ন্যাটো সম্মেলনের আগের দিন কিয়েভে রাশিয়ার ভয়াবহ হামলা, নিহত অন্তত ১১

ন্যাটো সম্মেলনের আগের দিন কিয়েভে রাশিয়ার ভয়াবহ হামলা, নিহত অন্তত ১১

উত্তরদক্ষিণ। সোমবার, ০৬ জুলাই, ২০২৬, আপডেট ১৪:৫০

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। এ ঘটনায় অন্তত ১১ জন নিহত ও ৪৬ জন আহত হয়েছেন।

কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো হতাহতের এ তথ্য জানিয়েছেন বলে সোমবার (৬ জুলাই) বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

তকাচেঙ্কো টেলিগ্রামে জানান, শহরের ২০টিরও বেশি স্থানে উদ্ধার অভিযান চলছে। হামলায় অন্তত দুটি জেলায় বহুতল আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের আগের দিন এ হামলা চালানো হলো। তুরস্কে অনুষ্ঠিতব্য ওই সম্মেলনের ফাঁকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

সর্বশেষ হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছিলেন, বৃহস্পতিবারের প্রাণঘাতী হামলার পর মস্কো কিয়েভে আরও একটি বড় হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বৃহস্পতিবারের ওই হামলায় ৩০ জন নিহত হয়েছিলেন।

কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানান, রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শহরের বিভিন্ন স্থাপনায় আঘাত হেনেছে। এতে কয়েকটি আবাসিক ভবনে আগুন লেগে যায়। তিনি আরও জানান, হামলায় কয়েকটি গুদামঘর এবং একটি গ্যারেজ ওয়ার্কশপও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এর আগে রবিবার সন্ধ্যায় ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর ঝাপোরিঝঝিয়ায় দুটি রুশ গাইডেড বোমা আঘাত হানে। হামলায় দায়িত্ব পালনরত এক পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন এবং গুরুতর আহত হন আরও দুই পুলিশ সদস্য। এছাড়া দুই শিশুসহ অন্তত ১৩ জন আহত হন।

আঞ্চলিক গভর্নর জানান, হামলায় আবাসিক ভবন, ব্যক্তিগত বাড়িঘর ও অন্তত ৩৫টি অ্যাপার্টমেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একই সময়ে পূর্ব ইউক্রেনের কৌশলগত শহর কস্তিয়ানতিনিভকা আবারও দখলের দাবি করেছে রাশিয়া। শহরটি পুরোপুরি রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে এবং নিহত ইউক্রেনীয় সেনাদের মরদেহ হস্তান্তরের জন্য ছয় ঘণ্টার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবও দেয়া হয়েছিল বলে দাবি মস্কোর। তবে ইউক্রেন সেই প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি বলেও দাবি করে ক্রেমলিন।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, সীমান্তবর্তী রুশ অঞ্চলগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে ইউক্রেন সীমান্তজুড়ে ‘বাফার জোন’ গড়ে তোলা হচ্ছে। তার দাবি, খারকিভ, সুমি ও দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের অংশজুড়ে এই পরিকল্পনা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও সামরিক কমান্ডারদের সঙ্গে বৈঠকে একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।

তবে, রাশিয়ার এসব দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তার অভিযোগ, কস্তিয়ানতিনিভকার পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্বকে বিভ্রান্ত করতে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে মস্কো।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading