বৈধতা চাইছে মিয়ানমারের জান্তা সরকার, সাদরে গ্রহণ করল চীন

বৈধতা চাইছে মিয়ানমারের জান্তা সরকার, সাদরে গ্রহণ করল চীন

উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬, আপডেট ১৩:৩০

মিয়ানমারের উপর চীনের আর্শিবাদ যেন আরও নতুন মাত্রা পেল। মঙ্গলবার মিয়ানমারের জান্তা সরকারের প্রধান মিন অং হ্লাইং চীন সফরে গেলে উষ্ণ অভ্যর্থনা পান শি জিনপিংয়ের কাছ থেকে। গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সহায়তার আশা নিয়ে মিয়ানমার সরকার প্রধানের চীন সফর হয়ত বিফলে যাবে না, চীনের পক্ষ থেকে অন্তত এমন বার্তাই দেওয়া হয়েছে।

চলতি বছরের শুরুতে একপেশে একটি নির্বাচনের পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে ক্ষমতার ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ সুসংহত করতে চাচ্ছেন মিয়ানমারের সাবেক জান্তা মিন অং হ্লাইং। এজন্য বন্ধু রাষ্ট্র চীনের দ্বারস্ত হলেন তিনি।

এর আগে গত মাসের শেষে মিন অং হ্লাইং ইন্ডিয়া সফর করেন, যেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করেন তিনি।

ক্রাইসিস গ্রুপের মিয়ানমার বিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা রিচার্ড হর্সি রয়টার্সকে বলেন, “শি জিনপিং আয়োজিত এই আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় সফর একটি সুস্পষ্ট ইঙ্গিত যে, চীন মিয়ানমারের নতুন প্রশাসনের সঙ্গে পূর্ণ অংশীদার হিসেবে কাজ করতে প্রস্তুত।”

“মিন অং হ্লাইংয়ের সাম্প্রতিক সফরে ইন্ডিয়া তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানালেও, আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় সফরের পূর্ণ সম্মান দেয়নি।” — বলেন রিচার্ড হর্সি।

যদিও দৃশ্যত এটি মিন অং হ্লাইং-এর জন্য একটি বিজয়। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন যে, বেইজিং সম্ভবত তার নিজস্ব কৌশলগত স্বার্থ সুরক্ষিত করার দিকেই মনোনিবেশ করবে, যার মধ্যে রয়েছে সীমান্ত শক্তিশালী করা এবং দুর্লভ খনিজ পদার্থের মতো গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ আহরণ করা।

চীন মিয়ানমারের শীর্ষ বাণিজ্যিক অংশীদার এবং বিনিয়োগকারী, যা একটি আন্তঃদেশীয় তেল ও গ্যাস পাইপলাইন এবং একটি গভীর সমুদ্রবন্দরসহ প্রধান বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে পারস্পারিক শক্তিশালী সম্পর্ক বজায় রেখেছে।

বেইজিং, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র সরবরাহকারী এবং কূটনৈতিক অংশীদার হিসেবেও কাজ করে। এমনকি কখনও কখনও সীমান্তের কিছু অংশে যুদ্ধবিরতি মধ্যস্থতা করতেও সাহায্য করে, যেখানে চীনের সাথে গভীর সম্পর্কযুক্ত জাতিগত সেনাবাহিনীগুলোর আধিপত্য রয়েছে।

“চীনের স্বার্থ আমেরিকায় ব্যবস্থায় নয়, বরং দুর্লভ খনিজ পদার্থ, অবকাঠামো, খনিজ সম্পদ এবং ইন্ডিয়া মহাসাগরের অর্থনৈতিক করিডোর সুরক্ষিত করার ক্ষেত্রে,” —বলেছেন ডেভিড ম্যাথিসন, থাইল্যান্ড-ভিত্তিক একজন স্বাধীন বিশ্লেষক। যিনি মিয়ানমারের গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন।

চীনও মনে করে যে পশ্চিমারা মিয়ানমার থেকে পিছু হটছে এবং বেইজিং দেশটির ওপর নতুন আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করবে।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading