নারীরা স্বামী বা প্রেমিককে বারবার ফেসবুকে ব্লক করে কেন?
উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, আপডেট ০৮:৪০
বর্তমানে অনেক নারীই স্বামী বা প্রেমিকের সঙ্গে ঝগড়া হলে তাকে ফেসবুকে ব্লক করে দেন। রাগ কমার ওপর নির্ভর করে করে কয়েক ঘণ্টা, কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহ পরে আবার আনব্লকও করেন। পরবর্তীতে নতুন করে ঝগড়া হলে ফের একই কাজ করেন। কিন্তু কেন?
রাগ হলে বারবার ফেসবুকে ব্লক করা কি সম্পর্ক শেষ করার ইঙ্গিত, না কি এটি ভালোবাসার সম্পর্কের মধ্যেই লুকিয়ে থাকা এক ধরনের আবেগের প্রকাশ? চলুন জানা যাক-
রাগ প্রকাশের অন্যতম সহজ উপায়
মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, রাগের সময় মানুষ এমন কিছু করতে চান, যা সঙ্গে সঙ্গে নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকে। ফেসবুকের ব্লক অপশনটি এক্ষেত্রে মনের মতো কাজ করে। এক ক্লিকেই অপছন্দের মানুষটিকে নিজের ডিজিটাল জগৎ থেকে সরিয়ে দেওয়া যায়। অনেক নারীর কাছে এটি মুহূর্তের রাগ প্রকাশের একটি সহজ উপায়।
‘আমি কষ্ট পেয়েছি’— এই বার্তাটি পৌঁছে দেওয়া
সব মানুষ নিজের কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করতে পারেন না। অনেক নারী মনে করেন, বারবার বোঝানোর পরও যদি সঙ্গী যদি অনুভূতির মূল্য না দেন, তাহলে ব্লক করাই সবচেয়ে জোরালো বার্তা। তাদের কাছে এটি এক ধরনের নীরব প্রতিবাদ। যেন ব্লকের মাধ্যমে প্রিয় পুরুষটিকে তিনি বলতে চান- ‘তুমি আমাকে এতটাই কষ্ট দিয়েছ যে, এখন তোমাকে দেখতে বা তোমার সঙ্গে কথা বলতে চাই না।’
নিজের মানসিক শান্তি খোঁজা
ঝগড়ার পর ফেসবুকে ঢুকলে যদি বারবার সঙ্গীর অনলাইন স্ট্যাটাস, ছবি, পোস্ট বা কমেন্ট চোখে পড়ে, তাহলে রাগ বা কষ্ট আরও বেড়ে যেতে পারে। তাই অনেক নারী সাময়িকভাবে ব্লক করে নিজের মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করেন। এটি সম্পর্ক ভাঙার সিদ্ধান্ত নয়, বরং নিজের আবেগকে কিছুটা শান্ত করার একটি উপায়।
মনোযোগ ও গুরুত্ব পাওয়ার প্রত্যাশা
যেকোনো সম্পর্কে প্রত্যেক মানুষই চান তার অনুভূতির মূল্য দেওয়া হোক। কখনো কখনো ব্লক করার পেছনে এই প্রত্যাশাও কাজ করে যে, সঙ্গী হয়তো এবার বিষয়টি গুরুত্ব দেবেন, যোগাযোগের চেষ্টা করবেন বা নিজের ভুল বুঝতে পারবেন। যদিও বিশেষজ্ঞদের মতে এমনটা যদি বারবার অভ্যাসে পরিণত হয়, তাহলে তা সুস্থ যোগাযোগে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
রাগ কমানোর মাধ্যম
শুনতে অবাক লাগলেও, অনেক নারী সম্পর্ক ভাঙার জন্য নয়, বরং সম্পর্কটিকে গুরুত্ব দেওয়ার কারণেই ব্লক করেন। তারা চান কিছুটা সময় নিয়ে নিজের রাগ কমাতে, যেন পরে ঠান্ডা মাথায় কথা বলা যায়। অর্থাৎ, ব্লক অনেক সময় স্থায়ী বিচ্ছেদের নয়, সাময়িক দূরত্বের প্রতীক।
সব নারীর আচরণ এক নয়
সব স্ত্রী বা প্রেমিকা কিন্তু এমন কাজ করেন না। কেউ রাগ হলে কথা বলা বন্ধ করেন, কেউ দূরে সরে যান, কেউ আবার সরাসরি সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করেন। ব্লক করা নারীর স্বভাবগত বৈশিষ্ট্য নয়। এটি একজন নারীর ব্যক্তিত্ব, আবেগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা, সম্পর্কের অভিজ্ঞতা এবং যোগাযোগের ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।
বারবার ব্লক করা কি ভালো?
না। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিটি ঝগড়ার পর ব্লক করার অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। এতে বিশ্বাস কমে, ভুল বোঝাবুঝি বাড়ে এবং গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করার সুযোগ কমে যায়।
রাগের মুহূর্তে কিছু সময়ের জন্য দূরত্ব নেওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু সেই দূরত্ব যদি বারবার ব্লক-আনব্লকের মাধ্যমে প্রকাশ পায়, তাহলে সম্পর্কের নিরাপত্তাবোধ নষ্ট হতে পারে।
ভালোবাসার সম্পর্কে রাগ, অভিমান ও ঝগড়া থাকবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সম্পর্কের শক্তি নির্ভর করে সেই ঝগড়ার দুজন কীভাবে সামলে নেন তার ওপর। ফেসবুকের ব্লক বাটন হয়তো সাময়িক মানসিক স্বস্তি দেয়, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখতে আন্তরিক কথোপকথন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং একে অপরের অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়ার অভ্যাসের বিকল্প নেই।
ইউডি/কেএস

