আরাগচির বিতর্কিত মন্তব্য: ইরানি রাষ্ট্রদূতকে ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব

আরাগচির বিতর্কিত মন্তব্য: ইরানি রাষ্ট্রদূতকে ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব

উত্তরদক্ষিণ। বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, আপডেট ১৩:০৮

ভেনেজুয়েলা প্রসঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচির সাম্প্রতিক এক বেফাঁস মন্তব্যের পর ইরানি রাষ্ট্রদূতকে তলব করে কড়া বার্তা দিয়েছে কারাকাস। গতকাল মঙ্গলবার ভেনেজুয়েলায় ইরানি রাষ্ট্রদূত আলী চেগেনিকে তলব করেছিল দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

আরাগচির কোনো মন্তব্যের কারণে ইরানি রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়েছিল, সে সম্পর্কে ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে কিছু বলা হয়নি। তবে এএফপির অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে আমেরিকার সঙ্গে সঙ্গে আলোচনা এবং সমঝোতা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে আরাগচি বলেছিলেন, “ইরান ভেনেজুয়েলা নয় যে আমেরিকার সঙ্গে সমঝোতা করে চলবে।”

আলী চেগেনিকে তলবের পর এক বিবৃতিতে ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “ইরানের তরফ থেকে ভেনেজুয়েলার প্রতিষ্ঠান ও সরকার প্রসঙ্গে অবজ্ঞাপূর্ণ ও অসঙ্গত কথাবার্তার কারণে দেশটির রাষ্ট্রদূত আলী চেগেনিকে তলব করে নোট অব প্রটেস্ট প্রদান করা হয়েছে।”

উল্লেখ্য, ভেনেজুয়েলা এবং ইরান উভয়েই তেলসমৃদ্ধ দেশ। ১৯৯৯ সালে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হুগো শ্যাভেজের সময় থেকে কারাকাস এবং তেহরান পরস্পরের বিশ্বস্ত মিত্র এবং বাণিজ্য অংশীদারে উন্নীত হয়।

আমেরিকার প্রতি ব্যাপক বিরোধ মনোভাব থেকে দুই দেশের মিত্রতার সূত্রপাত হলেও গত ৩০ বছরে এই সম্পর্ক অনেক দৃঢ় হয়ে উঠেছে। জ্বালানি, খনিজ সম্পদ আহরণ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা প্রভৃতি খাতে গত ৩০ বছরে বেশ কিছু চুক্তি করেছে তেহরান ও কারাকাস।

২০২০ সালে যখন তীব্র অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছিল ভেনেজুয়েলা, সে সময় সহায়তা হিসেবে দেখটিতে ১৫ লাখ ব্যারেল গ্যাসোলিন পাঠিয়েছিল ইরান। সে সময় নিজেদের তেল পরিশোধন করার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থও ছিলো না কারাকাসের কাছে।

পরে ২০২৫ সালে আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার কারণে ভেনেজুয়েলা যখন টিকা কিনতে পারছিল না, সে সময় দেশটিতে ২০ লাখেরও বেশি পোলিও ও হেপাটাইটিস বি টিকা পাঠিয়েছিল তেহরান।

ভেনেজুয়েলার বামপন্থি প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সঙ্গে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শত্রুতা দীর্ঘদিনের। ২০২৫ সালে ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর শত্রুতা আরও বাড়ে এবং তার জেরেই গত ৩ জানুয়ারি কারাকাসে অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন থেকে অপহরণ করে আমেরিকায় নিয়ে যাওয়া হয় প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী ও ফার্স্টলেডি সিলিয়া ফ্লোরেসকে।

প্রেসিডেন্ট মাদুরো এবং তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে আমেরিকায় মাদক পাচার এবং সন্ত্রাসবাদে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে ট্রাম্প প্রশাসন। বর্তমানে তারা দুজনেই নিউইয়র্কের ফেডারেল কারাগারে বন্দি আছেন।

সূত্র: এএফপি, ফার্স্টপোস্ট

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading