মাংস খেয়ে ভুঁড়ি বেড়েছে, সমাধানে কিছু নিয়ম মেনে চলুন

মাংস খেয়ে ভুঁড়ি বেড়েছে, সমাধানে কিছু নিয়ম মেনে চলুন

উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ০৭ জুন, ২০২৬, আপডেট ১০:০০

কোরবানির ঈদ মানেই পরিবারের সঙ্গে মজাদার সব খাবারের আয়োজন। গরু-খাসির মাংসের বাহারি সব পদে ভরপুর খাবারের টেবিল। তবে উৎসবের আমেজে অনেকেই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খাবার খেয়ে ফেলেন। কয়েক দিন পরই দেখা যায় পেটের চারপাশে মেদ জমতে শুরু করেছে এবং ওজনও কিছুটা বেড়ে গেছে।

তবে এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। অতিরিক্ত মাংস খাওয়ার ফলে পেটের চর্বি বা ভুঁড়ি বেড়ে গেলে তা দ্রুত কমাতে সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন করা জরুরি। জীবনযাপনে কিছু স্বাস্থ্যকর পরিবর্তন আনলে এবং নিয়ম মেনে চললে ধীরে ধীরে কমানো সম্ভব অতিরিক্ত মেদ। আর অতিরিক্ত মাংস খাওয়ার ফলে শরীরের হজম প্রক্রিয়ার ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। ঈদের পর বা যে কোনো উৎসব-অনুষ্ঠানে বেশি পরিমাণে চর্বিযুক্ত মাংস খাওয়া হলে শরীরে অতিরিক্ত ক্যালোরি জমা হয়। এই বাড়তি মেদ বা ভুঁড়ি সহজেই ঝরিয়ে ফেলুন।

ঈদের শুরু থেকে যদি প্রতিদিন অতিরিক্ত মাংস খাওয়ার প্রবণতা থাকে, তবে পেটের মেদ কমানো কঠিন হয়ে পড়বে। তাই খাদ্যতালিকায় মাংসের পরিমাণ কমিয়ে শাকসবজি, ডাল ও সালাদের পরিমাণ বাড়ানো উচিত। এতে কম ক্যালোরি গ্রহণ হবে। এর পাশাপাশি দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূতি থাকবে।

এ সময় পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান আপনার শরীরকে স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কারণ পানি হজমে সহায়তা করে, বিপাকক্রিয়া সচল রাখে এবং অযথা ক্ষুধা লাগার প্রবণতাও কমায়। প্রতিদিন অন্তত ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

এ ছাড়া পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের হরমোনের ভারসাম্যে পরিবর্তন আসে, যা ক্ষুধা বাড়িয়ে দিতে পারে। ফলে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খাবার খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়। সুস্থ থাকতে প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করা জরুরি।

আর খাদ্য নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চাও প্রয়োজন। প্ল্যাঙ্ক, ক্রাঞ্চ বা কার্ল-আপ, সাইক্লিং কিংবা হালকা কার্ডিও ব্যায়াম পেটের চর্বি কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে শুধু পেটের নয়, পুরো শরীরের ব্যায়ামের দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

এ ছাড়া ওজন ও পেটের মেদ কমানোর সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকর উপায়গুলোর একটি হলো হাঁটা। প্রতিদিন অন্তত ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট দ্রুতগতিতে হাঁটলে শরীরের অতিরিক্ত ক্যালোরি খরচ হয় এবং ধীরে ধীরে জমে থাকা চর্বি কমতে শুরু করে।

অনেকেই ভারি খাবারের সঙ্গে কোমল পানীয় বা মিষ্টি খেতে পছন্দ করেন। কিন্তু এসব খাবারে অতিরিক্ত চিনি ও ক্যালোরি থাকে, যা দ্রুত ওজন বাড়িয়ে দেয়। তাই সফট ড্রিংকস, মিষ্টি এবং অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন।

আর রাতে ভারি খাবার খেলে তা সহজে হজম হতে চায় না এবং অতিরিক্ত ক্যালোরি শরীরে জমতে শুরু করে। তাই রাতের খাবারে মাংসের পরিমাণ কমিয়ে সবজি, সালাদ কিংবা হালকা খাবার রাখার চেষ্টা করুন। আর আঁশ ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খান। ডিম, মাছ, ডাল, ফলমূল, শাকসবজি ও ওটসে রয়েছে প্রচুর প্রোটিন ও আঁশ। এসব খাবার দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে এবং অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমায়।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading