গ্রেফতার না হলে আগামী সপ্তাহে আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন লতিফ সিদ্দিকী

গ্রেফতার না হলে আগামী সপ্তাহে আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন লতিফ সিদ্দিকী

উত্তরদক্ষিণ। বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, আপডেট ১৪:৫৯

ঢাকার শাহবাগ থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী আদালতে হাজিরা দিয়েছেন। এই মামলায় হাজিরা শেষে জানালেন, গ্রেফতার না হলে আগামি সপ্তাহের রবি বা সোমবার তিনি মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে ‘হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের’ মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করবেন।

বুধবার (২৯ জুলাই) শাহবাগ থানার ওই মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন জমার দিন ধার্য ছিল। লতিফ সিদ্দিকীসহ অপর আসামিরা আদালতে হাজির দেন। তবে শাহবাগ পুলিশ প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত আগামি ৭ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন জমার পরবর্তী দিন রেখেছেন বলে জানিয়েছেন লতিফ সিদ্দিকীর আইনজীবী গোলাম রাব্বানী।

হাজিরা শেষে আদালত থেকে বের হয়ে লতিফ সিদ্দিকী সাংবাদিকদের বলেন, শাহবাগ থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় অভিযুক্ত এ জন্য আজ আদালতে এসেছি। যে মামলায় আমি ২০২৫ সালে গ্রেফতার হয়েছিলাম। আজকে কিন্তু আমি একটা প্রয়োজনে এসেছি। আপনারা (সাংবাদিকেরা) জানেন কিনা জানি না, আমাকে আজকে সকাল বেলা জানানো হলো, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একটা মামলা হয়েছে। শাপলা চত্বরে হেফাজত ইসলামের সমাবেশের ওই মামলা। সেই মামলায় আমার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমি জানি, আজকে যদি আমি না আসি (আদালত) তাহলে মনে করা হবে আমি বোধহয় আত্মগোপনে চলে গেছি। আমি সাধারণত আত্মগোপন করি না। আমি সব সময় আত্মপ্রকাশ করতে চায়। সে জন্য আজকে এসেছি। এখন পুলিশ যদি আমাকে গ্রেফতার না করে তাহলে আগামী রবি বা সোমবার আদালতে গিয়ে নিজেকে সমর্পণ করবো। গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে, আমাকে যেতে হবে না। আর মধ্যে যদি পুলিশ ধরে নিয়ে যায় তাহলে তো ভিন্ন কথা। আমি কিন্তু এবার আর ২৮ তারিখের মধ্যে অপ্রস্তুত নই। তৈরি হয়ে আছি। আমার গাড়িতে ব্যাগ আছে, লেখালেখির জন্য খাতা-কলম আছে।

মুক্তিযুদ্ধ এবং ৭১ মঞ্চ নিয়েও কথা বলেন তিনি। তবে শেখ হাসিনাকে নিয়ে কিছু বলতে রাজি হননি লতিফ সিদ্দিকী।

এদিকে আদালতে সময় লতিফ সিদ্দিকী চকলেট নিয়ে আসেন। অনেককে হাসিমুখে চকলেট হাতে তুলে দেন।

মামলার বিবরণী অনুযায়ী, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার গভীর ষড়যন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি বন্ধের লক্ষ্যে গত ৫ অগাস্ট ‘মঞ্চ ৭১’ নামে একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে। এ সংগঠনের উদ্দেশ্য জাতির অর্জনকে মুছে ফেলার সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে বাংলাদেশের জনগনকে সঙ্গে নিয়ে আত্মত্যাগের প্রস্তুতি নেওয়া। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত ২৮ আগস্ট সকাল ১০টায় একটি গোল টেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সেগুনবাগিচার সকাল ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) অনুষ্ঠান শুরু হয়। এর মধ্যেই এক দল ব্যক্তি হট্টগোল করে স্লোগান দিয়ে সভাস্থলে ঢুকে পড়েন। একপর্যায়ে তারা অনুষ্ঠানস্থলের দরজা বন্ধ করে দেন। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কয়েকজনকে লাঞ্ছিতও করেন। হট্টগোলকারীরা গোলটেবিল আলোচনার ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন এবং আলোচনায় অংশ নেওয়াদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। একপর্যায়ে অতিথিদের অনেককেই বের করে দেওয়া হলেও আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী এবং অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমানকে অবরুদ্ধ করে রাখেন তারা। পরে পুলিশ এসে ১৬ জনকে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা করেন এসআই আমিরুল ইসলাম।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading