উত্তর সাইপ্রাসে ফেরি ডুবে ৮ যাত্রী নিহত, ১৫ জন নিখোঁজ
উত্তরদক্ষিণ। সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, আপডেট ১৩:৩৬
ভূমধ্যসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র সাইপ্রাসের উত্তরাঞ্চলে যাত্রীবাহী ফেরি ডুবে ৮ জন নিহত হয়েছেন এবং ১৮ জন এখনও নিখোঁজ আছেন। গতকাল রবিবার স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উত্তর সাইপ্রাসের কাইরেনিয়া বন্দরের কাছে ঘটেছে এ ঘটনা।
ফেরিটিতে ২৬৭ জন যাত্রী ছিলেন। নিহত এবং নিখোঁজ ব্যতীত বাকি ২৪১ জন যাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে।
কী কারণে ফেরিটি ডুবল, তা এখনও অস্পষ্ট। বেঁচে ফেরা যাত্রীরা জানিয়েছেন, ফেরিটি এলোমেলোভাবে চলছিল। এবং বেঁচে যাওয়া যাত্রীরা জানিয়েছেন, ফেরিটি এলোমেলোভাবে চলছিল এবং পানির উপরিতলে শেষ প্রচণ্ড ধাক্কায় দুই-মাস্তুলযুক্ত জাহাজটির সামনের অংশ ভেঙে যায়, ফলে ভেতরে পানি ঢুকতে শুরু করে। ফেরিটিতেদ আটজন নাবিক ছিলেন।
স্থানীয় ও পর্যটক উভয়ের কাছে জনপ্রিয় অবকাশযাপন কেন্দ্র কাইরেনিয়ার উপকূলের ঠিক কাছেই এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। ফেরিটি ছিল বেশ কয়েকটি শাটল সামুদ্রিক পরিষেবার মধ্যে একটি, যা তুরস্কের সাথে উত্তর সাইপ্রাসকে সরাসরি সংযুক্ত করে।
১৯৭৪ সালে এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সাইপ্রাস উত্তর ও দক্ষিণ- দুই ভাগে ভাগ হয়ে যায়। দক্ষিণ সাইপ্রাস আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং ইউরোপের দেশগুলোর জোট ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য। আর পৃথক রাষ্ট্র হলেও তুরস্ক ব্যাতীত অন্য কোনো দেশ উত্তর সাইপ্রাসকে স্বীকৃতি দেয়নি। এ কারণে উত্তর সাইপ্রাসকে তুর্কি সাইপ্রাসও বলা হয়।
এই ঘটনাটি পুরো অঞ্চলজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পরেও স্বজনেরা কাইরেনিয়ার একটি স্থানীয় হাসপাতাল এবং বন্দরের ফটকের বাইরে তাদের প্রিয়জনদের খবরের অপেক্ষায় ছিলেন। তুর্কি সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট তুফান এরহুরমান বলেছেন, এই ঘটনায় তিনি ‘গভীরভাবে মর্মাহত’।
ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, লাল লাইফ জ্যাকেট পরা লোকজন উল্টে যাওয়া জাহাজটির উপরে বসে বা দাঁড়িয়ে আছেন এবং কর্তৃপক্ষ তাদের তীরে আনার জন্য কোস্টগার্ড ও ব্যক্তিগত নৌযানের সাহায্য চাইছে। বেঁচে যাওয়া এফে মাল্টিচি সিএনএন তুর্ককে বলেন, “জাহাজটি খুব বাজেভাবে নড়ছিল। এটি ক্রমাগত পানি থেকে উপরে উঠছিল এবং সজোরে আবার নিচে আছড়ে পড়ছিল। এটি প্রচণ্ডভাবে কাঁপছিল।”
“তিন-চার মিনিট পর, ফেরিটি শূন্যে অনেক উঁচুতে লাফিয়ে উঠল, তারপর সশব্দে আছড়ে পড়ল। আমরা দেখলাম, সামনের বাম দিকটা ফেটে গেল এবং পানি ঢুকতে শুরু করল”।
তুর্কি সাইপ্রাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জাহাজটির ক্যাপ্টেন এবং সাতজন নাবিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
রবিবার বিকেল নাগাদ জাহাজটি পুরোপুরি ডুবে যায়। বর্তমানে এটি সাগরের ৫১৪ মিটার (১,৬৮৬ ফুট) গভীরে আছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিখোঁজদের সন্ধানে তুরস্কের ডুবুরিরা অনুসন্ধানে সহায়তা করবে।
সংকট ব্যবস্থাপনা বৈঠকের পর এরহুরমান সাংবাদিকদের বলেন, “অনুসন্ধান অব্যাহত থাকবে। নিখোঁজদের উদ্ধারে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”
সূত্র: রয়টার্স
ইউডি/রেজা

