বেনাপোলে ৩৬৭৫ কেজি ভায়াগ্রা জব্দ, পাচার শঙ্কায় নিরাপত্তা জোরদার

বেনাপোলে ৩৬৭৫ কেজি ভায়াগ্রা জব্দ, পাচার শঙ্কায় নিরাপত্তা জোরদার

উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬, আপডেট ১২:২৩

মিথ্যা ঘোষণায় ইন্ডিয়া থেকে আমদানি করা প্রায় ৩৬৭৫ কেজি ভায়াগ্রার একটি চালান জব্দ করেছে বেনাপোল কাস্টমস। জব্দ করা এসব চালান বন্দর পণ্যগার থেকে অবৈধভাবে পাচারের আশঙ্কায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা জোরদারের অনুরোধ জানিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বন্দর কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট পণ্যগারে ২৪ ঘণ্টার অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, জব্দ করা চালানটি বন্দরের ৩২ নম্বর পণ্যগারে।

বন্দর ব্যবহারকারীরা বলছেন, গত মাসে প্রায় ১৫ কোটি টাকার আমদানি পণ্য পাচারের অভিযোগে কাস্টমস, বন্দর, নিরাপত্তাকর্মী, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও আমদানিকারকসহ ৫৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার পর থেকেই বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাব ও অসাধু যোগসাজশের মাধ্যমে বন্দর ও কাস্টমসের পণ্যগার থেকে বিভিন্ন পণ্য পাচার হয়ে আসছে।

এদিকে সম্প্রতি কাস্টমসের কাছে গোয়েন্দা তথ্য আসে যে, মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা ভায়াগ্রার চালানও বন্দর পণ্যগার থেকে অবৈধভাবে বের করে নেওয়ার চেষ্টা হতে পারে। এরপর কাস্টমস কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা জোরদারের জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয়। বর্তমানে আনসার, বেসরকারি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান আল-আরাফা এবং বন্দরের গোয়েন্দা সদস্যরা সার্বক্ষণিক অতিরিক্ত পাহারায় নিয়োজিত রয়েছেন। অত্যাধুনিক স্ক্যানিং মেশিন থাকা সত্ত্বেও মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে বিভিন্ন সময় মাদক ও নিষিদ্ধ পণ্য আমদানির চেষ্টা হচ্ছে।

তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ আমদানিকারক আরাফাত এন্টারপ্রাইজ কোয়ার্টজ পাউডার ঘোষণা দিয়ে ই থেকে ১৬ টন পণ্য আমদানি করে। চালানটি খালাসের দায়িত্বে ছিল হায়দার অ্যান্ড সন্স নামের একটি সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান। সন্দেহের ভিত্তিতে ল্যাব পরীক্ষায় চালানটিতে ১৩ ধরনের রাসায়নিক পাওয়া যায়, যার মধ্যে ৩ হাজার ৬৭৫ কেজি ভায়াগ্রা ছিল।

এর আগে ২০১৯ সালের ২৬ মে বায়েজিদ এন্টারপ্রাইজ সোডিয়াম গ্লাইকুলেট ঘোষণা দিয়ে ১০০ ড্রামে ২ হাজার ৭০০ কেজি পাউডার জাতীয় রাসায়নিক আমদানি করে। চালানটি ছাড় করার দায়িত্বে ছিল শাহিনিং শিপিং সার্ভিসেজ। পরীক্ষায় সেটিও ভায়াগ্রা হিসেবে শনাক্ত হয়। পণ্যটি বন্দরের ৩৪ নাম্বার শেডে রাখা হয়েছে।

বেনাপোল আমদানি-রপ্তানি সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, এ ধরনের মাদকদ্রব্য দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করলে লাখো তরুণ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি সহযোগীদেরও চিহ্নিত করতে হবে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী রহমত বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে সাধারণ ব্যবসায়ীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এ কারণে অনেকেই বেনাপোল বন্দর দিয়ে ব্যবসা কমিয়ে দিয়েছেন বা বন্ধ করে দিয়েছেন।

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার অটল গোস্বামী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জব্দকৃত ভায়াগ্রা অবৈধভাবে সরিয়ে নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে গত ১ জুলাই বন্দর কর্তৃপক্ষকে নিরাপত্তা জোরদারের জন্য চিঠি দেওয়া হয়।

বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) শামিম হোসেন বলেন, কাস্টমসের চিঠি পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট পণ্যগারগুলোতে ২৪ ঘণ্টার অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আনসার, বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মী ও বন্দরের গোয়েন্দা সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া আরও একটি শেডেও ভায়াগ্রা সন্দেহে একটি চালান দির্ঘদিন ধরে পড়ে রয়েছে। সেখানেও নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading