রামিসার জন্য কাঁদছে ক্রীড়াঙ্গনও, বিচার চাইলেন শরিফুল-মুশফিক

রামিসার জন্য কাঁদছে ক্রীড়াঙ্গনও, বিচার চাইলেন শরিফুল-মুশফিক

উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, আপডেট ১৩:১৬

গোটা দেশ যখন পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করার আনন্দে উচ্ছ্বসিত, ঠিক তখনই রাজধানীর পল্লবী থেকে আসে এক বিভীষিকাময় সংবাদ! আট বছরের নিষ্পাপ শিশু রামিসা আর বেঁচে নেই। যে বয়সে তার বই হাতে স্কুলে যাওয়ার কথা ছিল, যে বয়সে মায়ের আঁচল ধরে হাসিমুখে বেড়ে ওঠার কথা ছিল, সেই বয়সেই তাকে হতে হয়েছে পাশবিকতার শিকার। ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে ছোট্ট শিশুটিকে! এমন ভয়াবহ ঘটনায় স্তব্ধ হয়ে গেছে দেশ, ম্লান হয়ে গেছে ক্রিকেট জয়ের আনন্দও।

রাজধানীর পল্লবীর এই নির্মম ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছে জাতীয় দলের দুই ক্রিকেটার শরিফুল ইসলাম ও মুশফিকুর রহিমকে। তারা নিজেদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ক্ষোভ, বেদনা আর প্রতিবাদের ভাষায় রামিসার হত্যার বিচার দাবি করেছেন।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে শরিফুল ইসলাম লিখেছেন, ‘জয়ের আনন্দ এখনো আছে কিন্তু মনটা বিষণ্ন, হতাশ। কী দোষ ছিল এই ছোট্ট শিশুর? আমরা কবে এসব থেকে মুক্ত হবো? রামিসা হত্যার বিচার চাই। ধর্ষণ যারা করে তাদের এমন উপযুক্ত শাস্তি চাই, যেন পরের বার কেউ এই ঘৃণিত কাজ করার চিন্তাও করতে পারে না। সবাই মিলে কবে আমরা একটা দেশ হয়ে উঠব? রামিসা হত্যার বিচার চাই।’

শুধু একজন ক্রিকেটার নয়, একজন মানুষ হিসেবেও শরিফুলের এই প্রশ্ন আজ গোটা দেশের প্রশ্ন। কেন বারবার শিশুদেরই হতে হচ্ছে বর্বরতার শিকার? কেন এখনো নিরাপদ নয় একটি শিশুর শৈশব?

একই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন মুশফিকুর রহিমও। আবেগঘন পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আজ সকালের খবরটি শুনে আমি পুরোপুরি স্তব্ধ। ছোট্ট রামিসার প্রাপ্য ছিল নিরাপত্তা, ভালোবাসা আর সুরক্ষা… এমন ভয়াবহ নিষ্ঠুরতা নয়। এই নিষ্পাপ শিশুর জন্য দ্রুত ও সঠিক বিচার দাবি করছি। কোনো পরিবার যেন কখনো এমন অসহনীয় কষ্টের মধ্য দিয়ে না যায়। শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত।’

রামিসা ছিল পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। প্রতিবেশী সোহেল রানা তাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে গলা কেটে হত্যা করা হয় শিশুটিকে! পরিবারের সদস্যরা শিশুটির চিৎকার শুনে ছুটে এলে অভিযুক্ত ব্যক্তি মরদেহ লুকানোর চেষ্টা করে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে উদ্ধার করা হয় রামিসার মাথা।

একটি শিশুর প্রতি এমন নিষ্ঠুরতা কেবল একটি পরিবারকে নয়, পুরো সমাজকে আহত করে। রামিসার মৃত্যু শুধু একটি হত্যাকাণ্ড নয়, এটি আমাদের সামাজিক ব্যর্থতার নির্মম প্রতিচ্ছবি! যখন একটি শিশুও নিরাপদ থাকে না, তখন সভ্যতার সব দাবিই প্রশ্নের মুখে পড়ে!

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading