‘সুনীল অর্থনীতি জাতীয় উন্নয়নে কৌশলগত অগ্রাধিকারের স্থান লাভ করেছে’

‘সুনীল অর্থনীতি জাতীয় উন্নয়নে কৌশলগত অগ্রাধিকারের স্থান লাভ করেছে’

উত্তরদক্ষিণ । বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, আপডেট ১৪:৫৫

নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেছেন, “ব্লু ইকোনোমি বা সুনীল অর্থনীতি জাতীয় উন্নয়নে কৌশলগত অগ্রাধিকারের স্থান লাভ করেছে। বঙ্গোপসাগরের প্রায় ১ লাখ ১৮ হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকা নিয়ে আমাদের আজ বিশাল সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। যেখানে রয়েছে মৎস্য সম্পদের প্রাচুর্য, নবায়ন যোগ্য জ্বালানির উৎস্য এবং আন্তর্জাতিক বানিজ্য পথের ব্যবহার, যা দেশের জিডিবি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই সুনীল অর্থনীতিকে বাস্তব উন্নয়নের রুপ দিতে সমুদ্রের নিরাপত্তা রক্ষায় নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।”

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল সোয়া ১০টার দিকে পটুয়াখালীর বানৌজা শের-ই-বাংলা প্যারেড গ্রাউন্ডে ৪৪১ জন নবীন নাবিকের বুট ক্যাম্প প্রশিক্ষণ শেষে সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেন, “সমুদ্র সম্পদ সংরক্ষণ এবং সমুদ্রসীমা রক্ষার লক্ষ্যে নৌবাহিনীর আধুনিকায়নে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। নৌবহরে উল্লেখ্যযোগ্য সংখ্যক যুদ্ধ জাহাজ, হেলিকপ্টার, আধুনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি সংজোযন করা হয়েছে। একই সঙ্গে বানৌজা নবযাত্রা ও জয়যাত্রা নামের দুটি সাবমেরিন সংযোজনের মাধ্যমে আজ নৌবাহিনী ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনীতে পরিনত হয়েছে। ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে নতুন নৌঘাটি, যুদ্ধ জাহাজ, আধুনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি সংযোজনের কার্যক্রম সবসময় চলমান রয়েছে। দেশের প্রয়োজনে সর্বদা নিয়োজিত থেকে যে কোন প্রকার ত্যাগ শিকার করার জন্য নৌবাহিনীর প্রতিটি সদস্য সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছেন।”

নবীন নাবিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “সততা, শৃঙ্খলা, আনুগত্য ও দেশপ্রেমের আদর্শ ধারণ করে দেশসেবায় আত্মনিয়োগ করতে হবে। একই সঙ্গে সেনা ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে।”

অনুষ্ঠানে নৌবাহিনী সদর দপ্তরের পিএসওগণ, উচ্চপদস্থ সামরিক ও অসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ, পটুয়াখালী, বরিশাল ও খুলনা অঞ্চলের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং নবীন নাবিকদের অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে নৌবাহিনী প্রধান প্যারেড পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন। এসময় নবীন নাবিকরা জাতীয় পতাকা স্পর্শ করে দেশের প্রয়োজনে জীবন উৎসর্গ করার শপথ গ্রহণ করেন। পরে নৌবাহিনী প্রধান পেশাগত ও সব বিষয়ে সর্বোচ্চ উৎকর্ষ অর্জন করায় সেরা চৌকশ নাবিক হিসেবে শাহরিয়ারর টুটুলকে ‘নৌপ্রধান পদক’, দ্বিতীয় স্থান অধিকার করায় সামিউল ইসলাম শাকিলকে ‘কমখুল পদক’, তৃতীয় স্থান অধিকার করায় কাদের মিয়াকে ‘শের-ই-বাংলা পদক’ ও সেরা চৌকশ মহিলা নাবিক হিসেবে মারিয়া আক্তারকে ‘প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার পদক’ প্রদান করেন এবং তাদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading