চীনে আঘাত হেনেছে টাইফুন ‘বাভি’, ফিলিপিন্সে ভূমিধসে নিহত ১৭

চীনে আঘাত হেনেছে টাইফুন ‘বাভি’, ফিলিপিন্সে ভূমিধসে নিহত ১৭

উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, আপডেট ১৯:৫৫

চীনের পূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী টাইফুন বাভি আঘ্যাত হেনেছে। রবিবার ঝড়টি দুর্বল হয়ে পড়লেও প্রচণ্ড বৃষ্টি ও ঝড়ে হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে এর গতিপথে থাকা প্রায় ২০ লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

শনিবার স্থানীয় সময় রাত ১১টা ২০ মিনিটে টাইফুন বাভি চীনের উপকূলীয় শহর তাইজৌতে প্রথম আঘাত হানে। পরে মধ্যরাতের দিকে এটি ওয়েনঝৌ শহরে দ্বিতীয়বারের মতো স্থলভাগে প্রবেশ করে।

এর আগে ঝড়টি তাইওয়ান ও জাপানের প্রত্যন্ত দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপগুলোতে তাণ্ডব চালায়। এতে গাছপালা উপড়ে যায় এবং কয়েক হাজার মানুষ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। টাইফুনটি তাইওয়ানের উত্তরাঞ্চল ঘেঁষে অতিক্রম করার ফলে সেখানেও ভারি বৃষ্টিপাত হয়।

এর আগে ফিলিপিন্সে টাইফুন বাভির প্রভাবে সৃষ্ট ভূমিধসে অন্তত ১৭ জন নিহত হন। বর্তমানে বাভির শক্তি কিছুটা কমে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড়ে পরিণত হলেও, এতে থাকা বিপুল পরিমাণ জলীয়বাষ্পের কারণে ভারি বৃষ্টি ও বন্যার ঝুঁকি রয়েছে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঝড়টি ধীরে ধীরে দুর্বল হবে। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, রবিবার সকালে টাইফুনটির কেন্দ্র ঝেজিয়াং প্রদেশের হাংজৌ শহরে পৌঁছেছে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবার এটি আনহুই প্রদেশের পূর্বাঞ্চলে এবং মঙ্গলবার শানডং উপদ্বীপ হয়ে উত্তর পীত সাগরের দিকে অগ্রসর হবে।

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, শুধু ঝেজিয়াং প্রদেশ থেকেই ১৭ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পাশের প্রদেশগুলো থেকেও হাজার হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ঝুঁকি থাকার কারণে ঝেজিয়াংয়ে স্কুল, কার্যালয় ও আউটডোর সব কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ৪০০টির বেশি ফ্লাইট এবং ডজনখানেক ট্রেন চলাচল বাতিল করা হয়েছে।

প্রায় এক কোটি মানুষের শহর ওয়েনঝৌ টাইফুনের গতিপথের কাছাকাছি হওয়ায় সেখান থেকেও শতসহস্র বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ওয়েনঝৌর এক বাসিন্দা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, “আমরা ছাদের টালি আর গাছের ডালপালা ভেঙে পড়ার শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম। ফলে আমরা খুব ভয় পেয়েছিলাম।”

চীনের রাজধানী বেইজিং থেকেও প্রায় এক লাখ মানুষকে ঝুঁকি এড়াতে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ এরই মধ্যে দেওয়া হয়েছে।

টাইফুন বাভি প্রথমে ‘সুপার টাইফুন’ -এ পরিণত হয়েছিল। গত সোমবার এটি গুয়াম ও উত্তর মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জে ঘণ্টায় ২৯০ কিলোমিটার বেগে আঘাত হানে।

পরে প্রশান্ত মহাসাগর অতিক্রম করার সময় এর গতি কমে ১৪৪ কিলোমিটার হয়। পরে এটি জাপানের সাকিশিমা দ্বীপপুঞ্জে আঘাত হানে। সেখানে অন্তত পাঁচজন আহত হন এবং হাজার হাজার মানুষ বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

তাইওয়ানে বাভি সরাসরি আঘাত না হানলেও ভারি বৃষ্টির কারণে হাজার হাজার মানুষকে বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে যেতে হয়েছে। ভূমিধসেরও আশঙ্কা দেখা দেয়। তবে জাপান ও তাইওয়ানে এখন পর্যন্ত কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading