গভীরতম কূপে ৪ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সম্ভাবনা
উত্তরদক্ষিণ। সোমবার, ০৬ জুলাই, ২০২৬, আপডেট ১২:১৫
তিতাস-৩১ কূপের পর স্থলভাগে আরও তিনটি গভীর অনুসন্ধান কূপ খননের উদ্যোগ নিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। নতুন কূপগুলো খনন করা হবে কুমিল্লার বাখরাবাদ, শ্রীকাইল এবং পাবনার মোবারকপুরে। জ্বালানি বিভাগের ধারণা, এই চারটি কূপে মিলিয়ে প্রায় ৪ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সম্ভাব্য মজুত রয়েছে। জ্বালানি সংকটের সময়ে এই গভীর অনুসন্ধান কার্যক্রমকে আশার আলো হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
জ্বালানি সংকটের মধ্যেই গ্যাস অনুসন্ধানে নতুন সম্ভাবনার দিকে এগোচ্ছে সরকার। তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ৩১ নম্বর কূপে চলছে দেশের অন্যতম গভীর অনুসন্ধান কার্যক্রম। এখানে প্রায় ৫ হাজার ৬০০ মিটার গভীর পর্যন্ত খনন করা হবে। ধারণা করা হচ্ছে, এই কূপে প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের মজুত থাকতে পারে।
সফল হলে তিতাস-৩১ কূপ থেকে প্রতিদিন প্রায় ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব হবে। দেশের স্থলভাগে এটিই সবচেয়ে গভীর অনুসন্ধান কার্যক্রম, যা জ্বালানি খাতে নতুন সম্ভাবনার সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। নীতিনির্ধারকরা বলছেন, একই প্রযুক্তি ও একই ধরনের গভীরতায় দেশের আরও কয়েকটি স্থানে কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে।
এর মাধ্যমে নতুন গ্যাসের মজুত আবিষ্কারের আশা করছে জ্বালানি বিভাগ। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, তিতাস-৩১ কূপের কাজ শেষ হলে একই রিগ বা খননযন্ত্র কুমিল্লার বাখরাবাদে নেয়া হবে। সেখানে ৪ হাজার ৩৬০ মিটার গভীর পর্যন্ত খনন করা হবে। এ কূপ থেকে প্রতিদিন প্রায় ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এরপর কুমিল্লার শ্রীকাইল এবং পাবনার মোবারকপুরে ৬ হাজার মিটার গভীর পর্যন্ত কূপ খনন করা হবে। সব মিলিয়ে তিতাসসহ চারটি গভীর অনুসন্ধান কূপে প্রায় ৪ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সম্ভাব্য মজুত রয়েছে বলে মনে করছে জ্বালানি বিভাগ।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে গ্যাস অনুসন্ধান অব্যাহত রাখতেই হবে। পুরোপুরি আমদানিনির্ভর হলে যুদ্ধ বা বৈশ্বিক সংকটের সময় বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে হয়। তাই অনুসন্ধান কার্যক্রমের কোনো বিকল্প নেই।
জ্বালানি সংকটের মধ্যে গভীর অনুসন্ধান কূপ খননকে ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে তারা বলছেন, এ ধরনের খননকাজে কারিগরি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। বাপেক্সের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মর্তুজা আহমেদ ফারুক বলেন, দেশে উচ্চচাপের (হাই প্রেসার) স্তর রয়েছে, যেখানে খনন করা অত্যন্ত কঠিন। এখন পর্যন্ত দেশে কোনো কূপে এই স্তর অতিক্রম করে খনন করা হয়নি। তাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে উচ্চচাপের স্তরে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে খননকাজ পরিচালনা করা।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন বলেন, দেশে আগে যেভাবে গভীর কূপ খনন হয়নি, এখন সেই উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এটি খুবই ইতিবাচক। তবে এ ধরনের কার্যক্রম যেন অর্থের অভাবে থেমে না যায়, সেদিকেও নজর রাখতে হবে।
দেশে সাধারণত আড়াই হাজার থেকে ৪ হাজার মিটার গভীর পর্যন্ত কূপ খনন করা হয়। এর আগে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৯৭৭ মিটার গভীরতায় কূপ খনন করা হয়েছিল ফেঞ্চুগঞ্জে।
ইউডি/রেজা

