পাচারের সম্ভাবনা না থাকায় বেশি চামড়া সংরক্ষণ করা যাবে : বাণিজ্যমন্ত্রী
উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২৬, আপডেট ২২:৩০
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, কোরবানির চামড়া পাচার হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এর ফলে বেশিরভাগ চামড়া ট্যানারি পর্যন্ত পৌঁছাবে এবং অন্যান্য যেকোনো বছরের তুলনায় এবার বেশি সংখ্যক চামড়া সংরক্ষণ করা যাবে।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সন্ধ্যায় সাভারের আমিনবাজার এলাকায় কাঁচা চামড়া কেনা-বেচা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, যেসব জায়গায় চামড়াগুলো এসে জড়ো হয়, তার প্রত্যেকটি কেন্দ্রের সঙ্গেই আমাদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ আছে। এ ছাড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে একটি মনিটরিং সেল করা হয়েছে, সেখানে সার্বক্ষণিক আমাদের কিছু কর্মকর্তারা কাজ করছেন। প্রতিটি জেলা প্রশাসক এবং বিসিকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ আছে। ঢাকা এবং জেলা সদরে আমাদের একাধিক টিম কাজ করছে। তাই চামড়া পাচার হওয়ার কোনো বিষয় নেই। তবে চামড়া অক্ষত রেখে সময়মতো লবণ মাখিয়ে সংরক্ষণ করে এটিকে যেন আমরা রপ্তানির জন্য ব্যবহার করতে পারি, এ নিয়ে আমরা কাজ করছি।
তিনি আরো বলেন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে বেশি বেশি বৈদেশিক মুদ্রা ও কর্মসংস্থান অর্জন। সেই জন্য চামড়া দিয়ে প্রস্তুত পণ্য আমরা রপ্তানি করতে চাই। আগামী দিনে বাংলাদেশের সব কোরবানির চামড়া যেন শতভাগ সংরক্ষণ করতে পারি, সেগুলো রপ্তানি খাতে ব্যবহার করতে পারি, এটি দিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারি, সেজন্য সাভারের সিইটিপির সমস্যা সমাধানসহ যে সমস্ত ট্যানারি হাজারীবাগ থেকে সাভারে স্থানান্তরিত হতে গিয়ে রুগ্ন হয়ে পড়েছে অথবা এখনো ব্যবসা শুরু করতে পারেনি, তাদের ব্যাপারে একটি ফয়সালায় পৌঁছে আমরা চামড়া খাতকে পুরোপুরি বিকশিত খাতে রূপান্তর করতে চাই।
চামড়ার মূল্য নির্ধারণের বিষয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, কোরবানির পরে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে যদি চামড়ায় লবণ মাখানো না হয়, তাহলে আস্তে আস্তে চামড়া নষ্ট হতে শুরু করে। তাই যারা চামড়ায় লবণ মাখিয়ে ক্রেতার কাছে নিয়ে যাবেন, তারাই চামড়ার প্রকৃত মূল্য পাবেন।
এদিকে, পবিত্র ঈদুল আজহার দিনে বিকেল থেকেই সাভারে অবস্থিত বিসিক চামড়া শিল্প নগরীর ট্যানারিগুলোতে বিভিন্ন এলাকা থেকে কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া আসতে শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৮টা পর্যন্ত সাভার চামড়া শিল্পনগরীতে মোট ৩৪১টি ট্রাকে ৭৯ হাজার ২১৮টি কাঁচা চামড়া এসেছে। এর মধ্যে গরু ও মহিষের চামড়া ৭৫ হাজার ৫১৫টি এবং ছাগল ও ভেড়ার চামড়া রয়েছে ৭০৩টি।
বিসিক চামড়া শিল্প নগরীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহরাজুল মাঈয়ান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এবার চামড়াবাহী ট্রাকগুলোর প্রবেশে শৃঙ্খলা রক্ষায় হরিণধরা এলাকা থেকে চামড়া শিল্প নগরী পর্যন্ত একমুখী চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিসিক, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো যৌথভাবে কাজ করছে। দিন ও রাতে দুই পালায় ২০ জন স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছেন। এ ছাড়া এক ঘণ্টা পরপর তিনি নিজে উপস্থিত থেকে টহল কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলে জানান।
অন্যদিকে, আজ দুপুরের পর থেকেই চামড়া শিল্প নগরীর বিভিন্ন ট্যানারিতে কাঁচা চামড়া প্রবেশ করায় ব্যস্ত সময় পার করছেন এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত শ্রমিক-কর্মচারীরা। বিকেলে সরেজমিন বিভিন্ন ট্যানারি পরিদর্শন করে দেখা গেছে, ট্রাক ও পিকআপে করে আসা চামড়া নামিয়ে গণনা করে ভেতরে নিচ্ছেন শ্রমিকরা। পরে চামড়া থেকে লেজ ও মাথার অংশ কেটে আলাদা করে প্রতিটি চামড়ায় লবণ দিয়ে তা স্তূপ করে রাখছেন।

