ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে মহিষ, নামের বানানও ভুল: চিড়িয়াখানার কিউরেটরকে বদলি

ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে মহিষ, নামের বানানও ভুল: চিড়িয়াখানার কিউরেটরকে বদলি

উত্তরদক্ষিণ। শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, আপডেট ১৯:৩৫

জাতীয় চিড়িয়াখানায় রাখা আলোচিত অ্যালবিনো মহিষের নাম ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ রাখা এবং পরে সেই নামের বানান ভুল লেখার ঘটনায় চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. মো. আতিকুর রহমানকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সূত্র বলছে, শুধু বানান ভুল নয়, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে একটি মহিষের নাম সরকারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বহাল রাখা এবং পরে সেই নামও ভুলভাবে উপস্থাপন করাকে প্রশাসনিকভাবে বিব্রতকর ঘটনা হিসেবে দেখা হয়েছে। বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায় পর্যন্ত যাওয়ার পর কিউরেটরকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রাণিসম্পদ-৪ শাখা থেকে গত বৃহস্পতিবার জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে ডা. মো. আতিকুর রহমানকে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (সমমান) পদে বদলি করা হয়েছে। তাঁকে অধিদপ্তরের লিভ, ডেপুটেশন অ্যান্ড ট্রেনিং রিজার্ভ পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

একই প্রজ্ঞাপনে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের লিভ, ডেপুটেশন অ্যান্ড ট্রেনিং রিজার্ভে কর্মরত জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (সমমান) ডা. মো. হাবিবুর রহমানকে জাতীয় চিড়িয়াখানার নতুন কিউরেটর হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ কামাল হোসেন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে অবশ্য বদলির কারণ উল্লেখ করা হয়নি। সেখানে জনস্বার্থে এ রদবদল করা হয়েছে বলে বলা হয়েছে।

পবিত্র ঈদুল আজহার আগে দেশজুড়ে আলোচনায় আসে অ্যালবিনো মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। প্রায় ৭০০ কেজি ওজনের গোলাপি-সাদা রঙের মহিষটির মাথার সামনের সোনালি চুল এবং কিছু শারীরিক বৈশিষ্ট্যের কারণে খামারিরা আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম অনুসারে এর নাম রাখেন।

কোরবানির পশুর হাটে মহিষটি ব্যাপক সাড়া ফেলে। পরে দেশীয় গণমাধ্যমের পাশাপাশি দ্য টেলিগ্রাফ, দ্য ইনডিপেনডেন্ট, এএফপি ও রয়টার্সসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও এটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরে কোরবানি থেকে মহিষটিকে সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ক্রেতাকে অর্থ পরিশোধ করে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশের মাধ্যমে মহিষটিকে জাতীয় চিড়িয়াখানায় হস্তান্তর করা হয়।

কিন্তু চিড়িয়াখানায় প্রদর্শনের সময় নতুন বিতর্কের জন্ম হয়। মহিষটির পরিচিতি ফলকে নাম লেখা হয় ‘ডোনাল্ড ট্টাম্প’। ‘ট্রাম্প’-এর পরিবর্তে ‘ট্টাম্প’ লেখার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা ও বিদ্রূপ শুরু হয়। পরবর্তীতে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ ফলকটি পরিবর্তন করে। পরে মহিষটির নামও পরিবর্তন করে ‘সাদা মহিষ’ রাখা হয়।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, একটি প্রাণীর নাম ডোনাল্ড ট্রাম্প রাখার বিষয়টি শুরু থেকেই বিতর্কিত ছিল। যে কারণে মহিষটি কোরবানি দেওয়া হয়নি, পরে সেই একই নামে সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রদর্শন করাও প্রশ্নের জন্ম দেয়। তার ওপর নামের বানান ভুল করে পরিস্থিতি আরও বিব্রতকর করা হয়।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, শুধু বানান ভুল নয়, পুরো বিষয়টি মিলিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত একজন রাষ্ট্রনেতার নামে প্রাণীর নাম প্রদর্শন এবং পরে সেই নামও ভুল লেখা মোটেই গ্রহণযোগ্য মনে করা হয়নি। দুটি বিষয়ই বদলির সিদ্ধান্তে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading