২৩ মে নজরুল জন্মজয়ন্তী উদ্বোধনে ত্রিশাল যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, আপডেট ১৩:৩০
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে ময়মনসিংহের ত্রিশালে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখছেন নিরাপত্তা বাহিনী ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
বাবা-মায়ের পর এবার ময়মনসিংহের ত্রিশালে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দুই দশক পর আগামী ২৩ মে কবির বাল্যস্মৃতি বিজড়িত ত্রিশালে জাতীয় পর্যায়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তীর উদ্বোধন করবেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে সর্বত্রই এখন উৎসবের আমেজ। উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতির অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন এলাকাবাসী ও কবির ভক্তরা।
১৯১৪ সালে দারোগা রফিজ উল্লাহর হাত ধরে ইন্ডিয়ার আসানসোল থেকে ময়মনসিংহের ত্রিশালের কাজির শিমলা গ্রামে আসেন কিশোর নজরুল ইসলাম। সেখানে একটি বৈঠক ঘরে বসবাস করতেন তিনি। পাশেই পুকুরে গোসল করতেন দূরন্ত নজরুল। ছুটে বেড়াতেন এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়ি। পরে নজরুলকে সপ্তম শ্রেণিতে দরিরামপুর হাইস্কুলে ভর্তি করানো হয়। সেখান থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে হেঁটে গিয়ে ক্লাস করতেন।
বর্ষাকালে স্কুলে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ায় নামাপাড়া বিচুতিয়া বেপারি বাড়িতে লজিং পাঠানো হয় তাকে। সেখানে থেকে অষ্টম শ্রেণি পড়া অবস্থায় অভিমান করে কাউকে না জানিয়ে কুমিল্লায় চলে যান নজরুল। পরে আর কোনদিন ত্রিশালে আসেননি তিনি।
নজরুলের স্মৃতি রক্ষার্থে কাজির শিমলা দারোগা বাড়ি এবং বিচুতিয়া বেপারি বাড়িতে নির্মাণ করা হয় নজরুল স্মৃতি কেন্দ্র। তবে স্মৃতি কেন্দ্র দুটিতে জনবল সংকটের পাশাপাশি রয়েছে নানা সমস্যা। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে কেন্দ্র দুটি আধুনিকায়নের পাশাপাশি চলাচলের ভাঙা রাস্তাটি মেরামতের দাবি স্থানীয়দের।
রফিজউল্লাহ দারোগার নাতি কাজী শাহাদাৎ হোসেন জানান, ১৯১৪ সালের জুন মাসে তার দাদা নজরুলকে গ্রামে নিয়ে এসেছিল। নজরুলের মেধা দেখে সবাইকে তার প্রতি যত্ন নিতে নির্দেশনা দিয়েছিলেন। নজরুল ছিল দূরন্ত প্রকৃতির। বর্ষাকালে এখান থেকে স্কুল যেতে তার কষ্ট হতো। তাই প্রায় দেড় বছর এখানে থাকার পর তাকে নামাপাড়া লজিংয়ে পাঠানো হয়।
তিনি জানান, আজ রফিজউল্লাহ দারোগার কারণেই ত্রিশাল হয়েছে নজরুলের। দুঃখের বিষয় হলো, এখানে তার স্মৃতি রক্ষার্থে দুইতলা একটি স্মৃতি কেন্দ্র গড়ে তোলা হলেও সেটি অনেকটা অবহেলায় রয়েছে। দেখার মতো নজরুলের শোবার খাট আর কয়েকটি ছবি এবং বই রয়েছে। এখানে আসার চলাচলের রাস্তাটিও ভাঙা। প্রধানমন্ত্রী যেহেতু আসছেন, আমাদের দাবি থাকবে স্মৃতিকেন্দ্রটি আধুনিকায়ন করাসহ রাস্তাটি মেরামতের।”
নজরুল স্মৃতি কেন্দ্রের সহকারী পরিচালক মো.ফয়জুল্লাহ রোমেল বলেন, “বিচুতিয়া বেপারির বাড়ির কেন্দ্র থেকেই দুটি স্মৃতি কেন্দ্র পরিচালিত হয়ে থাকে। দুই কেন্দ্রেই শিশুদের জন্য নজরুল সংগীত প্রশিক্ষণ চালু রয়েছে। অন্যান্য বছরের ন্যায় এবারো দুই স্মৃতিকেন্দ্রে নজরুলের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে স্বল্প পরিসরে অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে।”
শুকতারা সংঘের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রমজান আলী রবিন বলেন, “জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তী জাতীয় পর্যায়ে ত্রিশালে হওয়ায় আমরা গর্বিত। প্রধানমন্ত্রী আসবেন এতে আমরা আরো বেশি উচ্ছ্বসিত। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর বাবা ও মা ত্রিশালে এসেছিলেন। তারা আসলেই ত্রিশালবাসীর স্বপ্ন পূরণ হয়। এবারো প্রধানমন্ত্রী আমাদের স্বপ্ন পূরণ করবেন আশা রাখছি। তার কাছে আমাদের প্রধান দাবি, বিমানবন্দর এবং মেডিকেল কলেজ স্থাপন।
ত্রিশাল আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন বলেন, “আগামী ২৩ মে দুপুর সাড়ে ১২টায় ত্রিশালে পা রেখেই ১৯৭৯ সালে বাবার খনন করা দরিয়ার খাল পুনঃখনন উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলবেন। পরে নজরুল একাডেমি ডাকবাংলোতে বিশ্রাম নিয়ে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নজরুল জন্মজয়ন্তীর তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন। সেখানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী।”
তিনি আরও বলেন, “অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। অনুষ্ঠান সফল করতে ইতোমধ্যে কয়েক দফা বৈঠিক অনুষ্ঠিত হয়েছে।”
এই সংসদ সদস্য বলেন, “নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি হিসেবে ত্রিশালে প্রধানমন্ত্রীর আগমন বড় সাফল্য। প্রধানমন্ত্রী ত্রিশালবাসীর জন্য বড় কিছু উপহার দিয়ে যাবেন। সেটিতে চমক থাকবে বলে প্রকাশ করা যাচ্ছে না।”
ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো.সাইফুর রহমান জানান, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে দরিরামপুর স্কুলে মাঠে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা সভা, নজরুল মেলা, বই মেলা, নাচ, গান, আবৃত্তি এবং পালা। জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
ইউডি/রেজা

