লোহিত সাগরে দুই যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের ঘোষণা জার্মানির

লোহিত সাগরে দুই যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের ঘোষণা জার্মানির

উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, আপডেট ১৬:০৫

লোহিত সাগরে নৌবাহিনীর দুই জাহাজ মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে জার্মানি। হরমুজ প্রণালিতে সম্ভাব্য মাইন অপসারণ অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে পূর্ব ভূমধ্যসাগর থেকে জাহাজ দুটি স্থানান্তর করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস এই তথ্য জানিয়েছেন। খবর আনাদোলু এজেন্সির।

জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, এই মুহূর্তে আমাদের মাইন সুপার ‘ফুলদা’ এবং সরবরাহকারী জাহাজ ‘মোজেল’ সুয়েজ খাল অতিক্রম করে লোহিত সাগরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

পিস্টোরিয়াস এ অভিযানকে আগাম পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এ অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক অভিযান শুরু হলে সর্বোচ্চ কম সময়ের মধ্যে সাড়া দেওয়া।

তিনি বলেন, প্রয়োজন দেখা দিলে এবং বাস্তবে অভিযান শুরু হলে আমরা দ্রুত পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছি। আমরা সবার আগে দ্রুততম সময়ে হরমুজ প্রণালিতে পৌঁছাতে চাই।

জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এ নৌরুটে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে জার্মান সারকিভাবে প্রস্তুত রয়েছে। যেকোন সেনা বা জাহাজ মোতায়েনের জন্য আন্তর্জাতিক চুক্তি এবং জার্মানির পার্লামেন্টের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

তিনি বলেন, আমেরিকা ও ইরান চুক্তির বিস্তারিত নিয়ে একমত হতে হবে। এরপর জাতিসংঘ বা ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে আন্তর্জাতিক ম্যান্ডেট তথা আইনি নির্দেশনা জারি করতে হবে। এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে জার্মান সরকার পার্লামেন্টে অনুমোদনের জন্য আবেদন করবে।

উল্লেখ্য, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে চুক্তি করেছে আমেরিকা ও ইরান। এ চুক্তিটি স্বাক্ষরের পর থেকে কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছেন হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা।

ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বেইনসে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে যোগদানের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এই চুক্তির ফলে ‘হরমুজ প্রণালি’ আবারও উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে।

দুই দেশের মধ্যকার চুক্তিটি মূলত একটি সমঝোতা স্মারক। এতে ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এবং দেশটির ‘পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের’ জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠন করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি শেষে আমেরিকা, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এটিই প্রথম বড় কোন কূটনৈতিক সাফল্য।

ট্রাম্প প্রশাসন এই চুক্তিকে ‘পারফরম্যান্স-ভিত্তিক’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। অর্থাৎ ইরান প্রতিশ্রুতি রক্ষা করলে চুক্তির সুবিধাগুলো পাবে। চুক্তির অনেকগুলো অমীমাংসিত বিষয় রয়েছে। এসব বিষয় চূড়ান্ত চুক্তিতে এবং ধাপে ধাপে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading