সরকারবিরোধী বিক্ষোভের জেরে বলিভিয়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা
উত্তরদক্ষিণ। শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, আপডেট ১৩:৫৯
ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় ও অর্থনৈতিক চাপের বিরুদ্ধে প্রায় দুই মাস ধরে চলা বিক্ষোভের জেরে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ। স্থানীয় সময় শনিবার (২০ জুন) জরুরি অবস্থার ঘোষণা দেন তিনি।
সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারবিরোধী এই বিক্ষোভে শ্রমিক ইউনিয়ন ও কৃষক সংগঠনগুলোর পাশাপাশি সাবেক বামপন্থি প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেসের সমর্থন রয়েছে। বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্ট পাজের পদত্যাগ দাবি করছেন। টানা সড়ক অবরোধের কারণে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে খাদ্য, জ্বালানি ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট দেখা দিয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, গত প্রায় ৫০ দিনে এই অবরোধ দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে কার্যত স্থবির করে দিয়েছে।
জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট পাজ বলেন, দেশের সড়কপথ মুক্ত করতে আমি জরুরি অবস্থা কার্যকরের নির্দেশ দিয়েছি। বলিভিয়ার জনগণ আর এমন অবরোধের জিম্মি হয়ে থাকতে পারে না। এই অবস্থা তাদের কাজ, পড়াশোনা, চিকিৎসাসেবা গ্রহণ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহ এবং পরিবারের জন্য জীবিকা নিশ্চিত করাকে বাধাগ্রস্ত করছে।’
জরুরি অবস্থা ঘোষণার ফলে দেশটিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনা মোতায়েনের পথ উন্মুক্ত হয়েছে। সরকার আশা করছে, এর মাধ্যমে স্বাভাবিক জনজীবন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে।
তবে বিরোধী দল ও আন্দোলনকারীরা সরকারের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে আসছেন। তাদের দাবি, অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সরকারের ব্যর্থতার কারণেই জনগণ রাস্তায় নেমেছে এবং সমস্যার রাজনৈতিক সমাধান ছাড়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে না।
ইউডি/রেজা

