তহবিল কমে যাওয়ায় বিশ্বে এইচআইভি পুনরুত্থানের ঝুঁকি বাড়ছে: ইউএনএইডস

তহবিল কমে যাওয়ায় বিশ্বে এইচআইভি পুনরুত্থানের ঝুঁকি বাড়ছে: ইউএনএইডস

উত্তরদক্ষিণ। বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, আপডেট ১০:০০

গত বছর বিশ্বব্যাপী তহবিল প্রায় এক-পঞ্চমাংশ কমে যাওয়ায় বিশ্বে এইচআইভি মহামারির পুনরুত্থানের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে এইডস প্রতিরোধবিষয়ক জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনএইডস।

ব্রাজিলে আন্তর্জাতিক এইডস সম্মেলনের উদ্বোধনের প্রাক্কালে ইউএনএইডস প্রকাশিত ৬০ পৃষ্ঠার এক প্রতিবেদনে এ সতর্কবার্তা দেয়া হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানায়।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার আগে আন্তর্জাতিক এইচআইভি তহবিলের ৭৫ শতাংশই আসত যুক্তরাষ্ট্র থেকে। ওই মাসেই তিনি এইচআইভি-সম্পর্কিত সব বিদেশি তহবিল সাময়িকভাবে স্থগিতের নির্দেশ দেন। তবে কয়েক দিন পর জীবনরক্ষাকারী এইচআইভি কর্মসূচি পুনরায় চালু করা হলেও অধিকাংশ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম সীমিত রাখা হয়।

ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক এইডস সম্মেলনের শুরুতে প্রকাশিত ইউএনএইডসের ৬০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গভীর রাজনৈতিক ও আর্থিক অস্থিরতার এক যুগে প্রবেশ করেছে, যা এইচআইভির বিরুদ্ধে কয়েক দশকের কষ্টার্জিত সাফল্যকে হুমকির মুখে ফেলেছে। নতুন করে অঙ্গীকার ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে বিশ্বে এইচআইভি মহামারির পুনরুত্থানের ঝুঁকি রয়েছে।”

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে বৈশ্বিক এইচআইভি তহবিল ১৮ শতাংশ কমে ৭ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসতে পারে, যা প্রায় দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর ফলে নতুন এইচআইভি সংক্রমণ এবং এইডস-সম্পর্কিত মৃত্যুকে ৩০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনার যে অগ্রগতি হয়েছে, তা উল্টে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এতে আরও বলা হয়েছে, এইচআইভি প্রতিরোধব্যবস্থার বর্তমান ভঙ্গুরতা অর্জিত সাফল্যগুলোকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে, যদি না বৈশ্বিক সংহতি পুনরুদ্ধার করা হয় এবং বিদ্যমান বৈষম্য দূর করা যায়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে এইডস নির্মূলের বৈশ্বিক লক্ষ্য এখন নির্ধারিত পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে। তহবিল হ্রাস এবং ইবোলার মতো অন্যান্য স্বাস্থ্যসংকট এ প্রচেষ্টাকে আরও বাধাগ্রস্ত করছে। গত বছর বিশ্বে প্রায় ১২ লাখ মানুষ নতুন করে এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়েছেন।

তবে এইচআইভি খাতে বিদেশি অর্থায়ন কমে যাওয়ার প্রভাব অনেক দেশে অভ্যন্তরীণ ব্যয় বৃদ্ধির মাধ্যমে আংশিকভাবে মোকাবিলা করা হয়েছে।

ইউএনএইডসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর ফলে গত বছর এইচআইভি খাতের মোট সম্পদে সামগ্রিকভাবে ৬ শতাংশ হ্রাস ঘটেছে।

তবে সব সরকার এ ঘাটতি পূরণে সক্ষম হয়নি। প্রতিরোধমূলক কর্মসূচিতে ব্যয়ের সবচেয়ে বড় কাটছাঁট হয়েছে সাব-সাহারান আফ্রিকার কয়েকটি দেশে, যেখানে বিশ্বব্যাপী নতুন এইচআইভি সংক্রমণের প্রায় অর্ধেক ঘটে।

ক্যামেরুন, নাইজেরিয়া ও জাম্বিয়ার জাতীয় তথ্য অনুযায়ী, প্রি-এক্সপোজার প্রোফাইলাক্সিস (PrEP) গ্রহণকারীর সংখ্যা ৫০ শতাংশেরও বেশি কমে গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “এইচআইভি তহবিলে বিঘ্ন ঘটায় প্রতিরোধ, পরীক্ষা ও চিকিৎসা কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে এইচআইভিতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানো সম্প্রদায়ভিত্তিক সেবাগুলো উল্লেখযোগ্যভাবে ব্যাহত হয়েছে।”

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading