তরুণদের স্বাস্থ্য উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে: ডা. জোবাইদা
উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই, ২০২৬, আপডেট ১৩:৩৫
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিনী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জোবাইদা রহমান বলেছেন, দেশের স্বাস্থ্যখাতের বিদ্যমান ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণদের স্বাস্থ্য উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তরুণদের প্রশিক্ষণ, মেন্টরশিপ ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা দিয়ে তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তবে রূপ দিতে হবে, যেন তারা দেশের স্বাস্থ্যখাতের সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাজধানীর পাঁচতারকা হোটেল আমারিতে আয়োজিত স্বাস্থ্যসংক্রান্ত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. জোবাইদা বলেন, ‘স্বাস্থ্য উদ্যোক্তা হওয়া মানে কোম্পানি শুরু করা বা স্বাস্থ্যসেবাকে বাণিজ্যিকীকরণ করা নয়। এটি হলো বাস্তব স্বাস্থ্য সমস্যা সমাধানের জন্য সৃজনশীলতা, প্রমাণ এবং শৃঙ্খলার কাজে ব্যবহার করা। একইসঙ্গে বিভিন্ন ঘাটতি চিহ্নিত করে বাস্তবসম্মত সমাধান তৈরি করা। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের একটি বিশেষ সুযোগ রয়েছে। কারণ তরুণদের একটি বিশাল প্রজন্ম রয়েছে- যাদের শক্তি, ডিজিটাল সাবলীলতা, কল্পনাশক্তি এবং সামাজিক উদ্দেশ্যের বোধ আমাদের অন্যতম জাতীয় সম্পদ।’
তিনি বলেন, ‘আমরা তরুণদের প্রশিক্ষণ ও মেন্টরশিপের সুযোগ দিতে পারি, যেন তারা নিজেদের ধারণাগুলোকে বাস্তবে রূপান্তর করতে পারে। এজন্য তাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থা, গবেষক, সামাজিক ও বেসরকারি খাতের উদ্ভাবক, বিনিয়োগকারী এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এমন পরিবেশ তৈরি করতে পারে, যেখানে শিক্ষার্থীরা কাজের মাধ্যমে শিখবে এবং শিক্ষকরা বিভিন্ন ডিসিপ্লিনে সমন্বিতভাবে কাজ করবেন। তাই সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা ও উদ্ভাবনী পদক্ষেপ নিতে নতুন প্রজন্মকে তৈরি করতে হবে।’
অসুস্থতাকে দারিদ্রতার কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি স্বাস্থ্য কোনো বিশেষ সুবিধা নয়। এটি একটি মৌলিক অধিকার। তবে বছরের পর বছর ধরে অবহেলা ও জবাবদিহিতার অভাব ছিল দেশের স্বাস্থ্যখাত। এ কারণে মানুষকে স্বাস্থ্য ব্যয়ের ৭২ শতাংশই নিজেদের পকেট থেকে দিতে হচ্ছে। ফলে অসুস্থতা দারিদ্র্যের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে আমরা সবার জন্যই স্বাস্থ্য নিশ্চিতের প্রচেষ্টা চালাচ্ছি। ঘরে ঘরে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের অন্যতম লক্ষ্য।
জোবইদা রহমান বলেন, ‘নানা কারণে আমরা দারিদ্র্য, দুর্যোগ, রোগবালাই, বাস্তুচ্যুতি এবং নিপীড়নের মুখোমুখি হয়েছি। এরপরও সাহসিকতার সঙ্গে এসব মোকাবিলা করেছে দেশের মানুষ। তবে বর্তমান সরকার রোগ প্রতিরোধ এবং স্বাস্থ্য সচেতনতার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। আর এ লক্ষ্যে গ্রামে গ্রামে, বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রাথমিকভাবে ডায়রিয়া, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, অপুষ্টি এবং অন্যান্য সমস্যাগুলো চিহ্নিত করার দিকে মনোনিবেশ করছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে স্বাস্থ্যগত নতুন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ। অসংক্রামক রোগ বাড়ছে, জনসংখ্যা বার্ধক্যের দিকে যাচ্ছে, জলবায়ু পরিবর্তন নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে এবং নগরায়ন মানুষের জীবনযাপন, কাজ ও স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের ধরন বদলে দিচ্ছে। এসব চ্যালেঞ্জ কোনো একক প্রতিষ্ঠান বা খাতের পক্ষে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। এর জন্য নতুন চিন্তা ও নতুন অংশীদারিত্ব প্রয়োজন।’
অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এসএম জিয়াউদ্দিন হায়দারসহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ইউডি/রেজা

