অতিবৃষ্টিতে বাউফলে পানের বরজ ধস, দিশেহারা চাষিরা
উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই, ২০২৬, আপডেট ২২:১
টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে পানের বরজ ধসে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন পানচাষিরা। বুধবার (৯ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, অতিবৃষ্টির কারণে একের পর এক পানের বরজ ভেঙে পড়েছে। এতে মোট প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক বেলায়েত খান (৭০) জানান, জীবনের সব সঞ্চয় পানের বরজে বিনিয়োগ করেছিলেন। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে বরজ ধসে পড়ায় তার প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমার সম্বল শেষ হয়ে গেছে। এখন কীভাবে আবার বরজ তুলব, তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। যা ছিল, সবই বরজের পেছনে খরচ করেছি।”
আরেক কৃষক মো. জাকির হোসেন গাজী (৫০) জানান, তার ছয় সদস্যের সংসার ও তিন সন্তানের লেখাপড়ার খরচ পুরোপুরি পানের বরজের আয়ের ওপর নির্ভরশীল। বরজ তৈরির জন্য ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। কিন্তু বরজ ধসে পড়ায় তার প্রায় ৬ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
তিনি বলেন, “সবকিছুই এই বরজের আয়ের ওপর চলত। এখন সব শেষ হয়ে গেছে। সরকারের সহযোগিতা এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের সহায়তা পেলে আবার নতুন করে শুরু করার চেষ্টা করব।”
ক্ষতিগ্রস্ত আরেক কৃষক জাহাঙ্গীর হোসেন কালাই (৪০) বলেন, ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে পানের বরজ করেছিলেন। তার ছয় সদস্যের পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস ছিল এই বরজ। টানা বৃষ্টিতে বরজ ধসে তার ৬ থেকে ৭ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
তিনি বলেন, “এখন আমি পথে বসে গেছি। ব্যাংকের কিস্তি, সংসারের খরচ ও সন্তানদের লেখাপড়া কীভাবে চালাব, বুঝতে পারছি না।”
স্থানীয় পানচাষিদের দাবি, দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করে সরকারি আর্থিক সহায়তা, কৃষি পুনর্বাসন এবং সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা হোক, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারেন।
ইউডি/রেজা/রুবেল

