প্রথম বিশ্বকাপ গোলে পর্তুগালকে চমকে দিলো কঙ্গো

প্রথম বিশ্বকাপ গোলে পর্তুগালকে চমকে দিলো কঙ্গো

উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, আপডেট ০১:২৫

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ষষ্ঠ বিশ্বকাপের শুরুটা হলো হতাশায় ঘেরা। ১৯৭৪ সালে জায়ার নামে প্রথম বিশ্বকাপ খেলা ডিআর কঙ্গো ৫২ বছর পর ফিরে তার দল পর্তুগালকে রুখে দিলো। ম্যাচের শুরুতে লিড নেয় পর্তুগিজরা। কিন্তু হাফটাইমের আগে শেষ মুহূর্তে গোল করে সমতা ফেরায় কঙ্গো।

কে গ্রুপের প্রথম ম্যাচেই বড় চমকের দেখা মিলল। ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের ৪৬ নম্বরে থাকা কঙ্গো বিশ্বকাপের প্রথম পয়েন্ট পেল তাদের চেয়ে ৪১ ধাপ এগিয়ে থাকা একটি দলের বিপক্ষে। এমনকি এই এক পয়েন্ট নিয়েই গ্রুপের শীর্ষে উঠে গেছে আফ্রিকান দেশটি।

বিশ্বকাপের আগে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে গিয়েছে কঙ্গো। তারপর আন্তর্জাতিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে তাদের দুর্দান্ত এক প্রত্যাবর্তন হলো।

তারা ম্যাচের শুরুর দিকের কঠিন সময়টি কাটিয়ে ওঠে। খেলা যত গড়িয়েছে, তাদের আত্মবিশ্বাস ততই বেড়েছে। হাফটাইমের আগমুহূর্তে সমতাসূচক গোল করার পর দ্বিতীয়ার্ধে তারা ম্যাচটি জিতেও যেতে পারত।

১৯৭৪ সালে একমাত্র বিশ্বকাপে তিন ম্যাচে ১৪ গোল হজম করা দেশটি ইউরোপিয়ান জায়ান্টদের রুখে দিলো। নিশ্চিতভাবে এই ফল তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিলো।

ম্যাচের শুরুতেই লিড নেয় পর্তুগাল। বার্সা ডিফেন্ডার জোয়াও কানসেলোর বিপজ্জনক ক্রসে বল ভেসে যায় পেনাল্টি এরিয়ায়। পেদ্রো নেতো সেখান থেকে হেড ক্রস করেন। পর্তুগালের এই স্কোয়াডের সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় জোয়াও নেভেস লাফিয়ে হেড করলেন। ম্যাচ ঘড়িতে তখন সময় ৫ মিনিট ৩২ সেকেন্ড, চলতি বিশ্বকাপে দ্বিতীয় দ্রুততম গোলে এগিয়ে গেল পর্তুগাল।

কিন্তু প্রথমার্ধের নাটকীয় সমাপ্তি ঘটে। কঙ্গো তাদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ গোল করে পর্তুগালের বিপক্ষে সমতা ফিরিয়ে আনে ইনজুরি টাইমের পঞ্চম মিনিটে।

ঠিক প্রথমার্ধ শেষের বাঁশি বাজার মুহূর্তে ডিবক্সের মধ্যে সম্পূর্ণ অরক্ষিত থাকা উইসা হেড করে জাল কাঁপালেন। মাসুয়াকুর একটি ক্রস থেকে বল জালে জড়িয়ে কঙ্গোর সমর্থকদের স্বপ্নের রাজ্যে ভাসান তিনি।

কঙ্গোর জন্য এই গোলটি প্রাপ্য ছিল। ম্যাচের কঠিন শুরুর পর ধীরে ধীরে নিজেদের গুছিয়ে নিয়েছিল তারা। পর্তুগাল অবশ্য ম্যাচের শুরুতেই আক্রমণাত্মক খেলেছিল। তবে রবার্তো মার্তিনেসের দল সেই লিড আর বাড়িয়ে নিতে পারেনি। বাকি সময়ে কঙ্গোর গোলপোস্টে এমপাসিওকে খুব একটা কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়নি।

প্রথমার্ধের সময় যত গড়িয়েছে, এই আফ্রিকান দলটির আত্মবিশ্বাস ততই বেড়েছে। কঙ্গো ১১তম মিনিটে প্রথম আক্রমণে যায়। উইসা জায়গা বের করে লক্ষ্যে শট নেন। অল্পের জন্য গোলপোস্ট ঘেষে বেরিয়ে যায় বল। দুই মিনিট পর আরেকটি সুযোগ। বাকাম্বুর বক্সের প্রান্ত থেকে নেওয়া শট আরাউজো ব্লক করে ফেরান।

এই দুটি আক্রমুণেই যেন কঙ্গো চমক দেখানোর আত্মবিশ্বাস পেয়ে যায়। হাফটাইম শেষ করে গোল দিয়ে।

দলের তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো প্রথমার্ধে ছিলেন একেবারে বিবর্ণ। মাত্র ১৭ বার বলে পা লাগাতে পেরেছেন তিনি, যা দলের অন্য যে কারও চেয়ে কম।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading