বিক্ষোভে উত্তাল আজাদ কাশ্মির, নিহত ২৪

বিক্ষোভে উত্তাল আজাদ কাশ্মির, নিহত ২৪

উত্তরদক্ষিণ। শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, আপডেট ১৬:১৭

অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে পাকিস্তানের অধিকৃত কাশ্মিরের আজাদ কাশ্মির অঞ্চল। পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ইতোমধ্যে সেখানে নিহত হয়েছেন ২৪ জন।

১৯৪৭ সালে জম্মু-কাশ্মিরের দু’টি অঞ্চল দখল করে পাকিস্তান— আজাদ কাশ্মির এবং গিলগিট-বাল্টিস্তান। দু’টিই পাকিস্তানের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং দু’টিতেই প্রাদেশিক আইনসভা বা বিধানসভা রয়েছে। আজাদ কাশ্মিরের বিধানসভায় আসনসংখ্যা ৪৫টি। সেই ৪২টি আসনের মধ্যে আবার ১২টি আসন ইন্ডিয়ার জম্মু-কাশ্মির থেকে আসা উদ্বাস্তুদের জন্য সংরক্ষিত।

বিধানসভায় সংরক্ষণ ব্যবস্থা তুলে দেওয়া এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির দাবিতে গত ৫ জুন থেকে আন্দোলন শুরু করে আজাদ কাশ্মিরভিত্তিক রাজনৈতিক দল জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএএকে)। আন্দোলনের অংশ হিসেবে ৯ জুন হরতালও ডাকে জেএএকে। মূলত সেই হরতাল থেকেই পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘাত শুরু হয় জেএএকে’র।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাতে জানা গেছে, আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে গত প্রায় দু’সপ্তাহে নিহত হয়েছেন ২৪ জন, আহত হয়েছেন আরও বহুসংখ্যক। সেইসঙ্গে বিক্ষোভে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে এ পর্যন্ত জেএএকের ৫১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এছাড়া বিক্ষোভকারীদের ছোড়া ইট-পাটকেলে গত প্রায় দু’সপ্তাহে ৯৭ জন পুলিশ কর্মকর্তা এবং বেশ কয়েকজন পুলিশসদস্য নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

আজাদ কাশ্মিরের পুলিশপ্রধান লিয়াকত আলী মালিক এএফপিকে বলেছেন, বিক্ষোভের মূল কেন্দ্র এখন রাওয়ালকোট শহর। এই শহরটি আজাদ কাশ্মিরের রাজধানী মুজাফফরাবাদ থেকে ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণে।

বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যে কারফিউ জারি করেছে পুলিশ। শহরের মূল সড়কগুলো এবং ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে; ব্যাপকমাত্রায় সীমিত করা হয়েছে সংবাদমাধ্যমের উপস্থিতিও।

এদিকে বিক্ষোভ-সংঘর্ষ ও কারফিউয়ের কারণে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে আজাদ কাশ্মির। খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ তীব্রভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

মুজাফফরাবাদের বাসিন্দা মুহম্মদ মাসকিন এএফপিকে বলেন, “আমি ওষুধের জন্য গত কয়েকদিন ধরে ঘুরছি, এখনও পাইনি। এমনকি অনেক বড় ওষুধের দোকানগুলো পর্যন্ত বন্ধ। যেসব দোকান খোলা, সেগুলোর সরবরাহ শেষ হয়ে গেছে।”

আরেক বাসিন্দা সাবার হোসেন বলেন, “গত আটদিন ধরে আমরা খুব কঠিন সময় পার করছি। বাজারগুলো বন্ধ আছে। শাক-সবজি ছাড়া কিছুই পাওয়া যাচ্ছে না।”

সূত্র: এএফপি, গালফ টুডে

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading