খাবারে আতঙ্ক: কী এই আলফা-গ্যাল সিনড্রোম?

খাবারে আতঙ্ক: কী এই আলফা-গ্যাল সিনড্রোম?

উত্তরদক্ষিণ। সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, আপডেট ১৮:৩৫

পোকার কামড় থেকে লাইম ডিজিজের মতো মারাত্মক রোগ ছড়ানোর কথা সবারই জানা। তবে আমেরিকার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এখন এমন এক কম পরিচিত কিন্তু প্রাণঘাতী সমস্যা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন, যা হলো পোকার কামড় থেকে তৈরি হওয়া মাংসের অ্যালার্জি।

‘আলফা-গ্যাল সিনড্রোম’ নামের এই সমস্যাটি প্রায় ১৫ বছর আগে প্রথম একটি নির্দিষ্ট প্রজাতির পোকার কামড়ের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি মাত্র এক লোকমা মাংস বা কিছু ক্ষেত্রে দুগ্ধজাত খাবার খাওয়ার পর শরীরে চুলকানি, ডায়রিয়া ও আমবাতের মতো উপসর্গ দেখা দেওয়ায় এর প্রকোপ বাড়ার বিষয়টি সামনে আসছে। তবে সামুদ্রিক খাবার বা মুরগি ও টার্কির মাংস এবং ডিম খাওয়ার ক্ষেত্রে এই অ্যালার্জি কোনও প্রভাব ফেলে না।

কারণ কী?
ল্যাক্সটিক বা অন্যান্য ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসজনিত রোগের মতো আলফা-গ্যাল সিনড্রোম কোনও ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসের কারণে হয় না। এটি ঘটে যখন মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ‘আলফা-গ্যাল’ নামের এক ধরণের শর্করার বিরুদ্ধে অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া দেখায়। এই শর্করাটি মানুষ বা শিম্পাঞ্জি ছাড়া প্রায় সব স্তন্যপায়ী প্রাণীর মাংসে এবং নির্দিষ্ট কিছু পোকার লালাতেও পাওয়া যায়।

খরচ না করেই শপিংয়ের ‘নেশা’ মেটাতে ডোপামিন সাইট
খাবারের মাধ্যমে এটি শরীরে গেলে সাধারণত কোনও ক্ষতি হয় না। কিন্তু পোকা যখন ত্বকে কামড়ায়, তখন এই শর্করা সরাসরি রক্তে মিশে যায়। এর ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অ্যান্টিবডি তৈরি করে একে শত্রু হিসেবে চিনে নেয় এবং আক্রমণ করতে শেখে।

নর্থ ক্যারোলিনা ইউনিভার্সিটির গবেষক ড. স্কট কমিন্স বলেন, ত্বকের মাধ্যমে এই অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া খুব দ্রুত তৈরি হয়। আমরা যদি এটি স্টেক বা বারবিকিউর মতো মুখের সাহায্যে খেতাম, তবে আমাদের অ্যালার্জি হতো না।

পোকার কামড়ের কয়েক সপ্তাহ বা মাসখানেক পর মাংস বা দুগ্ধজাত খাবার খেলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়, যা সময়ের সঙ্গে আরও বাড়ে।

রোগী বাড়ার কারণ ও লক্ষণ
আমেরিকার সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)-এর ২০২৩ সালের এক সমীক্ষা অনুযায়ী, প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার আমেরিকান এই অ্যালার্জিতে ভুগছেন।

কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির গবেষক মারিয়া ডিউক-ওয়াসার বলেন, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ‘লোন স্টার’ নামক এক ধরণের পোকার বাসস্থান সম্প্রসারণের কারণে এই কেস বাড়ছে। পিঠে সাদা বিন্দুর মতো দাগ থাকা এই পোকাটি যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব ও দক্ষিণ অঞ্চলে বেশি দেখা গেলেও এখন অন্যান্য নতুন এলাকাতেও ছড়াচ্ছে। ব্লাক লেগেড পোকার মাধ্যমেও এটি ছড়ানোর ভয় পাচ্ছেন গবেষকেরা।

স্ক্রুওয়ার্ম হুমকিতে পরীক্ষার মুখে যুক্তরাষ্ট্রের জনস্বাস্থ্য
শরীরে মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট, ঠোঁট-গলা-চোখের পাতা ফুলে যাওয়া বা ডায়রিয়া, বমি ও পেটে ব্যথার মতো লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকেরা রক্ত পরীক্ষার পরামর্শ দেন। রক্তে আলফা-গ্যাল অ্যান্টিবডি শনাক্ত করা হলেও শুধু এর ওপর ভিত্তি করে রোগ নির্ণয় করা যায় না, কারণ রক্ত পরীক্ষায় অনেক সময় ফলস পজিটিভ বা ভুল ফলাফল আসতে পারে।

কোন খাবারগুলো খাওয়া যাবে না?
আক্রান্তদের গরু, শুকর বা ভেড়ার মাংস এড়িয়ে চলতে বলা হয়। তবে অনেকে দুধ, পনির বা মাখন খেতে পারেন। তীব্র অ্যালার্জি থাকলে জেলিটিন দিয়ে তৈরি মার্শম্যালো বা গামি বিয়ারও বাদ দিতে হয়। এছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তিদের হার্টের ভালভের মতো গরুর বা শুকরের অংশ দিয়ে তৈরি চিকিৎসাসামগ্রীও এড়িয়ে চলতে হতে পারে।

তরুণীদের মধ্যে টাইপ-২ ডায়াবেটিস ৪৭ শতাংশ বেড়েছে, রয়েছে যে বড় ঝুঁকি
চিকিৎসা ও স্থায়িত্ব

কিছু মানুষের ক্ষেত্রে কয়েক বছর পর এই অ্যালার্জি কমে যায়। ড. কমিন্সের ১৫ থেকে ২০ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে এমনটা ঘটেছে, তবে নতুন করে পোকার কামড় থেকে দূরে থাকা জরুরি। ২০২৪ সালে এফডিএ জোল্যায়ারনামক একটি ইনজেকশন অনুমোদন করেছে যা অসাবধানতাবশত মাংস খেয়ে ফেললে তীব্র অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া কমায়।

গবেষকেরা আশা করছেন, পূর্বে অনুমোদিত অন্যান্য ওষুধ নিয়েও কাজ করার, যা পোকার কামড়ের পরপরই প্রয়োগ করলে পুরো অ্যালার্জির প্রক্রিয়াটিকে আটকে দেওয়া সম্ভব হতে পারে।

সূত্র: এপি

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading