মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যেই তেল উৎপাদনের কোটা বাড়াচ্ছে ওপেক

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যেই তেল উৎপাদনের কোটা বাড়াচ্ছে ওপেক

উত্তরদক্ষিণ। সোমবার, ০৬ জুলাই, ২০২৬, আপডেট ০৯:০০

ইরান যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিপর্যস্ত পরিস্থিতির মধ্যে ওপেক প্লাস তেল উৎপাদনের কোটা বা সীমা পুনরায় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রবিবার(৫ জুলাই) সৌদি আরব, রাশিয়া, ইরাক, কুয়েত, কাজাখস্তান, আলজেরিয়া ও ওমানের মতো প্রধান ওপেকের সদস্য দেশগুলোর জোটের মন্ত্রীরা ভার্চুয়ালি বৈঠকে মিলিত হন।

সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা দৈনিক ১ লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদন সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।যা চলতি বছরের আগস্ট মাসে কার্যকর করা হবে।

ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়। এতে উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের উৎপাদন কমাতে হয়েছিল। এর ফলে বেশ কয়েক মাস ধরে তাদের তেল রপ্তানি বন্ধ ছিল।

ওপেকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিক থেকে মে মাস পর্যন্ত কোটা বাড়াতে যাওয়া সাতটি দেশের মধ্যে সৌদি আরব, ইরাক ও কুয়েতের সম্মিলিত উৎপাদন দৈনিক প্রায় ৬০ লাখ ব্যারেল কমে গিয়েছিল। তবে ১৭ জুন তেহরান ও ওয়াশিংটন একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করে। এর আওতায় তারা চুক্তির পরবর্তী আলোচনা চলাকালীন হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচলের পথে সৃষ্ট বাধা দূর করার প্রতিশ্রুতি দেয়।

সুইস ব্যাংক ইউবিএস-এর পণ্যবাজার বিশ্লেষক জিওভান্নি স্টাউনোভো এএফপিকে বলেন, আপাতত উৎপাদন সম্ভবত ওপেকের লক্ষ্যমাত্রার নিচেই রয়েছে।

সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর থেকে জাহাজ চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার প্রত্যাশায় তেলের দামও দ্রুত কমে যুদ্ধের আগের পর্যায়ের কাছাকাছি নেমে এসেছে।

ব্লুমবার্গ এজেন্সির উদ্ধৃতি দিয়ে একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহ হয়তো ইতোমধ্যেই দৈনিক এক কোটি (১০ মিলিয়ন) ব্যারেল ছাড়িয়ে গেছে। তবে স্যাক্সো ব্যাংকের বিশ্লেষক ওলে হ্যানসেন বলেন, বর্তমানে যে তেল এই প্রণালী দিয়ে যাচ্ছে, তা এতদিন ট্যাঙ্কার বা সংরক্ষণাগারে জমা ছিল। তিনি আরও বলেন, বন্ধ হয়ে যাওয়া উৎপাদন পুনরায় চালু করতে সময় লাগবে।

তিনি বলেন, যদি জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হতে থাকে, তবে জুলাই মাসে পরিস্থিতির উন্নতি দেখা যাবে এবং সম্ভবত আগস্ট মাসেই উৎপাদন বৃদ্ধির গতি আরও ত্বরান্বিত হবে।

রিস্টাড এনার্জি-র বিশ্লেষক হোর্হে লিওন বলেছেন, আগামী বছরের জন্য সবাই উদ্বৃত্ত পরিস্থিতির আশঙ্কা করছে। এরই মধ্যে মে মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বেরিয়ে যাওয়ার ফলে ওপেক প্লাস কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছে। এখন একদিকে যখন সদস্য দেশগুলো উৎপাদন বাড়ানোর জন্য চাপ দেবে, তখন জোটটিকে নিম্নমুখী দাম সামাল দেওয়ার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

ইরাকের তেল মন্ত্রণালয় জুনের শেষের দিকে জানিয়েছে, বিশেষ করে ইরাক এই জোটের কাছে তাদের উৎপাদন কোটা বাড়ানোর অনুরোধ করেছে, যাতে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের সময় যে ঘাটতি তৈরি হয়েছিল তা পুষিয়ে নেওয়া যায়।

তবে হ্যানসেন বলেছেন, উচ্চতর কোটার বিষয়টি তাৎক্ষণিক কোনো প্রয়োজনীয়তা নয়, কারণ উৎপাদনের পরিমাণ এখনও সংঘাত-পূর্ববর্তী পর্যায়ের চেয়ে অনেক নিচে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ইরাকের অনুরোধটি হয়তো ২০২৭ সালের সক্ষমতা পর্যালোচনার অংশ হতে পারে, যেখানে উৎপাদনের ভিত্তি-মাত্রা বা ‘বেসলাইন’ খতিয়ে দেখা হবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বছরের শেষে ওপেক প্লাস সদস্য দেশগুলোর অধিক উৎপাদনের সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে তাদের কোটা পুনর্বিবেচনা করতে যাচ্ছে। যা একটি জটিল বা স্পর্শকাতর বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

সূত্র: এএফপি।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading