স্ত্রীর আবদার পূরণ করতে গিয়ে চোর সন্দেহে আটক স্বামী-স্ত্রী

স্ত্রীর আবদার পূরণ করতে গিয়ে চোর সন্দেহে আটক স্বামী-স্ত্রী

উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, আপডেট ১৯:৫৫

মধ্যরাতে স্ত্রী সুমাইয়া খাতুন এর আবদার পূরণ করতে নিজের পিকআপে নিয়ে বাইরে ঘুরতে বের হন রায়হান শেখ। এক ঘণ্টা বিভিন্ন স্থানে তারা ঘুরেও বেড়ান। হঠাৎ যান্ত্রিক সমস্যায় বিকল হয়ে যায় পিকআপটি।

স্থানীয়রা প্রথমে গরুচোর সন্দেহে এই দম্পতিকে আটক করে। তারপর খবর পেয়ে তাদের উদ্ধার করে থানায় নেয় পুলিশ।

জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সুনির্দিষ্ট কারণ দেখাতে না পারায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে জব্দ করা হয়েছে পিকআপটিও।

সোমবার (২৭ জুলাই) দিবাগত রাতে পাবনার ঈশ্বরদী পৌর শহরের উমিরপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়।

আটক দম্পতি হলেন, ঈশ্বরদী পৌর শহরের শহীদ আমিনপাড়া এলাকার মৃত ইউনুছ শেখের ছেলে রায়হান শেখ (২৫) এবং তার স্ত্রী সুমাইয়া খাতুন (১৮)।

আটক দম্পতির ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে সুমাইয়া তার স্বামী রায়হানের কাছে বাইরে ঘুরতে যাওয়ার বায়না ধরে। স্ত্রীর আবদার রাখতে নিজস্ব পিকআপ নিয়ে দুজন ঘুরতে বের হন। প্রায় এক ঘণ্টা ঘোরাঘুরির পর উমিরপুর এলাকায় পৌঁছালে পিকআপটি বিকল হয়ে যায়। তারা সেখানে গাড়ি মেরামতের চেষ্টা করছিলেন।

এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা ফজল মালিথা তাদের দেখতে পেয়ে প্রথমে গরুচোর সন্দেহ করেন। পরে তিনি আরও কয়েকজনকে ডাকলে স্থানীয়রা প্রায় দুই ঘণ্টা ওই দম্পতিকে আটকে রাখেন। দম্পতির দাবি, এ সময় কয়েকজন মিলে রায়হান শেখকে মারধরও করেন। পরে ভোর ৪টার দিকে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে ঈশ্বরদী আমবাগান পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দম্পতিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

ঈশ্বরদীর আমবাগান পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আফজাল হোসেন বলেন, গরুচোর সন্দেহে স্থানীয়রা স্বামী-স্ত্রীকে আটক করে পুলিশে খবর দিয়েছিল। ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে তারা গরুচোর নন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

তবে মধ্যরাতে ওই এলাকায় অবস্থানের সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে না পারায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। একইসঙ্গে ব্যবহৃত পিকআপটিও জব্দ করা হয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন রায়হান শেখকে মারধর করেছিল। তাকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

আমবাগান পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আফজাল হোসেন আরো জানান, এ ঘটনায় আটক হওয়া দম্পতির পক্ষে ও বিপক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading