নেপালে ধর্মীয় সহিংসতায় নিহত ৩, কারফিউ

নেপালে ধর্মীয় সহিংসতায় নিহত ৩, কারফিউ

উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, আপডেট ১২:৪৮


বৃহস্পতিাবর (৩০ এপ্রিল) নেপালের সিরাহায় সংঘর্ষের জেরে একটি শপিং মল ভাঙচুর করা হলে সেখান থেকে ধোঁয়া ও আগুন উঠতে দেখা যায়

নেপালের দক্ষিণাঞ্চলে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সহিংস সংঘর্ষে তিনজন নিহত হওয়ার ঘটনায় দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আল-জাজিরা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মার্চ মাসে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর বালেন্দ্র শাহকে খুব একটা প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। তবে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া প্রথম বড় ভাষণে তিনি সেই নিরবতা ভাঙেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সরকারের পক্ষ থেকে আমি সব নাগরিক, সুশীল সমাজ, ধর্মীয় সম্প্রদায়, রাজনৈতিক দল এবং সংবাদমাধ্যমকে ধৈর্য ধারণের অনুরোধ জানাচ্ছি। আসুন আমরা সবাই মিলে অশান্তির মেঘ দূর করে শান্তি, সম্প্রীতি ও জাতীয় ঐক্য বজায় রাখি।”

প্রধানমন্ত্রী এ ঘটনার একটি ‘সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ’ তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে বলে আশ্বাস দেন।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইন্ডিয়ান সীমান্তের কাছে সুনসারি জেলার একটি গ্রামে রবিবার একটি হিন্দু শোভাযাত্রায় উচ্চশব্দে গান বাজানো এবং ধর্মীয় পতাকা টাঙানো নিয়ে হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে বাকবিতণ্ডার পর এই সহিংসতার সূত্রপাত হয়। পুলিশি মুখপাত্র অবী নারায়ণ কাফলে জানান, ভিড় ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ গুলি চালালে দুই ব্যক্তি নিহত হন। এছাড়া কারফিউ জারি থাকা সত্ত্বেও পাশের সিরাহা জেলায় একটি প্রতিবাদ চলাকালীন বৃহস্পতিবার তৃতীয় একজন ব্যক্তির মৃত্যু হয়।

সহিংসতা আরও ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে সুনসারি ও এর আশপাশের জেলাগুলোতে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করেছে প্রশাসন। স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে বিপুলসংখ্যক দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সংবাদ সংস্থা এএফপি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পুলিশ মুখপাত্র কাফলে বলেন, “মাঠে থাকা সব পুলিশ সদস্যকে উচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। ন্যূনতম শক্তি প্রয়োগ করে জনগণের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষা করা এবং যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানোই আমাদের মূল লক্ষ্য।”

নেপালের জনসংখ্যার প্রায় ৮০ শতাংশই হিন্দু ধর্মাবলম্বী, তবে ভারতের সীমান্তঘেঁষা দক্ষিণ অঞ্চলের জেলাগুলোতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মুসলিম জনগোষ্ঠী বসবাস করে।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading