পাকিস্তানে বৃষ্টি-বন্যায় শতাধিক মৃত্যু, পানির নিচে বিস্তীর্ণ এলাকা

পাকিস্তানে বৃষ্টি-বন্যায় শতাধিক মৃত্যু, পানির নিচে বিস্তীর্ণ এলাকা

উত্তরদক্ষিণ। সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, আপডেট ১৮:৫৩

পাকিস্তানে চলমান বর্ষার ভারী বৃষ্টি ও বন্যায় জুনের শেষ থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১০৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৩৪৪ জন। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শত শত ঘরবাড়ি। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিএমএ) জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে আরও ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে।

রবিবার এনডিএমএ জানায়, বর্ষা মৌসুম শুরুর পর থেকে বৃষ্টিজনিত বিভিন্ন দুর্ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা ১০৭ জনে পৌঁছেছে। সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে। সেখানে ৫৫ জন মারা গেছেন। পাঞ্জাব প্রদেশে মারা গেছেন ৩৬ জন।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহতদের বড় একটি অংশ মারা গেছেন ঘরবাড়ি ও ছাদ ধসে পড়ার ঘটনায়।

পাকিস্তানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর লাহোরে বন্যাকবলিত মানুষদের আশ্রয়ের জন্য অন্তত ১৭টি ত্রাণ শিবির চালু করেছে স্থানীয় প্রশাসন। পাঞ্জাবের লাহোর ও গুজরানওয়ালা বিভাগের প্রায় ৪০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে প্রাদেশিক সেচ বিভাগের এক কর্মকর্তা।

ওই কর্মকর্তা বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতি খুবই উদ্বেগজনক। বিস্তীর্ণ এলাকায় পানি জমে যাওয়ায় মনে হচ্ছে, এটি যেন একটি অভ্যন্তরীণ সাগরে পরিণত হয়েছে।”

পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ শরিফ জানিয়েছেন, প্রদেশজুড়ে জরুরি উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে। এসব দল বন্যার পানি অপসারণ ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের সহায়তায় কাজ করছে।

পাকিস্তান আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত বড় ধরনের বন্যা সৃষ্টিকারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই। তবে বুধবার থেকে ইসলামাবাদ, উত্তর পাঞ্জাব, পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর, খাইবার পাখতুনখোয়া ও গিলগিট-বালতিস্তানের নদীগুলোর উজানে নতুন করে বৃষ্টিপাত শুরু হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, পাঞ্জাবের রাভি নদীতে বর্তমানে মাঝারি মাত্রার বন্যা চলছে। তবে দেশটির বেশিরভাগ বড় নদী এখন স্বাভাবিক বা নিম্ন পানি প্রবাহের মধ্যে রয়েছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদক কামাল হায়দার জানিয়েছেন, কর্তৃপক্ষ নিচু এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার এবং নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

তিনি বলেন, চলতি বর্ষা মৌসুমে অল্প সময়ে প্রচণ্ড বৃষ্টিপাত ও মেঘভাঙা বৃষ্টির কারণে লাহোরসহ পাঞ্জাবের বিভিন্ন শহরে জলাবদ্ধতা ও বন্যা দেখা দিয়েছে। এখন সবার নজর বড় নদীগুলোর পরিস্থিতির দিকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানের অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে গড়ে ওঠা অপরিকল্পিত বসতি বন্যার ঝুঁকি বাড়িয়েছে।

এর আগে ২০২৫ সালে পাকিস্তানে ভয়াবহ বন্যায় ১ হাজার ৩৭ জন মানুষের মৃত্যু হয়। ওই সময় প্রায় ২০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হন এবং লাখ লাখ গবাদিপশু মারা যায়। ব্যাপক ক্ষতি হয় কৃষি ও ফসলের।

কামাল হায়দার বলেন, “বর্ষা মৌসুম এখনো শেষ হয়নি। এটি সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলতে পারে। তাই পরিস্থিতি নিয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।”

সূত্র: আল জাজিরা

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading