রেকর্ড পেনাল্টি মিসের পর মেসির ওপর কি আস্থা হারাচ্ছেন কোচ?

রেকর্ড পেনাল্টি মিসের পর মেসির ওপর কি আস্থা হারাচ্ছেন কোচ?

উত্তরদক্ষিণ। শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, আপডেট ১৮:৩০

মিশরের বিপক্ষে গোল খাওয়ার কিছুক্ষণ পর আর্জেন্টিনাকে সমতায় রাখার সুযোগ পেয়েছিলেন লিওনেল মেসি। কিন্তু তার দুর্বল শট সহজেই রুখে দেন মিশরীয় গোলকিপার মোস্তফা শোবেইর। তাতে এক বিশ্বকাপে দুটি পেনাল্টি মিস করার অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড গড়েন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক।

চলতি বিশ্বকাপে এর আগে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন মেসি। গোলবারের পাশ দিয়ে উড়িয়ে মারেন। বিশ্বকাপে নেওয়া মোট ৮টি পেনাল্টির মধ্যে ৪টিই মিস করেছেন মেসি। বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি আটটি পেনাল্টি নিয়ে রেকর্ড চতুর্থবার মিস করেন মেসি। এর মধ্যে চারটি গোল করেছেন তিনি, তিনটি গোলকিপার সেভ করেছেন এবং অন্যটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় গোলবারের পাশ দিয়ে মারার কারণে।

পেনাল্টি মিসের বিশ্ব রেকর্ড হয়ে গেল। তার এই ব্যর্থতায় কি মেসির ওপর আস্থা হারালেন কোচ লিওনেল স্কালোনি? সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচের আগের সংবাদ সম্মেলনে আর্জেন্টিনা কোচ নিজের অবস্থান জানালেন, ‘সবার আগে, লিও পেনাল্টি নেবে, সে যদি চায়। পেনাল্টি নেওয়ার মতো সামর্থ্য আমাদের অন্য খেলোয়াড়দেরও আছে। কিন্তু সে যদি নিতে চায়, নেবে।’

স্কালোনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, মেসির লিগ্যাসি ও সাম্প্রতিক দুর্দান্ত ফর্ম তাকে এই বিষয়ে নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার দিয়েছে। তিনি আবারও আশ্বস্ত করলেন, সুযোগ তৈরির জন্য স্বাধীনভাবে পজিশন পাল্টানোর ক্ষমতা আছে ৩৯ বছর বয়সী ফরোয়ার্ডের।

স্কালোনি বললেন, ‘সত্যি কথা হলো, আজকাল সে সাধারণত আরও বেশি মাঝমাঠে খেলে। কিন্তু আমাদের পুরো দল এবং বিশেষ করে যারা তার আশেপাশে খেলে তাকে কেন্দ্র করেই খেলে। এটা স্বাভাবিক। খেলার স্বাভাবিক গতিধারার মধ্যেই এটা ঘটেছে। দল বুঝতে পেরেছিল যে সে ওই দিক থেকে বিপদ তৈরি করছে। সে বিপরীত দিকে এমন পাস খুঁজে নিতে পারছিল যেখানে সতীর্থরা পৌঁছাতে পারত। আমার মনে হয়, বিষয়টা খুব স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল।’

এই টুর্নামেন্টে মেসি ৪১০ মিনিট খেলে ১৫টি সুযোগ পেয়ে আটটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করেছেন। মিশরের বিপক্ষে প্রথম গোল বানিয়ে দেওয়ার পর নিজেও গোল করে দলকে সমতায় ফেরান। পেনাল্টিতে ভুগলেও তিনি গত দুটি বিশ্বকাপে ৩৬ সুযোগ তৈরি করে ১৫ গোল করেছেন এবং চারটি অ্যাসিস্ট। বয়স ৩৯ হলেও তার শরীরের ভাষায় কোনো পার্থক্য খুঁজে পাচ্ছেন না কোচ।

স্কালোনি বললেন, ‘লিও অনেক দৌড়াতে পারে, যেমনটা সে সবসময় পারে। এমন নয় যে সে বেশি বা কম দৌড়াচ্ছে। পার্থক্য হলো এখন তার সবকিছুই অনেক বেশি সুনিশ্চিত। হয়তো অনেককে এটা অবাক করছে, যারা তাকে চেনে না, যারা ভাবে ৩৯ বছর বয়সে সে এই পর্যায়ে পারফর্ম করতে পারবে না। আমি অনেকবার বলেছি: সে যতদিন খেলতে চাইবে, ততদিন সেরা ফর্মে থাকবে। আমি এটা বিশ্বাস করি। আমি কোচ বলে নয়। তার যতদিন আকাঙ্ক্ষা থাকবে, সে সেরা থাকবে।’

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading