মা ও দুই মেয়েকে কুপিয়ে হত্যায় অভিযুক্ত পিটুনিতে মারা গেছেন

মা ও দুই মেয়েকে কুপিয়ে হত্যায় অভিযুক্ত পিটুনিতে মারা গেছেন

উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, আপডেট ১৫:৫৯

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মা ও দুই মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আহত আরেক কিশোরীকে পাঠানো হয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

এদিকে ঘটনায় অভিযুক্ত হকার জহির হোসেনকে স্থানীয়রা ধরে পিটুনি দিয়েছেন। তাকে সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে রায়পুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোডাউন রোড এলাকার ভাড়া বাসায় এই ঘটনা ঘটে। পিটুনি দেওয়া জহির দুপুরের দিকে মারা যান।

নিহতরা হলেন- মা শাহিনুর বেগম (৩৮), তার বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২১) ও ছোট মেয়ে শিফা আক্তার (৯)। এ ছাড়া আহত হয়েছেন মেজো মেয়ে কলেজছাত্রী ইকরা আক্তার (১৭)। পিটুনির শিকার ভ্রাম্যমাণ হকার জহির হোসেন দুপুরে ঢাকায় নেওয়ার পথে মারা যান।

নিহতদের বাড়ি কুমিল্লা জেলায়। তারা দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে ঘটনাস্থলে ভাড়া থাকেন। নিহত সায়মা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও আহত ইকরা রায়পুর কাজী ফারুকী কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রী। তাদের বাবা কামাল হোসেন ২০১৯ সালে কেরোয়া গ্রামে রাস্তায় পড়ে থাকা তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘ কয়েকবছর ধরে শাহীনুর তার সন্তানদের নিয়ে ঘটনাস্থলে ভাড়া বাসায় থাকেন। কয়েক বছর আগে তার স্বামী কামাল বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। এরপর থেকে ৩ মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে শাহীনুর ওই বাসায় বসবাস করে আসছেন। সকালে তিন মেয়েসহ শাহীনুরকে কুপিয়ে হত্যা করেন অজ্ঞাত যুবক। এ ঘটনায় স্থানীয়রা সন্দেহভাজন জহিরকে পিটুনি দেয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঘটনার সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টাকালে উত্তেজিত জনতার নিক্ষেপ করা ইটপাটকেলের আঘাতে পুলিশের ৭ জন আহত হয়েছেন।

রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বাহারুল আলম বলেন, হাসপাতালে পাঁচ জনকে আহত অবস্থায় আনা হয়েছে। এর মধ্যে দুই মেয়ে ও তাদের মা মারা গেছেন। এ ছাড়া তার এক মেয়েকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তাদের সবার শরীরের বিভিন্ন অংশে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। অভিযুক্ত একজনকে পিটুনি দিয়ে আহত করা হয়। তার মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে।

সহকারী পুলিশ সুপার (রায়পুর সার্কেল) আব্দুর রাশেদ বলেন, ৩ জন নিহত হয়েছেন। তাদের লাশ হাসপাতালে রয়েছে। একজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়। এ ছাড়া অভিযুক্ত যুবককে পিটুনি দিয়েছে জনতা। তাকে সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হলে সে পথেই মারা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে উত্তেজিতরা ইটপাটকেল ছুড়লে পুলিশের ৭ সদস্য আহত হয়।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading