বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশে পৌঁছাতে পারে: আইএমএফ

বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশে পৌঁছাতে পারে: আইএমএফ

উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই, ২০২৬, আপডেট ০৯:০০

বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি আগামী বছর ৩ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। যদিও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি হিসেবে রয়ে গেছে, তবু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার ও প্রযুক্তিখাতের বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধিকে সহায়তা করবে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

বুধবার (৮ জুলাই) প্রকাশিত আইএমএফের ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক (জুলাই ২০২৬ আপডেট)’-এ বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে তা বেড়ে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ হতে পারে। এপ্রিলে প্রকাশিত পূর্বাভাসের তুলনায় এবার বড় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক বাণিজ্য, জ্বালানি বাজার ও সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ অব্যাহত রয়েছে। তবে এআইভিত্তিক প্রযুক্তির প্রসার এবং প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ বাড়ায় অর্থনীতির কিছু খাতে নতুন গতি তৈরি হয়েছে, যা যুদ্ধজনিত নেতিবাচক প্রভাব আংশিকভাবে প্রশমিত করছে।

আইএমএফের মতে, যুদ্ধের প্রভাব সব দেশের ক্ষেত্রে একরকম নয়। যেসব দেশ বৈশ্বিক প্রযুক্তি মূল্যশৃঙ্খলের সঙ্গে যুক্ত, তারা তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে রয়েছে। একই সঙ্গে সংঘাতের বাইরে থাকা জ্বালানি রপ্তানিকারক দেশগুলোও অনুকূল বাজার পরিস্থিতির সুবিধা পাচ্ছে। বিপরীতে, জ্বালানি আমদানিনির্ভর এবং প্রযুক্তি খাতে সীমিত অংশগ্রহণ থাকা অনেক উন্নয়নশীল ও নিম্ন আয়ের দেশের অর্থনীতি বাড়তি চাপের মুখে পড়ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতিও আগামী বছর বাড়তে পারে। ২০২৫ সালে যেখানে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ৪ দশমিক ১ শতাংশ ছিল, ২০২৬ সালে তা বেড়ে ৪ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। তবে ২০২৭ সালে এটি আবার কমে ৩ দশমিক ৯ শতাংশে নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

আইএমএফ সতর্ক করেছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরো বিস্তৃত হলে জ্বালানি ও পণ্যের দামে নতুন অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। এতে সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি ও বৈশ্বিক আর্থিক ঝুঁকি আরো বাড়তে পারে।

তবে ইতিবাচক সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেছে সংস্থাটি। তাদের মতে, জ্বালানি বাজার দ্রুত স্থিতিশীল হওয়া, প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সহযোগিতা জোরদার এবং কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়িত হলে বৈশ্বিক অর্থনীতি প্রত্যাশার চেয়েও ভালো করতে পারে।

দেশভিত্তিক পূর্বাভাসে দেখা গেছে, ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বেড়ে ২ দশমিক ৩ শতাংশ হতে পারে, যা ২০২৫ সালে ছিল ২ দশমিক ১ শতাংশ। অন্যদিকে চীনের প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ভারতের প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৪ শতাংশে কিছুটা শ্লথ হতে পারে বলে ধারণা করছে আইএমএফ।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading