এশিয়ার সেরা ১০০ বিজ্ঞানীর তালিকায় বাংলাদেশের ৩ গবেষক

এশিয়ার সেরা ১০০ বিজ্ঞানীর তালিকায় বাংলাদেশের ৩ গবেষক

উত্তরদক্ষিণ। শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, আপডেট ২০:১০

এশিয়ার সেরা ১০০ বিজ্ঞানীর তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন বাংলাদেশের তিন গবেষক। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিজ্ঞান সাময়িকী এশিয়ান সায়েন্টিস্ট প্রকাশিত এ তালিকায় স্থান পাওয়া গবেষকদের মধ্যে রয়েছেন তরুণ বিজ্ঞানী মারজানা আক্তার, আইসিডিডিআর,বির নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ এবং বুটেক্সের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্বাস উদ্দিন শায়ক। তাদের গবেষণা কৃষি, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশবান্ধব শিল্প প্রযুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।

তালিকাটিতে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেলজয়ী শিমন সাকাগুচি, রসায়নে নোবেলজয়ী সুসুমু কিতাগাওয়া এবং গণিতের নোবেলখ্যাত আবেল পুরস্কারজয়ী মাসাকি কাশিওয়ারার মতো বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানীরাও রয়েছেন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার, গবেষণায় অবদান, গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার অর্জন এবং একাডেমিয়া বা শিল্প খাতে নেতৃত্বের স্বীকৃতির ভিত্তিতে এই তালিকা তৈরি করা হয়। নির্বাচিতদের ‘এশিয়ান সায়েন্টিস্ট ১০০ অনারি’ হিসেবে সম্মানিত করা হয়েছে।

বাংলাদেশিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন তরুণ গবেষক মারজানা আক্তার। তিনি শুধু তালিকায় স্থানই পাননি, চলতি বছরের নির্বাচিত বিজ্ঞানীদের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সী গবেষক হিসেবেও স্বীকৃতি পেয়েছেন। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই শিক্ষার্থী দেশের পোলট্রি খাতে প্রথমবারের মতো একটি বিশেষ ভাইরাস শনাক্ত করে ভাইরোলজি গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন মারজানা।

বিশ্বের ১৯৩টি দেশের মধ্যে নির্বাচিত মাত্র ১০ জন তরুণীর একজন হিসেবে তিনি ২০২৫ সালে জাতিসংঘের মর্যাদাপূর্ণ ‘ইয়াং উইমেন ফর বায়োসিকিউরিটি ফেলোশিপ’ লাভ করেন। বর্তমানে তিনি বায়োসিকিউরিটি, বায়োসেফটি এবং সায়েন্স ডিপ্লোম্যাসি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করছেন।

মারজানার সাফল্যের পেছনে রয়েছে কঠিন সংগ্রামের গল্পও। তার স্বামী এবং নিউজিল্যান্ডভিত্তিক ওয়্যারলেস পাওয়ার ট্রান্সফার কম্পানির সহ-প্রতিষ্ঠাতা ইউশা আরাফ জানান, মাস্টার্স অধ্যয়নের সময় গর্ভাবস্থায় ল্যাব ও গবেষণার কাজ চালিয়ে যেতে গিয়ে তিনি গুরুতর শারীরিক জটিলতার মুখোমুখি হন। এক পর্যায়ে আইসিইউতে ভর্তি থাকতে হলেও সন্তান জন্মের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তিনি সফলভাবে নিজের মাস্টার্স থিসিস ডিফেন্ড করেন।

তালিকায় স্থান পাওয়া আরেক বাংলাদেশি গবেষক ড. তাহমিদ আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে জনস্বাস্থ্য খাতে কাজ করে আসছেন। বর্তমানে আইসিডিডিআর,বির নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই গবেষক মা ও শিশুর পুষ্টিহীনতা দূরীকরণ, শিশুস্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং ডায়রিয়া প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছেন।

অন্যদিকে পরিবেশবান্ধব শিল্প প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণার স্বীকৃতি পেয়েছেন বুটেক্সের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্বাস উদ্দিন শায়ক। টেক্সটাইল শিল্পে কার্বন নিঃসরণ কমানো, টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি উদ্ভাবন তার গবেষণার মূল ক্ষেত্র। জানা গেছে, তার প্রতিষ্ঠিত ‘ডিকার্বোনাইজেশন ল্যাব’-এ কম ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করে কাপড়ে রং করার সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি নিয়ে কাজ চলছে।

DUD.NEWS

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading