জাপানে ৭.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প,পর সুনামি সতর্কতা
উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, আপডেট ১৪:৫৭
জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় কিউশু দ্বীপে আঘাত হেনেছে ৭.১ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প। আজ মঙ্গলবার ভোরে কুমামোটো প্রশাসনিক অঞ্চলে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পে হাজার হাজার ঘরবাড়ি বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে এবং রেলসেবা বন্ধ হয়ে গেছে।
পর
ঘটনার পরপরই সংশ্লিষ্ট উপকূলীয় এলাকায় সুনামি ও আফটারশক সতর্কতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। খবর রয়টার্সের।
জাপান সরকার দক্ষিণাঞ্চলীয় কিউশু দ্বীপের কুমামোটো, নাগাসাকি, কাগোশিমা, ফুকুওকা, সাগা, ওইতা এবং মিয়াজাকি প্রশাসনিক অঞ্চলের জন্য জরুরি ভূমিকম্পের সতর্কতা জারি করেছে।
জাপান আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর ১ মিটার (৩.২৮ ফুট) উচ্চতার ঢেউ সৃষ্টির সম্ভাবনায় সুনামি সতর্কতাও জারি করা হয়েছে।
কিউশু ইলেকট্রিক পাওয়ার জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কারণে প্রায় ৪০ হাজার ঘরবাড়ি বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে রেলওয়ে প্রতিষ্ঠান ‘জেআর কিউশু’ তাদের উচ্চগতির বুলেট ট্রেনসহ সব রেলসেবা স্থগিত করার কথা জানিয়েছে।
তবে জাপানের পারমাণবিক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই এলাকার পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা যায়নি।
সোনি এবং বিশ্বের সর্ববৃহৎ কন্ট্রাক্ট চিপমেকার টিএসএমসি সহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের কারখানা এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের কাছাকাছি এলাকায় অবস্থিত।
সোনির একজন মুখপাত্র রয়টার্সকে জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি বর্তমান পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে। অন্যদিকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে টিএসএমসির পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জাপান সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ১০ বছর আগে কুমামোটোতে এক ভয়াবহ ভূমিকম্পে ২৭৫ জন নিহত এবং আরো ২ হাজার ৭৩৯ জন আহত হয়েছিলেন।
বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ হলো জাপান, যেখানে প্রতি পাঁচ মিনিটে অন্তত একটি করে ভূকম্পন অনুভূত হয়। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অববাহিকাকে ঘিরে থাকা আগ্নেয়গিরি ও সামুদ্রিক খাতের এলাকা ‘রিং অব ফায়ার’-এ অবস্থিত হওয়ায়, বিশ্বে ৬.০ বা তার বেশি মাত্রার ভূমিকম্পের প্রায় ২০ শতাংশই জাপানে ঘটে থাকে।
ইউডি/রেজা

