চট্টগ্রামে আজ দুই আলোচিত শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায়
উত্তরদক্ষিণ। বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, আপডেট ১২:১৬
চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় চাঞ্চল্যকর চার বছরের শিশু ধর্ষণ মামলা এবং ইপিজেড এলাকায় শিশু আলিনা ইসলাম আয়াতকে হত্যা করে মরদেহ ছয় টুকরো করার আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আজ বুধবার (১৭ জুন)। একই দিনে দুটি স্পর্শকাতর ও লোমহর্ষক ঘটনার রায়কে কেন্দ্র করে আদালত পাড়ায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে চট্টগ্রামের মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক বাকলিয়ার শিশু ধর্ষণ মামলার রায় ঘোষণা করবেন। এই মামলার একমাত্র আসামি মুনির হোসেন।
মাত্র ১৩ কার্যদিবসের মধ্যে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে, যা দেশের বিচারিক ইতিহাসে একটি নতুন দৃষ্টান্ত ও রেকর্ড। গত ২১ মে চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় চার বছরের ওই শিশুকে ধর্ষণ করা হয়। দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করা এই ঘটনায় দ্রুততম সময়ে তদন্ত শেষ করে গত ৪ জুন আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেয় পুলিশ। মামলায় মোট ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেছেন আদালত। যদিও আদালতে শুনানির সময় আসামি মুনির নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছে।
এদিকে চট্টগ্রাম নগরীর ইপিজেড এলাকায় ২০২২ সালের বহুল আলোচিত শিশু আলিনা ইসলাম আয়াতকে হত্যা করে মরদেহ ছয় টুকরো করার মামলার রায়ও আজ ঘোষণা করা হবে। চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাসের আদালতে এই রায় ঘোষণা করার কথা রয়েছে।
এর আগে শনিবার (১৩ জুন) এই মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় মামলায় মোট ৩৩ জন সাক্ষী আদালতে তাদের সাক্ষ্য দিয়েছেন।
২০২২ সালের ১৪ নভেম্বর নগরের ইপিজেড থানার নয়ারহাট ওয়াছ মুন্সী বাড়ির বাসিন্দা সোহেল রানার পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে আলিনা ইসলাম আয়াত নিখোঁজ হয়। ওই দিন বিকেলে ঘরের পাশে মসজিদে আরবি পড়তে গিয়ে আর ফিরে আসেনি সে। পরবর্তীতে এই ঘটনায় প্রতিবেশী আবীর আলীকে আটক করে পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন)। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে আবীর স্বীকার করেন যে, মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে আয়াতকে অপহরণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে প্রমাণ লোপাট করতে মরদেহ কেটে ছয় টুকরো করে সাগরে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
ইউডি/রেজা

