বিশ্ববাজারে চার সপ্তাহের সর্বোচ্চে জ্বালানি তেলের দাম
উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬, আপডেট ১১:৪৫
আমেরিকা ইরানের ওপর পুনরায় নৌ অবরোধ আরোপ এবং হরমুজ প্রণালীতে দুই দেশের হামলা-পাল্টা হামলা জোরদার হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ২ শতাংশ বেড়ে চার সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বাজারে দাম আরও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ৬৮ ডলার বা ২ শতাংশ বেড়ে ৮৪ দশমিক ৯৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে আমেরিকার ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ১ দশমিক ৬৫ ডলার বা ২ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৯ দশমিক ৭৯ ডলারে পৌঁছেছে।
এর আগের লেনদেনেও ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৯ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছিল, যা ২০২০ সালের মে মাসের পর একদিনে সর্বোচ্চ বৃদ্ধি। ১৭ জুন আমেরিকা ও ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে একটি সমঝোতা স্মারক সই করার পর এটিই তেলের সর্বোচ্চ দাম।
গত সোমবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ওমানের জলসীমায় হরমুজ প্রণালীর দক্ষিণ লেনে দুটি ইরানি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে দেশটির দুটি তেলবাহী ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে একজন ভারতীয় নাবিক নিহত এবং আরও আটজন আহত হয়েছেন।
এদিকে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, আমেরিকা ইরানের জাহাজ চলাচলের ওপর নৌ অবরোধ পুনর্বহাল করেছে। হরমুজ প্রণালীতে যেসব দেশকে আমেরিকা সহায়তা দিচ্ছে, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমেরিকাকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, আমেরিকা অবরোধ পুনর্বহাল এবং এর জবাবে ইরানের পদক্ষেপ বাজারে নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে। যদিও পুরোপুরি অবরোধ সৃষ্টি হয়নি, তবে দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী অবস্থান জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতিকে অত্যন্ত অনিশ্চিত করে তুলেছে।
আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, তারা টানা তৃতীয় রাতের মতো ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে তেহরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ওয়াইজেসি জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভোরে বন্দর আব্বাসে সাতটি এবং কিশ দ্বীপে আরও দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
এদিকে ইয়েমেনের হুথি আন্দোলন সোমবার তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি বিমানবন্দরে বোমা হামলার জন্য সৌদি আরবকে দায়ী করে দেশটির দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
গাবেলি ফান্ডসের পোর্টফোলিও ম্যানেজার সাইমন ওং এক নোটে বলেন, হুথিরা যদি লোহিত সাগরে সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজে হামলা আরও বাড়ায়, তাহলে এই অঞ্চল থেকে তেল সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়তে পারে।
অন্যদিকে রয়টার্সের সোমবার প্রকাশিত এক প্রাথমিক জরিপে দেখা গেছে, গত সপ্তাহে আমেরিকার অপরিশোধিত তেলের মজুত কমে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে একই সময়ে গ্যাসোলিন ও ডিসটিলেট জ্বালানির মজুত বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইউডি/কেএস

