খসড়া চুক্তিতেও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ছাড়ছে না ইরান

খসড়া চুক্তিতেও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ছাড়ছে না ইরান

উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, আপডেট ১৭:৪৮

আমেরিকার সঙ্গে আলোচনায় থাকা সম্ভাব্য খসড়া চুক্তির অধীনেও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ছাড়বে না ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম শুক্রবার (১২ জুন) এমন তথ্য জানিয়েছে।

ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, বর্তমানে চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় থাকা খসড়া নথির ‘সামগ্রিক কাঠামো’ অনুযায়ী ইরান হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা অন্য কারও কাছে হস্তান্তরের কোন প্রতিশ্রুতি দেয়নি। একই সঙ্গে আমেরিকা ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার আগে যে পরিস্থিতি ছিল, তা পুনঃপ্রতিষ্ঠার বিষয়েও কোন অঙ্গীকার করা হয়নি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর কার্যত ইরানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ইরান খুব সীমিত সংখ্যক জাহাজকে এই প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে। একই সঙ্গে দেশটি জানিয়ে দিয়েছে, প্রণালি অতিক্রম করার আগে সব জাহাজকে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর অনুমতি নিতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত নতুন হামলা বাতিল করেছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, যুদ্ধ বন্ধে একটি চুক্তি আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই স্বাক্ষর হতে পারে। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, কোন চুক্তির বিষয়ে দেশটি এখনো ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি’।

শুক্রবার (১২ জুন) ইরানের বার্থা সংস্থা মেহের নিউজের আলোচক দলের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাত দিয়ে যে নথি প্রকাশ করেছে, সেটিকে তারা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় থাকা খসড়া চুক্তির পাঠ বলে দাবি করেছে।

মেহেরের তথ্য অনুযায়ী, এই চুক্তি কার্যকর হলে লেবাননসহ সব যুদ্ধক্ষেত্রে সংঘাতের অবসান ঘটবে। পাশাপাশি ইরানের জব্দ হয়ে থাকা ২৪ বিলিয়ন বা ২ হাজার ৪০০ কোটি ডলার ছাড় করা হবে ও তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার জন্য ৬০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে।

খসড়ায় ইরানের তেল ও পেট্রোরসায়ন পণ্য বিক্রির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করার বিষয়ও রয়েছে। পাশাপাশি ১৩ এপ্রিল থেকে কার্যকর থাকা ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

মেহর বার্তা সংস্থা বলেছে, খসড়ায় যুদ্ধের কারণে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির জন্য আমেরিকা ও তার মিত্রদের ইরানকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের পুনর্গঠনের জন্য অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনা উপস্থাপনের কথাও বলা হয়েছে।

সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, ইরানের জব্দ অর্থের অন্তত অর্ধেক ছাড় না হওয়া পর্যন্ত, তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা স্থগিত না হওয়া পর্যন্ত এবং নৌ অবরোধ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত আলোচনা শুরু হবে না।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি দীর্ঘদিন ধরেই ওয়াশিংটনের সঙ্গে বিরোধের অন্যতম প্রধান বিষয়। আমেরিকা বহুদিন ধরে দাবি করে আসছে, তেহরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা ত্যাগ করতে হবে এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত বিদেশে পাঠাতে হবে।

অন্য এক প্রতিবেদনে সরকারি বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, ইরান কেবল তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েই আলোচনা করবে এবং তা হবে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের মৌলিক নীতির কাঠামোর মধ্যেই।

সংস্থাটি আরও বলেছে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সংরক্ষণের অধিকারকে ইরান অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। চূড়ান্ত চুক্তিতেও এই বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করার ওপর জোর দেওয়া হবে।

সূত্র: এএফপি

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading