শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা আছে: তথ্য উপদেষ্টা

শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা আছে: তথ্য উপদেষ্টা

উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, আপডেট ১২:৫৫

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা আছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর বিভিন্ন সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ছড়ায়। এ বিষয়ে ওই বছরের ৫ ডিসেম্বর তার সব ধরনের বিদ্বেষমূলক বক্তব্য গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারে নিষেধাজ্ঞা দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

এরপর গত বছরের ১৭ নভেম্বর জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডিত শেখ হাসিনার বক্তব্য ও বিবৃতি প্রচার না করতে গণমাধ্যমকে নির্দেশ দেয় জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সি। টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেয়া হয়।

সম্প্রতি ফের তার সাক্ষাৎকার ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তার সেই সাক্ষাৎকার নানভাবে ছড়াচ্ছে।

এ নিয়ে আজ ব্রিফিংয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হওয়ায় শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা আছে। সেই ক্ষেত্রে গণমাধ্যমগুলো আইন এবং রীতিনীতি মেনে প্রচার করবে এবং এক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছি।

এদিকে, ব্রিফিংয়ে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফর নিয়েও কথা বলেছেন ডা. জাহেদ উর রহমান।

প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফর অত্যন্ত সফল হয়েছে জানিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সরকার দেশের স্বার্থ রক্ষা করেই পররাষ্ট্রনীতি ঠিক করবে। বাংলাদেশের সঙ্গে যেকোনো দেশের কানেক্টিভিটি হলে সেটি দেশের স্বার্থ রক্ষা করেই করা হবে। কানেক্টিভিটির বিষয়ে সরকারের আগ্রহ আছে। চীনের সঙ্গে কানেক্টিভিটির সম্ভাব্যতা খতিয়ে দেখা হবে।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, তিস্তায় আরও একটি ব্যারাজ নির্মাণ করা হবে, যাতে বর্ষার পানি ধরে রাখা যায়। দেশের জনগণ এবং স্বার্থ অনুযায়ী তিস্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেবে। তবে এটি এখনও নিশ্চিত নয়।

‘চীনের এ ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সক্ষমতা রয়েছে। চায়নার অর্থায়নে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে’, যোগ করেন তিনি।

এ ছাড়া, তিনি বলেন, টিসিবির মাধ্যমে পণ্য বিক্রি চলছে। তবে জনগণের কাছে খাদ্যপণ্য এমনভাবে পৌঁছে দেয়া হবে, এক সময় টিসিবির এই লাইন থাকবে না, প্রয়োজনই হবে না।

এ সময় তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উচিত হবে, স্বাধীন কমিশন হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্নীতি খতিয়ে দেখা। দুদকের আওয়ামী লীগের সময়ের দুর্নীতি এবং বর্তমান সরকারের দুর্নীতিও খতিয়ে দেখা উচিত।

‘দেশের বিভিন্ন স্থানে আরবি হরফে লেখা পতাকা টানানোর বিষয়টি সরকারের নজরে রয়েছে। এ সম্পর্কে যেন ভুল বার্তা না যায়, সেই কারণে পতাকা টানানোর বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে’, যোগ করেন তিনি।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading