বিরুদ্ধে বহুদিন ধরে নিরাপদ ও কার্যকর টিকা রয়েছে। উন্নত দেশগুলোতে, টিকাদানের উচ্চ কাভারেজের কারণে, হাম কার্যত নিয়ন্ত্রিত। তাহলে বাংলাদেশে কেন এটি আবার ফিরে এলো? উত্তরটি খুঁজতে গেলে, আমাদের তাকাতে হবে টিকা সরবরাহ ব্যবস্থার দিকে, যেখানে আজ স্পষ্ট ভাঙন দেখা যাচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে টিকার ঘাটতি বাস্তব এবং তা অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু ঘাটতি হঠাৎ করে তৈরি হয়নি। এটি দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার অভাব, সমন্বয়ের ঘাটতি এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার ফল।

দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে এবং হামের লক্ষণ নিয়ে গত একদিনে আরও ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ২ জনের হাম আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাকি ৯ জনের মধ্যেও হামের উপসর্গ ছিল। মঙ্গলবার (১৯ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম সংক্রান্ত নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয় গত সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার একই সময় পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৭৩ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। সারাদেশে ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃতের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৭৫ জনে। এর মধ্যে ৭৭ জন নিশ্চিতভাবে হাম আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। এ পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ১৫৮ জন ঢাকায় মারা গেছেন; আর ৭৮ জন রাজশাহী বিভাগের।

গত একদিনে হাম আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ২ জন বরিশাল বিভাগের। উপসর্গ নিয়ে সর্বোচ্চ ৩ জন করে মারা গেছে সিলেট ও ঢাকা বিভাগে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, গত একদিনে নতুন করে ৭৩ জন হাম আক্রান্ত হয়েছে। এই সময়ে ১ হাজার ২৬৪ জন হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে এসেছে; যাদের মধ্যে এক হাজার ১১৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। গত একদিনে হামের লক্ষণ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৪১৭ জন ভর্তি হয়েছে ঢাকার হাসপাতালগুলোতে। সবচেয়ে কম ৯ জন ভর্তি হয়েছেন রংপুরে। এ নিয়ে দেশে ৭ হাজার ৯২৯ জনের শরীরে হামের সংক্রমণের বিষয়টি পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া গেছে। আর হামের লক্ষণ নিয়ে মোট ৫৬ হাজার ৫৮৬ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে।

আক্রান্ত হচ্ছে প্রাপ্তবয়স্করাও, কতটা উদ্বেগের?

আরিফ হোসেন: রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বেশ কিছু এলাকায় প্রাপ্তবয়স্কদেরও হামে আক্রান্ত হবার খবর পাওয়া যাচ্ছে। কোনো কোনো এলাকায় হাসপাতালে হামে আক্রান্ত বড়দের চিকিৎসার জন্য আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। কিন্তু প্রাপ্তবয়স্করা কেন হামে আক্রান্ত হচ্ছে? যারা হামে আক্রান্ত হচ্ছেন তাদের নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ আছে কি-না? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম শিশুদের জন্য যতটা উদ্বেগের, বড়দের জন্য তা নয়। স্বাস্থ্য বিভাগের উপপরিচালক সৈয়দ আবু আহাম্মদ শফি গণমাধ্যমকে বলেছেন, বড়দের সাধারণত শিশুদের তুলনায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো থাকে এবং সে কারণেই তাদের হামে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা কম থাকে। তবে নানা কারণে কারও শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকলে তিনিও শিশুদের মতো একই ভাবে হামে আক্রান্ত হতে পারেন। তবে সাধারণত বড়রা চিকিৎসায় সহজেই সেরে ওঠেন।

ঢাকার কয়েকটি হাসপাতালে বড়রাও হামের উপসর্গ নিয়ে এসে চিকিৎসা নিয়েছেন, যদিও স্বাস্থ্য বিভাগ আনুষ্ঠানিকভাবে বলছে যে, বড়দের হামে আক্রান্ত হবার রিপোর্ট তাদের কাছে যায়নি। ঢাকার বাইরেও কয়েকটি জায়গায় ২০ বছরের বেশি বয়েসিদের হামে আক্রান্ত কিংবা হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তির খবর পাওয়া গেছে। রংপুরের সিভিল সার্জন শাহীন সুলতানা জানিয়েছেন রংপুর বিভাগে এমন রোগীর সংখ্যা ছয় জন এবং তাদের হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। রংপুরে বড়দের মধ্যে যারা আক্রান্ত হয়েছেন তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

অপারেশন প্ল্যান বন্ধ হয়ে যাওয়া টিকা সংকটের অন্যতম কারণ

আরিফ হোসেন : দেশে সমস্যা যে শুধু টিকা নিয়ে হয়েছে তা নয়। এই টিকা কার্যক্রমে টাকার সংকট এমন পর্যায়ে গিয়েছে যে, সারাদেশে যারা টিকা পরিবহন করেন, তাদের বেতনও বন্ধ প্রায় দশ মাস। কিন্তু এমন পরিস্থিতি কেন হলো? এর পেছনে মূল কারণ হিসেবে উঠে আসছে, স্বাস্থ্যখাতে ওপি বা অপারেশন প্ল্যান বন্ধ হয়ে যাওয়া। অপারেশন প্ল্যান মূলত স্বাস্থ্যখাতে টিকা কার্যক্রমসহ বিভিন্ন কর্মসূচির পাঁচবছর মেয়াদি পরিকল্পনা। যেখানে পাঁচ বছরের কেনা-কাটাসহ সকল কার্যক্রমের পরিকল্পনা এবং এর জন্য কত টাকা লাগবে সেটি পাশ করা থাকে। এখানে টাকার একটা অংশ দেয় সরকার, বাকিটা আসে বিদেশি সাহায্য সংস্থা থেকে। পরিকল্পনা পাশ করা থাকায় ওপির মাধ্যমে দ্রুত কেনাকাটা করা যায়। কিন্তু এই অপারেশন প্ল্যান নিয়ে অতীতে নানা বিতর্কও ওঠে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৫ সালে সরকার কোনো এক্সিট প্ল্যান ছাড়াই ওপি থেকে সরকার বেরিয়ে আসে।

ফলে ওপি-তে যতগুলো কর্মসূচি ছিল, সবগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। এরমধ্যে টিকাও একটা। কালাজ্বর, ম্যালেরিয়া, জলাতঙ্ক বলেন-সব বন্ধ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকার বাফার স্টক না থাকাটা বড় ঝুঁকির বিষয়। এতে হামের মতো অন্যান্য সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব আরো বাড়তে পারে। স্বাস্থ্যখাতে অপারেশন প্ল্যান (ওপি) বন্ধ হয়ে যাওয়া টিকা সংকটের অন্যতম কারণ। এই পরিকল্পনার আওতায় টিকা সংগ্রহ ও সরবরাহ কার্যক্রম পরিচালিত হতো। কিন্তু বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া এটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় টিকা ব্যবস্থাপনায় অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, দ্রæত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আগামী দিনেও টিকার সংকট অব্যাহত থাকতে পারে।

দায় এড়াতে পারে না অন্তর্বর্তী সরকার

মহোসু : ড. মুহাম্মদ ইউনূস। নোবেলজয়ী আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব। থ্রি জিরোর প্রবক্তা হিসেবে জগৎজোড়া খ্যাতি। মানুষের অনেক আশা ছিল, এই ব্যক্তিত্ব বাংলাদেশকে অনেক দূর এগিয়ে নেবেন। কিন্তু সবকিছুতে নির্লিপ্ত-নির্বিকার থাকায় দেশে এক ধরনের নৈরাজ্য শুরু হয়। শ্রুতিমধুর বক্তৃতা দিয়ে বিশ্ব বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেখানো যত সহজ; দেশ চালানো যে ততটাই কঠিন তা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের বদলে আরো ‘বিশৃঙ্খলায়’ রেখে গিয়ে তারই প্রমাণ দিয়েছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের একটি মাত্র সিদ্ধান্ত, আর তাতে ধস নেমেছে স্বাস্থ্য খাতে। জনগুরুত্বপূর্ণ এ খাত এক প্রকার মুখ থুবড়ে পড়েছে। বর্তমান সরকার পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারলে আরও ভয়াবহ আকার ধারণের আশঙ্কা করছেন জনস্বাস্থ্যবিদরা। জনস্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অপারেশনাল প্ল্যান (ওপি) বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তে স্বাস্থ্য খাতে গভীর সংকট তৈরি হয়েছে। টিকা কার্যক্রমে ভাটা, জীবনরক্ষাকারী ওষুধের ঘাটতি, মাঠপর্যায়ে কর্মীদের বেতন বন্ধ সব মিলিয়ে জনস্বাস্থ্য এখন বড় ধরনের হুমকির মুখে।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস

জনস্বাস্থ্যবিদদের মতে, এটি ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের অবৈজ্ঞানিক ও অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্ত। যার নেতিবাচক প্রভাব ইতিমধ্যে দৃশ্যমান এবং ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ হতে পারে। দেশের স্বাস্থ্য বিভাগ নিয়ে ঐ সরকারের চরম অবহেলা এখন প্রকাশ্যে। হামের টিকার অভাবে শিশু মৃত্যু ও জলাতংকের ভ্যাকসিন সংকট তাদের অযোগ্যতা ও অবহেলাকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখাচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবা খাতে টিকায় বরাদ্দ রাখেননি, বরং প্রকল্প বন্ধ করেছেন। জ্বালানির আপৎকালীন কোনো প্রস্তুতি রেখে যাননি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় টিকা কেনা নিয়ে তৈরি হয় জটিলতা। সেক্টর কর্মসূচি থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্তে অচলাবস্থা তৈরি হয় টিকা কেনায়। কারণ এসব টিকা অতীতে কেনা হতো সেক্টর কর্মসূচির আওতায় অপারেশন প্ল্যানের মাধ্যমে। কিন্তু তখনকার সরকারের অর্ধেক টিকা উন্মুক্ত টেন্ডারে এবং বাকি অর্ধেক ইউনিসেফের মাধ্যমে কেনার সিদ্ধান্তে জটিলতা তৈরি হয়। যদিও পরবর্তীকালে পুরো টিকাই ইউনিসেফের কাছ থেকে কেনা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় টিকা কেনার পদ্ধতি নিয়ে বারবার সতর্ক করা হয়েছিল বলেও দাবি করেছে ইউনিসেফ। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, প্রত্যেক বছর দুবার ভিটামিন ‘এ’ এর ক্যাম্পেইন করার কথা। গত বছরের প্রথমার্ধে একটা ভিটামিন এ ক্যাম্পেইন হয়েছিল। তারপরে কোনও ক্যাম্পেইন হয়নি এবং ভিটামিন এ নাই।

তিনি বলেন, বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় হামের টিকার কোনও মজুত ছিল না। ২০২০ সালের ডিসেম্বরের পর দেশে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি না হওয়া এবং টিকার তীব্র ঘাটতি বর্তমান হামের প্রাদুর্ভাবের মূল কারণ বলেও জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেছেন, হাম ও রুবেলা ভ্যাকসিনের ক্যাম্পেইন চার বছর পর পর হয়। একটা ক্যাম্পেইন হয়েছিল ২০২০ সালের ডিসেম্বরে, আরেকটা ২০২১ সালের জানুয়ারির দিকে। তখন ছিল কোভিডকালীন সময় এবং আমরা যে ডেটাগুলো দেখছি, সে সময় যে সরকার দায়িত্বে ছিল, তারা ডেটা টেম্পারিংয়ে সাংঘাতিক ওস্তাদ ছিল। বিভিন্ন রকম ডেটা টেম্পারিং তারা করেছে। ওই সময় হামের কাভারেজের যে ডেটা— আমি অন্তত এটুকু বলতে পারি, এটা সঠিক না। তখন হামের কাভারেজ যেভাবে হওয়া উচিত ছিল, সেটা হয়নি। ইনকমপ্লিট কাভারেজের চার বছর পর যে আরেকটা টিকা রাউন্ড, সেটা হওয়ার কথা ছিল ২০২৪-২৫ সালে। বিভিন্ন কারণে সরকারের দুর্বলতা, তাদের অদক্ষতার কারণে সেই টিকার ক্যাম্পেইন একেবারেই হয়নি। এ কারণে আজ আমরা এই ডিজাস্টারের মধ্যে জাতিগতভাবে পড়েছি।

বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আলাদা ওয়ার্ড করার নির্দেশনা

সাদিত কবির : হামের সুচিকিৎসা নিশ্চিতে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে আলাদা ওয়ার্ড করার নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। মঙ্গলবার অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দিয়েছেন। এতে বলা হয়, স¤প্রতি বেসরকারি হাসপাতালে হাম ও উপসর্গের রোগী ভর্তি না করার অভিযোগ মিলছে। এ পরিস্থিতিতে নিম্নোক্ত নির্দেশনাবলী প্রতিপালনের জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। সব বেসরকারি স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান আবশ্যিকভাবে হাম ও সন্দেহজনক রোগীদের চিকিৎসার জন্য আলাদা ওয়ার্ড বা কেবিন ঠিক করবে। বেসরকারি স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান হাম ও সন্দেহজনক হাম রোগীদের চিকিৎসা বা ভর্তি নিয়ে চিকিৎসা দেবে। বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও ডেন্টাল কলেজ আইন অনুযায়ী, সব বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ন্যূনতম ১০ শতাংশ শয্যা দরিদ্র জনগণের জন্য সম্পূর্ণ বিনা ভাড়ায় সংরক্ষণের বিধান রয়েছে। এই ১০ শতাংশ শয্যার অর্ধেক শয্যা হাম রোগ ও সন্দেহজনক হাম রোগীদের চিকিৎসার জন্য নির্দিষ্ট থাকবে। ভর্তি হওয়া রোগীর সঙ্গে সর্বোচ্চ একজন অভিভাবক বা দর্শনার্থী অবস্থান বা প্রবেশ করতে পারবেন। ভর্তি রোগী সম্পর্কিত তথ্য প্রতিদিন এমআইএস ওয়েবসাইটে দিতে হবে। প্রয়োজনে ০১৭৫৯১১৪৪৮৮ এ হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করা যেতে পারে। স্থানীয় সরকারি স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে হাম ও সন্দেহজনক রোগীর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।

দৈনিক উত্তরদক্ষিণ । ২০ মে, ২০২৬ । প্রথম পৃষ্ঠা

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে জানতে চান হাইকোর্ট

আশিকুর রহমান : হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা তথা শিশুদের বাঁচানোর জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে সে বিষয়ে একটি অগ্রগতি প্রতিবেদন আগামী ৩০ দিনের মধ্যে দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার (১৯ মে) বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন। রুলে দেশে হামের প্রাদুর্ভাবের মূল কারণ ও দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা , জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) এবং রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) প্রতিনিধি সমন্বয়ে ১০ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি কেন গঠন করা হবে না এবং হামের প্রাদুর্ভাবে মারা যাওয়া শিশুদের প্রত্যেকের পরিবারকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়েছেন। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও আইইডিসিআরের পরিচালককে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ব্যারিস্টার খান মোহাম্মদ শামীম আজিজ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো.রুহুল কুদ্দুস কাজল। গত ১০ মে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার হুমায়ন কবির পল্লব জনস্বার্থে এ রিট দায়ের করেন।

ইউডি/এজেএস

Asadujjaman

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading