এইচএসসি নিয়ে সিদ্ধান্ত আবহাওয়া দেখে: শিক্ষামন্ত্রী

এইচএসসি নিয়ে সিদ্ধান্ত আবহাওয়া দেখে: শিক্ষামন্ত্রী

উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, আপডেট ১৬:৫৫

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভারি বর্ষণের কারণে এইসএসসি ও সমমানের সোমবারের পরীক্ষা নেওয়া বা স্থগিত করা হবে কী না, সে বিষয়ে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে সরকার।

‎শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, জেলা প্রশাসক, শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করেই পরীক্ষা নেওয়া বা স্থগিতের সিদ্ধান্ত হবে।

‎রবিবার রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫-এর ফল প্রকাশের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এ কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, “ঢাকার বৃষ্টি পরিস্থিতি নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠক করেছেন। গতকাল (শনিবার) থেকেই ৬৪ জেলার ডিসি ও শিক্ষা বোর্ডগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কোথায় কী পরিস্থিতি রয়েছে, তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সর্বশেষ আবহাওয়ার পূর্বাভাস পাওয়ার পর আবারও বৈঠক করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

“‎কোন এলাকার পরীক্ষা স্থগিত করতে হলে তা পরবর্তীতে নেওয়ার ব্যবস্থাও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

এদিন এইচএসসি ও সমমানের কোন পরীক্ষা ছিল না। সোমবার পদার্থবিজ্ঞান, হিসাবিজ্ঞান, ও যুক্তিবিদ্যার প্রথম পত্রের পরীক্ষার সূচি রয়েছে। এরপর চলতি সপ্তাহে বুধ ও বৃহস্পতিবার পরপর দুদিন পরীক্ষার তারিখ পড়েছে।

এদিকে কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও বন্যার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি ও সমমানের সব পরীক্ষা ১৬ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।

চলতি বছর নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি পরীক্ষা অভিন্ন প্রশ্নপত্রে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত ২ জুলাই থেকে পরীক্ষা শুরু হয়েছে।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবর ‘গুজব’

‎প্রশ্নফাঁসের খবর নিতান্তই গুজব মন্ত্রী বলেন, “প্রকৃতপক্ষে কোন প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে না। টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন মাধ্যমে একটি চক্র ভুয়া প্রশ্নপত্রের নামে প্রতারণা করছে।”

‎সংবাদমাধ্যমকে এ বিষয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছে তিনি।

তিনি বলেন, “প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে—এমনভাবে সংবাদ প্রকাশ করলে প্রতারক চক্রই উৎসাহিত হয়। বরং স্পষ্টভাবে জানাতে হবে, প্রশ্নফাঁস হয়নি।”

‎প্রশ্নফাঁসের মত সাইবার অপরাধ দমনে আইন আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো তথ্য নজরদারিতে রাখা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।

‎পরীক্ষাকেন্দ্রে অনিয়মের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথাও বলেন শিক্ষামন্ত্রী।

তিনি বলেন, “ভোলার চরফ্যাশনের একটি কেন্দ্রের ঘটনায় মামলা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

“একইভাবে কুমিল্লায় শিক্ষক নিজের পরিবর্তে একজন শিক্ষার্থীকে দিয়ে উত্তরপত্র মূল্যায়নের ঘটনায় ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।”

‎পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় কোন ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না বলে সতর্ক করেন শিক্ষামন্ত্রী মিলন।

তার কথায়, প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিনুল হক, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমীন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসীসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading