‘প্রাথমিক শিক্ষায় মেয়ে শিশুদের উপস্থিতি ও ফলাফল ছেলেদের চেয়ে ভালো’

‘প্রাথমিক শিক্ষায় মেয়ে শিশুদের উপস্থিতি ও ফলাফল ছেলেদের চেয়ে ভালো’

উত্তরদক্ষিণ। শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, আপডেট ১৪:২০

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (পরিকল্পনা) মো. ছাইফুল ইসলাম বলেছেন, দেশের প্রাথমিক শিক্ষায় দুই কোটিরও বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে, যার মধ্যে মেয়েদের সংখ্যাই বেশি। অনেক বিদ্যালয়ে মেয়েদের উপস্থিতি ও ফলাফল ছেলেদের তুলনায় ভালো। তাই মেয়েদের পিছিয়ে রেখে একটি জাতির উন্নয়ন সম্ভব নয়।

শনিবার ( ১৩ জুন) রাজধানীর বাংলাদেশ গার্ল গাইডস অ্যাসোসিয়েশনের জাতীয় কার্যালয়ে ‘হলদে পাখি সম্প্রসারণে বিজ্ঞ পাখি ও প্রাথমিক শিক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে’ তিনি এসব কথা বলেন।

ছাইফুল ইসলাম বলেন, যে পরিবারে মা শিক্ষিত, সেই পরিবারের সন্তানরাও শিক্ষিত হয়ে ওঠে। সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে নারীর অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নের জন্য নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। দেশে দক্ষ নার্স, চিকিৎসক ও বিভিন্ন পেশায় নারীর অংশগ্রহণ প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে গার্ল গাইডসের কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

গার্ল গাইডসের কার্যক্রম আরও বেগবান করার আহ্বান জানিয়ে যুগ্মসচিব বলেন, দেশের ৭২টি জেলায় গার্ল গাইডসের কার্যক্রম রয়েছে। এসব কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া দরকার। এ লক্ষ্যে শিক্ষা প্রশাসন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, উপজেলা ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, শিক্ষার উদ্দেশ্য শুধু মুখস্থ বিদ্যা বা পরীক্ষায় ভালো ফল করা নয়। শিক্ষার্থীদের সেবামুখী, দায়িত্বশীল ও আদর্শবান নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাও জরুরি। উন্নত দেশগুলোতে শিশুদের ছোটবেলা থেকেই নিজের কাজ নিজে করা এবং সমাজের জন্য কাজ করার মানসিকতা গড়ে তোলা হয়। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাতেও জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি বাস্তবমুখী অনুশীলনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

হলদে পাখি ও গাইডিং কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও সেবার মানসিকতা তৈরি করা সম্ভব। এসব শিক্ষার্থী ভবিষ্যতে যে ক্ষেত্রেই কাজ করুক না কেন, তারা দেশের উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন।

বাংলাদেশ গার্ল গাইডস অ্যাসোসিয়েশনের জাতীয় কমিশনার কাজী জেবুন্নেছা বেগমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে রাজধানী, ঢাকা ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের আওতাধীন বিভিন্ন জেলার ১৬ জন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, ৪৭ জন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, ৫০ জন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, ৫০ জন বিজ্ঞ পাখি (গাইড শিক্ষক), ২১ জন আঞ্চলিক কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, ২৫ জন জেলা কমিশনার, ২৫ জন স্থানীয় কমিশনার এবং জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও স্টাফসহ প্রায় ৩০০ জন অংশগ্রহণ করেন।

সম্মেলনে বাংলাদেশ গার্ল গাইডস অ্যাসোসিয়েশনের হলদে পাখি কমিশনার বেলা রাণী সরকার স্বাগত বক্তব্য দেন। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন অ্যাসোসিয়েশনের ডেপুটি জাতীয় কমিশনার (প্রোগ্রাম) অধ্যাপক ড. ইয়াসমিন আহমেদ, ঢাকা, রাজধানী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের আঞ্চলিক কমিশনার আনজুমান আরা, ইয়াসমিন আক্তার বানু ও রওশন আরা খানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading